kalerkantho


নাঈমের ম্যাচ বাঁচানো সেঞ্চুরি

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : এই মৌসুমেই চার-চারটি সেঞ্চুরি তুষার ইমরানের এবং এর সবশেষটি আবার চলতি বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চতুর্থ রাউন্ডেই বিসিবি উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে। সেই সূত্রে বিকেএসপিতে ৫০১ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করানো প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল প্রতিপক্ষকে ফলোঅনও করায়। কিন্তু উত্তরাঞ্চলের যে আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা উইকেট আঁকড়ে পড়ে থাকতে জানা নাঈম ইসলাম আছেন। তুষারের মতো করছেন একের পর এক সেঞ্চুরিও। এই বিসিএলেই হয়ে গেল তিন-তিনটি। যার সবশেষটিতে ভর দিয়ে ফলোঅনে পড়া উত্তরাঞ্চল রীতিমতো ম্যাচও বাঁচিয়ে ফেলল। ২৪ রান নিয়ে ম্যাচের শেষ দিন শুরু করা নাঈম দিনের শেষেও অপরাজিত ১২৯ রানে। ৬১ রান নিয়ে আগের দিন শেষ করা ফরহাদ হোসেনেরও (১১৯) ম্যাচ বাঁচানোর ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা।

এই দুজন ব্যাট হাতে দলকে বাঁচালেন আর আরেকজন ফতুল্লায় শেষ দিনে বোলিং ঝলকে জেতালেন দলকে। আগের রাউন্ডে ১০ উইকেট ও সেঞ্চুরির দুর্দান্ত যুগলবন্দি সত্ত্বেও দলকে জেতাতে না পারা শুভাগত হোম এবার ম্যাচের শেষ দিনে অফস্পিনে ৪৬ রান খরচায় ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলকে এনে দিয়েছেন চলতি আসরের প্রথম জয়। ৪০০ রানের টার্গেট পাওয়া ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলকে তারা হারিয়েছে ২২৭ রানের বিশাল ব্যবধানেই।

পূর্বাঞ্চলের দুই ওপেনার লিটন কুমার দাশ (১০) ও ইমতিয়াজ হোসেন (১৯) আবারও দলকে ভালো শুরু দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর শুভাগত পর পর দুই ওভারে তুলে নিয়েছেন তরুণ জাকির হাসান (৭) ও ব্যাটিং নির্ভরতা মমিনুল হককে (১৯)। ৫৬ রানে ৪ উইকেট হারানো পূর্বাঞ্চলের পক্ষে তাই ম্যাচ বাঁচানো কঠিনই হয়ে যায়। অধিনায়ক অলক কাপালির ৭১ রানের ইনিংসটিও শেষ পর্যন্ত কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। এই ম্যাচের শেষ দিন ব্যাটসম্যানদের উইকেটে আসা-যাওয়ার মিছিল দেখলেও অন্য ম্যাচ দেখেছে প্রতিরোধ। আগের দিন জুটি বাঁধা ফরহাদ আর নাঈম ৪২.২ ওভারে যোগ করেন ১৩৬ রান। ফরহাদের বিদায়ের পরও দুই সেশন খেলা বাকি এবং ছোট্ট একটা ধসের পরও অবিচল নাঈম ১৭৯ বলে নিজের ২০তম ফার্স্ট ক্লাস সেঞ্চুরিতে তো পৌঁছেছেনই, সোয়া ৬ ঘণ্টা উইকেটে পার করে বাঁচিয়েছেন ম্যাচও। তাঁর আর ফরহাদের সেঞ্চুরিতে তাই দক্ষিণাঞ্চলের অফস্পিনার নাহিদুল ইসলামের কৃতিত্ব কিছুটা হলেও ম্লান হয়েছে। ম্যাচের দুই ইনিংসেই ৫টি করে উইকেট নিয়েছেন তিনি।      

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণাঞ্চল-উত্তরাঞ্চল

দক্ষিণাঞ্চল ৫০১।

উত্তরাঞ্চল ২৪২ ও ১৩৭ ওভারে ৪০৩/৮ (নাঈম ১২৯*, ফরহাদ ১১৯, জুনায়েদ ৪৬, ধীমান ৪১; নাহিদুল ৫/১৩০)।

ফল : ম্যাচ ড্র।

ম্যাচসেরা : তুষার ইমরান (দক্ষিণাঞ্চল)

মধ্যাঞ্চল-পূর্বাঞ্চল

মধ্যাঞ্চল ৩২৮ ও ৬৯.৩ ওভারে ২৮২/৭ ডিক্লেয়ার্ড।

পূর্বাঞ্চল ২১১ ও ৫৬.২ ওভারে ১৭২ (অলক ৭১; শুভাগত ৪/৪৬, শরীফ ২/১৯, তাইবুর ২/২৪, কামরুল ২/৪০)।

ফল : মধ্যাঞ্চল ২২৭ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : মোহাম্মদ শরীফ (মধ্যাঞ্চল)।


মন্তব্য