kalerkantho


অস্ট্রেলিয়াকে শাসন করতে চায় ভারত

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অস্ট্রেলিয়াকে শাসন করতে চায় ভারত

টানা ছয় সিরিজ জিতে টেস্ট র্যাংকিংয়ের মুকুট এখন ভারতের। আর অস্ট্রেলিয়া যেন নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে।

দেশের মাটিতে তারা নাস্তানাবুদ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। এরপর অবশ্য পাকিস্তানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে কিছুটা। সেটা সম্বল করেই আজ থেকে ভারতের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া চার টেস্টের সিরিজে ভালো করার প্রত্যয় স্টিভেন স্মিথের দলের। তবে পুরনো শত্রুদের এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড় দেবে না ভারত। সহ-অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে হুঙ্কারই ছাড়লেন রীতিমতো, ‘অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চালাবে, জানি আমরা। তবে মাঠে সবদিক থেকে শাসন করতে চাই ওদের। ’

বরাবরের আক্রমণাত্মক ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলিও বার্তা দিয়ে রাখলেন অস্ট্রেলিয়াকে, ‘ওদের অনেকেই আমার ভালো বন্ধু। তবে আমি জানি কোথায় বন্ধুত্বের রেখাটা টেনে ধরতে হয়। স্মিথ টেস্টের এক নম্বর ব্যাটসম্যান।

স্টার্ক পুরনো বলে রিভার্স সুইং করানোর জন্য ভয়ংকর। সিরিজ জিততে সেরাটাই খেলতে হবে আমাদের। ’ ২০১৩ সালে সবশেষ ভারতে খেলা সিরিজে ০-৪ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এর পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই চান না স্টিভেন স্মিথ, ‘মনে হয় না এমন কিছু হবে। এই দলের লড়াই করার মানসিকতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী আমি। ’ স্মিথ না মানলেও এবারও ভারত একই ব্যবধানে জিতবে বলে নিশ্চিত সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি, ‘অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ না করার কারণ দেখছি না। ’ সাবেক স্পিনার হরভজন সিংও অভয় দিচ্ছেন কোহলিদের, ‘গতবারের চেয়েও এই দলটা দুর্বল। ’

ঐতিহ্য বা উন্মাদনায় অ্যাশেজের মতো না হলেও ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের উত্তাপও কম নয়। ১৯৮১ সালে ব্যাটে বল লাগার পরও আম্পায়ার এলবিডাব্লিউ দিয়েছিলেন সুনীল গাভাস্কারকে। প্রতিবাদে ক্রিজের অন্য প্রান্তে থাকা চেতন চৌহানকে নিয়ে মাঠ ছাড়তে চেয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৯ সালের অ্যাডিলেড টেস্টে গ্লেন ম্যাকগ্রার একটি বল কাঁধে লাগার পর শচীন টেন্ডুলকারকে এলবিডাব্লিউ দেওয়া নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। এ ছাড়া টসের জন্য স্টিভ ওয়াহকে সৌরভের দাঁড় করিয়ে রাখা, ২০০৮ সালের ‘মাংকিগেট’ কেলেঙ্কারি কিংবা সিডনি টেস্টে বিরাট কোহলির ‘মধ্যমা’ দেখানো নিয়েও বিতর্ক হয়েছে যথেষ্ট। এবার তো সিরিজ শুরুর আগেই বিতর্ক। অ্যাডিলেডে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পুনেতে প্রথম টেস্ট! এমন সূচিতে বাধ্য হয়ে দুটি দল গড়তে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে, যা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নারসহ কয়েকজন।

ভারতের মাটিতে খেলা দুই দলের ৪৬ টেস্টে ভারত জিতেছে ১৯, অস্ট্রেলিয়া ১২, ড্র ৪ আর টাই ১টি। ভারতে মোট চারবার সিরিজ জিতেছে তারা। শেষবার ২০০৪-০৫ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের অধীনে সিরিজ জিতেছিল তারা। এর পর থেকে দাপট ভারতেরই। ২০১৩ সালের সবশেষ সফরে তো ০-৪ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশই হয় অস্ট্রেলিয়া। টানা ১৯ টেস্ট না হারা বিরাট কোহলির দল ফেভারিট এবারের চার ম্যাচের সিরিজেও।

পুনেতে প্রথম টেস্ট গড়ানোর আগে ভারতীয় ক্রিকেটাররা প্রেরণা নিচ্ছেন আবার রাহুল বোসের মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা ‘পূর্ণা’ থেকে। এরই জবাবে কিনা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা দেখে ফেললেন অস্কারের জন্য মনোনীত ‘লায়ন’ সিনেমাটা। অর্থাৎ কোথাও কেউ এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে রাজি নয়।

এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ানদের ভালো করা না-করা নির্ভর করছে রবিচন্দ্রন অশ্বিন আর রবীন্দ্র জাদেজাকে সামলানোর ওপর। স্টিভ ওয়াহ বলেই দিয়েছেন, ‘বোলিংয়ের ব্র্যাডম্যান অশ্বিন’। টানা চার সিরিজে ডাবল করে ডন ব্র্যাডম্যানের রেকর্ড ভেঙেছেন কোহলি। তাঁকে আটকাতে স্টিভ ওয়াহ, ম্যাথু হেইডেনরা পরামর্শ দিয়েছেন স্লেজিং না করার। তার পরও ভারতে পা রেখে স্লেজিংয়ের কথাই বলেছেন স্মিথ। অশ্বিন মানের স্পিনার না থাকলেও ভারতকে তারা ঘায়েল করতে চায় মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজেলউডের রিভার্স সুইং দিয়ে। অশ্বিনদের স্পিন আর স্টার্কদের রিভার্স সুইং সামলানোর ওপরই হয়তো নির্ভর করবে সিরিজের ভাগ্য। ক্রিকইনফো


মন্তব্য