kalerkantho


সেমিতে চট্ট. আবাহনী বিদায় মোহামেডানের

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সেমিতে চট্ট. আবাহনী বিদায় মোহামেডানের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ওলাদিপো আততায়ী হয়ে চ্যাম্পিয়নদের স্বপ্ন কেড়ে নিতে উদ্ধত হয়েছিলেন। তাঁর ‘ম্যাজিক্যাল টাচে’র পরও চট্টগ্রাম আবাহনী ফিরেছে চ্যাম্পিয়নের রূপ নিয়ে।

শেষ পর্যন্ত মানাং মার্সিয়াংদির সঙ্গে  ২-২ গোলে ড্র করে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠেছে তারা সেমিফাইনালে। দিনের অন্য ম্যাচে ঢাকা মোহামেডান দুর্দান্ত খেলে ২-১ গোলে শাহীন আজমাইকে হারিয়েও সুবিধা করতে পারেনি। মোহামেডান ও মানাং মার্সিয়াংদির সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট করে হলেও হেড টু হেড এবং গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় কপাল পুড়েছে সাদাকালোদের। রানার্স আপ হয়েছে মানাং মার্সিয়াংদি। আগামী ২৬ তারিখ নেপালের এই ক্লাব দলটি প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের। পরের দিন দ্বিতীয় সেমিফাইল স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে লড়বে কোরিয়ার পোচেন সিটিজেন এফসি।

নেপালি দলের বিপক্ষে ম্যাচটা যে এত কঠিন হবে তা ভাবেনি হয়তো স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধেই বিদেশি স্ট্রাইকার আফিজ ওলাদিপোর চমকে ২২ মিনিটে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় মানাং মার্সিয়াংদি ক্লাব। ২ গোলে পিছিয়ে পড়া কোনো দলের পক্ষে ম্যাচে ফেরা বড় কঠিন।

কিন্তু বিরতির পর সাইফুল বারীর শিষ্যরা দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে ম্যাচে ফেরার চ্যালেঞ্জ জেতে। ২-২ গোলে ম্যাচ ড্র করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা পৌঁছে যায় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের সেমিফাইনালে।

ম্যাচের শুরু থেকেই চট্টগ্রাম আবাহনীর ডিফেন্স ছিল এলেমেলো। ৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে পাঠানো স্যামসনের ক্রসে হেড করে অনিল গুড়ুং সাজিয়ে দিয়েছেন পোস্টের সামনে। সেটি অনায়েসে হেড করে ওলাদিপো স্বাগতিকদের জালে পাঠিয়ে এগিয়ে নেন নেপালি দলকে। অথচ এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকারকে নাকি কড়া প্রহরায় রাখার কথা ছিল। প্রথম গোলে এই পরিকল্পনার কিছু দেখা না গেলেও ২২ মিনিটে অবশ্য তাঁর গায়ে গায়ে লেগে ছিলেন নাসির চৌধুরী। তাতেই বা কী লাভ হলো! থ্রু বলটা আয়ত্তে নিয়ে ওলাদিপো ওই ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে চমত্কার ফিনিশ করে স্বাগতিকদের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেওয়ার আয়োজন প্রায় সম্পন্ন করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু চট্টগ্রামের মাঠে স্থানীয় আবাহনীর যাত্রাভঙ্গ করে দেবে, এটাও তো হয় না। ‘লোকাল বয়’ নাসির উদ্দিন চৌধুরী ৩২ মিনিটে একটি গোল ফিরিয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন দলের জেগে ওঠার ঘোষণা দেন। মামুনুলের কর্নার কিকটি জামাল ভূঁইয়া পোস্টের সামনে তুলে দিলে নাসিরের হেড এমএমসির জালে জড়িয়ে যায় এবং ম্যাচে ফেরার পথে এক কদম এগোয় স্বাগতিকরা।

আবাহনীর সমস্যা হচ্ছিল দুই বিদেশিকে নিয়ে। অগাস্টিন ওয়ালসন ও কিংসলে প্রথম ম্যাচে তিন গোল উপহার দেওয়ার পর থেকেই কেমন যেন ছন্দহীন। ওই ম্যাচের পর অবশ্য তাঁদের চোখে চোখেই রাখছে প্রতিপক্ষ। বিরতির পর কিংসলের বদলী সোহেল রানায় আক্রমণের ধার বাড়ে। চাপে পড়ে প্রতিপক্ষ। তাতে বিরাজ মহাজনের মহা ভুল। ৬২ মিনিটে এই ডিফেন্ডার হাত দিয়ে ওয়ালসনের শট ঠেকিয়ে পেনাল্টির বিপদ ডেকে আনেন। ওয়ালসনের পেনাল্টি গোলে স্বস্তি ফেরে স্বাগতিকদের। তা যেন নষ্ট না হয় সে জন্য ডিফেন্সের শক্তি বাড়ান। তবে ৬৮ মিনিটে মুফতাল আউয়ালের শট ক্রসবারে না লাগলে জিততেও পারত চট্টগ্রাম আবাহনী।

দিনের অন্য ম্যাচে মোহামেডান দুর্দান্ত খেলে গাম্বিয়ান দাউদা সিসের জোড়া গোলে এগিয়ে গেলেও আজমাইর আমির শারিফি ফিরিয়ে দিয়েছেন একটি গোল।


মন্তব্য