kalerkantho


বড় দেরিতে জিতল আবাহনী

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বড় দেরিতে জিতল আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : টুর্নামেন্টের সেরা দুটি দল কাল নেমেছিল চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে। বিকেল ৪টার এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিল তৃতীয় পক্ষ ঢাকা আবাহনী, তাদের সংগত প্রত্যাশা ছিল টিসি স্পোর্টসের জয়। জিতলে ঢাকার জায়ান্টদের সেমিফাইনালের দুয়ার খোলা থাকে। কিন্তু শক্তিশালী পোচেন সিটিজেন এফসি তা মানবে কেন, প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও কোরিয়ার দলটি ম্যাচে ফিরে টিসি স্পোর্টসের সঙ্গে ১-১ গোলের ড্রয়ে খেলা শেষ করে আবাহনীর বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে। আর ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে নিজেরা ‘এ’ গ্রুপের রানার্স-আপ হয়ে উঠে গেছে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট। দুই সেমিফাইনালিস্ট চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় গ্রুপের শেষ ম্যাচটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা হয়ে দাঁড়ায়। এই ম্যাচে ঢাকা আবাহনী জয়ের স্বাদ পেয়েছে এফসি আলগাকে ২-১ গোলে হারিয়ে।   

এক ম্যাচ হাতে রেখেই টানা দুই জয়ে টিসি স্পোর্টস আগেই পৌঁছে গিয়েছিল সেমিফাইনালে। তাদের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব কম হলেও পোচেন সিটিজেন এফসির জন্য তা মহা গুরুত্বপূর্ণ। তেমনি দর্শক হয়ে থাকা ঢাকা আবাহনীর জন্যও। কারণ এই দুই দলের সেমিফাইনাল নির্ভর করছে ওই ম্যাচের ফলের ওপর।

সেমিফাইনালের অঙ্ক বাদ দিলেও সাধারণ দর্শকের কাছে এটি টুর্নামেন্টের সেরা দুটি দলের লড়াই। দুই দল খেলে দুই ধরনের ফুটবল। ছোট পাসে কোরিয়ান দলের বিল্ডআপ ফুটবল দেখতে চমতকার। মালদ্বীপের দলটি খেলে ডিরেক্ট ফুটবল, কাউন্টার অ্যাটাক-নির্ভর খেলা। শুরু থেকে পাসিং ফুটবল খেলে পোচেন এফসি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেও গোলরক্ষক কিরণ কুমারকে পরাস্ত করতে পারেনি। উল্টোদিকে টিসি স্পোর্টস হুমকি দিচ্ছিল দ্রুত গতিতে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে। বল পজেশনের চেয়ে বেশি ঝুঁকেছিল কার্যকরী ফুটবলের দিকে। তাতেই গোল পেয়ে যায় বিরতির আগে আগে। মাঝমাঠ থেকে পাঠানো দুর্দান্ত এক থ্রু বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে স্টুয়ার্ট পাশের দুই ডিফেন্ডারকে গতিতে পেছনে ফেলে অসাধারণ ফিনিশ করে এগিয়ে নেন মালদ্বীপের দলকে। পোচেন পিছিয়ে পড়েছে, শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে থাকলে সেমিফাইনাল গুলিয়ে যেতে পারে।

তাদের ম্যাচে ফেরার তাড়া আছে কিন্তু স্নায়ুচাপ নেই। বিরতির পরও একই রিদমে খেলে কয়েকটি সুযোগ নিজেরাই নষ্ট করেছেন। কয়েকটি সেভ করেছেন টিসির নেপালি গোলরক্ষক কিরণ কুমার। এর মধ্যে অবশ্য ৭১ মিনিটে কোরীয় গোলরক্ষকও দুর্দান্ত এক সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি। সেই ১-০ গোলেই পেছনে থাকে তারা এবং ৭৭ মিনিটে পার্ক জুং গোল করে সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে পোচেন সিটিজেন এফসিকে নিয়ে গেছেন সেমিফাইনালে। আর ১-১ গোলের এই ড্রয়ে আপাত সেরা হিসেবেও কোনো এক দলকে এগিয়ে রাখা যাচ্ছে না। ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার সামর্থ্য দুই দলেরই আছে।

আর ঢাকা আবাহনী শেষ ম্যাচ জিতে কেবল আফসোসই বাড়িয়েছে। আগের দুই ম্যাচে গোলের খাতাই খুলতে পারেনি লিগ চ্যাম্পিয়নরা। শুরু করেছিল টিসি স্পোর্টসের কাছে হার দিয়ে, দ্বিতীয় ম্যাচে পোচেন সিটিজেন এফসির বিপক্ষে দু-দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করে গোলশূন্য ড্র করেছে। এরপর কাল বিকেলের ম্যাচে গ্রুপের সেমিফাইনালিস্ট চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর নিয়ম রক্ষার ম্যাচে বিদায় নেওয়া ঢাকা আবাহনী ও এফসি আলগা মুখোমুখি হয় সন্ধ্যায়। ২৭ মিনিটে তারা গোলের দেখা পায়, তা-ও ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সালের চমতকার কর্নারের সৌজন্যে। পোস্টে লেগেই তা এফসি আলগার জালে ঢোকার সুবাদে ঢাকার জায়ান্টরা ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। তাদের সমস্যা গত মৌসুমের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অ্যান্ড্রু লি টাক ও সানডে চিজোবার অনুপস্থিতি। লি মালয়েশিয়ান লিগে চলে যাওয়ার হারিয়ে গেছে আবাহনীর মাঝমাঠের সৃষ্টিশীলতা। লিগের শেষদিকে ইনজুরিতে পড়া স্ট্রাইকার সানডে এখনো সেরে ওঠেননি। তাঁর জায়গায় শেখ জামালের এমেকা ডার্লিংটন যোগ হলেও তিন ম্যাচে গোলের নিশানা খুঁজে পাননি তিনি। তাও ভালো শেষ ম্যাচে ৪১ মিনিটে জোনাথন ডেভিড ফ্রি-কিকে দুর্দান্ত এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছেন। তবে ৭৬ মিনিটে কিরগিজস্তানের ইয়োনাসভ পেনাল্টিতে একটি ফিরিয়ে দিলে একটু চাপে পড়ে যায় আবাহনী। এর পরও বড় ব্যবধানে জয়ের সুযোগ ছিল, কিন্তু বদলি নাবিব নেওয়াজ আর মামুন মিয়ার মিসের মহড়ায় শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের সান্ত্বনার জয় নিয়ে আকাশি-নীলরা বিদায় নিয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে।


মন্তব্য