kalerkantho


৮ গোলের থ্রিলারে নায়ক আগুয়েরো

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



৮ গোলের থ্রিলারে নায়ক আগুয়েরো

ইউরোপে গোলোত্সবের রাত ছিল পরশু। লেভারকুসেন ও ম্যানচেস্টারের দুই ম্যাচে গোল হয়েছে ১৪টি। লেভারকুসেনের মাঠে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের জয় ৪-২ গোলে। স্বাগতিকরা পুরো সময় তাড়া করে গেলেও একবারের জন্যও ম্যাচের নাটাই হারায়নি ডিয়েগো সিমিওনের দল। সে তুলনায় ম্যানচেস্টারে হয়েছে ৮ গোলের থ্রিলার। সের্হিয়ো আগুয়েরোর জোড়া গোলে মোনাকোর বিপক্ষে ৫-৩ এ জিতেছে সিটিজেনরা। কিন্তু কখনোই বলা যায়নি আসলে কারা জিততে যাচ্ছে। ম্যাচের নায়ক আগুয়েরোর বদলে হতে পারতেন রাদামেল ফালকাও-ও। পেনাল্টি মিস করেও তাঁর জোড়া গোল, মোনাকোয় ফিরেই সেই পুরনো ফর্মে তিনি ফিরে গিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের মাঠে এদিনই প্রথম তা দেখালেন।

পেপ গার্দিওলা সিটির দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকে আর্জেন্টাইন আগুয়েরোর ভবিষ্যত্ নিয়ে অনিশ্চয়তা।

ব্রাজিলিয়ান নাম্বার নাইন গ্যাব্রিয়েল জেসুস দলে যোগ দেওয়ার পর থেকে তো তিনি আরো ম্লান। কিন্তু জেসুস ইনজুরিতে পড়ায় আগুয়েরোর সামনে আবার দুয়ার খুলে যায় নিজেকে মেলে ধরার। মোনাকোর বিপক্ষে পরশু চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতেই আগুয়েরো দেখালেন নিজের সেরাটা। দুই গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও তাঁর। সিটি এদিন স্বভাবসুলভ হাই প্রেসিংয়েই খেলতে থাকে, অ্যাওয়ে মাঠে মোনাকো অপেক্ষায় থাকে কাউন্টার অ্যাটাকের। প্রথম গোল ২৬ মিনিটে, দাভিদ সিলভা, লেরয় সানের বোঝাপড়ায় পোস্টের মুখে বল পেয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে দিয়েছেন রহিম স্টারলিং। ওই প্রান্তে ফালকাও তাঁর প্রতিক্রিয়া দেখান মিনিট ছয়েকের মধ্যে, ফাবিও তাভারেসের ক্রসে কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ডের ডাইভিং হেড জালে। এরপর একটা বিতর্কিত মুহূর্ত তৈরি হয়, বক্সে আগুয়েরোকে ফেলে দেওয়া হলেও ডাইভিংয়ের দায়ে রেফারি তাঁকেই দেখিয়েছেন হলুদ কার্ড। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে এমবাপ্পের গোলে উল্টো এগিয়ে যায় মোনাকো। মাঝবিরতিতে স্কোরলাইন ১-২।

তখনো আন্দাজ করা যায়নি দ্বিতীয়ার্ধে রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে। শুরুটা ফালকাওয়ের পেনাল্টি মিসে। নিকোলাস ওতামেন্দি তাঁকে বক্সে ফেলে দিয়েছিলেন, স্পট থেকে ডানদিকে যে গড়ানো শটটি নিয়েছিলেন সিটির আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক কাবেয়ারো তা রুখে দেন। উল্টোদিকে মোনাকো গোলরক্ষক দানিজেল সুবাসিচ করে বসেন ভুল। আগুয়েরোর কোনাকুনি শট তঁরা হাতে লেগে বেরিয়ে যায়। ফলে সমতায় ফেরে সিটিজেনরা। সেই স্বস্তি তাদের মিনিট তিনেকও টেকেনি। ক্যারিয়ারের সেরা সময়ের ঝলক দেখিয়ে ফালকাও করে ফেলেন ৩-২। বক্সের ভেতর সিটিজেনদের ৪৭ মিলিয়ন ইউরোর ডিফেন্ডার জন স্টোনসকে ছিটকে ফেলে কাবেয়ারোর মাথার ওপর দিয়ে তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত চিপ স্বাগতিক দর্শকদেরও চোখে লেগে থাকার কথা। ৭০ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে পা চালিয়ে আগুয়েরোও আবার সমতা ফিরিয়েছেন। তখনো বোঝার উপায় নেই ষোলোর প্রথম লেগটায় শেষ হাসি হাসতে যাচ্ছে কারা? গার্দিওলার ক্যারিয়ারে চ্যাম্পিয়নস লিগের এই পর্যায় থেকে কখনোই বিদায় নেননি তিনি। ৭৭ মিনিটে আরেকটি কর্নারে পা ছুঁইয়ে স্টোনস নিজের দায়মোচনের পাশাপাশি কোচকেও স্বস্তি এনে দিয়েছেন। ৮২ মিনিটে আগুয়েরোর পাসে সানে করেন ৫-৩। তাতেও অবশ্য মিশন পুরো হয়নি সিনিজেনদের, অ্যাওয়ে মাঠে ৩ গোলের সুবিধা ফিরতি লেগে কাজে লাগাতেই চাইবে মোনাকো। গার্দিওলা তো ম্যাচ শেষেই বলে দিয়েছেন, ‘সেখানেও আমাদের গোল করতে হবে নইলে হবে না। ’

সেই চিন্তা একেবারেই নেই সিমিওনের। প্রতিপক্ষের মাঠেই ৪ গোল করে এসেছে তারা। সাউল নিগেজ ও আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের গোলে প্রথমার্ধেই এগিয়ে গিয়েছিল অ্যাতলেতিকো। গ্রিয়েজমান সেই গোলেই চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ইউরোপিয়ান কাপে ক্লাব ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন। ১৩ গোল করে ছাড়িয়ে গেছেন ক্লাব কিংবদন্তি লুই আরাগোনেসকে। লেভারকুসেন এরেনায় স্বাগতিকরা লড়াইয়ে ফেরে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই, করিম বেলারাবি করেন ১-২। কিন্তু ৫৮ মিনিটে কেভিন গামেইরোর গোলে আবার লিড বাড়িয়ে নেয় অ্যাতলেতিকো। কিন্তু ৬৭ মিনিটে নাটকীয়তা। ডিফেন্ডার স্তেফান সাভিচ আত্মঘাতী গোল উপহার দেন জার্মানদের। তাতে স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরার যে সম্ভাবনাটুকু জিইয়ে ছিল বদলি নেমে ফের্নান্দো তরেস তা মাটিচাপা দিয়েছেন ৮৬ মিনিটে করা গোলে। সিমিওনে তাই তৃপ্তি নিয়েই ফিরেছেন স্পেনে, ‘অসাধারণ একটি ম্যাচ ছিল এটা আমাদের জন্য। ব্যবধান আরো বাড়তে পারত। প্রথমার্ধে তো আমরা কোনো ভুলই করিনি। ’ ১৫ মার্চ ঘরের মাঠে ফিরতি লেগের আগে কোয়ার্টার ফাইনালে তারা এক পা দিয়ে রেখেছে এখন বলাই যায়। এএফপি


মন্তব্য