kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

ইনজুরির কারণে শেষটা আমার ভালো হয়নি

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ইনজুরির কারণে শেষটা আমার ভালো হয়নি

গত কয়েক বছর ধরে কেবল ক্লাব ফুটবলেই তাঁর উপস্থিতি ছিল। সেটাও খুব নিয়মিত নয়। ইনজুরি আরমান আজিজের পারফরম্যান্সে এমনভাবে থাবা বসিয়েছে, চাইলেও সেরাটা দেওয়ার সাধ্য নেই। ইচ্ছা থাকলেও জাতীয় দলে ফেরার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন না। অগত্যা অবসর, এবং বুটজোড়া তুলে রাখার দিনে জাতীয় দলের এই সাবেক মিডফিল্ডার কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের সঙ্গে

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : আপনার লম্বা ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল চট্টগ্রাম থেকেই। শেষও হচ্ছে এখানে!

আরমান আজিজ : আমি চট্টগ্রামের মানুষ, বাকলিয়া ক্লাবে খেলেই আমার শুরু। তবে যেভাবে শুরু করেছিলাম সেভাবে শেষ করতে পারিনি। সর্বোচ্চ জায়গাটা ছোঁয়া হয়নি। খেলোয়াড় হিসেবে আমি অনেক পুরস্কার জিতেছি, কিন্তু ইনজুরি ২০১১ সালে আমাকে জাতীয় দল থেকে ছিটকে দেয়। ২০০৫ সালে মিয়ানমারে চার জাতি কাপ দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেকের পর সাত বছর খেলেছি। পায়ের লিগামেন্টের ইনজুরির জন্য নিয়মিত খেলাটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল আমার জন্য, তার পরও ক্লাব দলে খেলে গেছি।

আমার ক্যারিয়ারটা আল্লাহ হয়তো এভাবেই লিখে রেখেছেন।

প্রশ্ন : ক্লাব ক্যারিয়ারে ঢাকার দুই পরাশক্তি আবাহনী-মোহামেডানে খেলার অভিজ্ঞতা আছে আপনার।

আরমান : হ্যাঁ, আবাহনী-মোহামেডান মুক্তিযোদ্ধাসহ আরো কয়েকটি দলে খেলেছি। সবচেয়ে বেশি খেলেছি ঢাকা মোহামেডানে। তাই অবসরে যাওয়ার জন্য মোহামেডানের সঙ্গে ম্যাচটিই বেছে নিয়েছি। সাদাকালো জার্সিতে পাঁচ বছরের ক্যারিয়ারে ২০০৮ ও ২০০৯ সাল আমার দারুণ কেটেছে। নিজের পারফরম্যান্স ছাড়াও আমার অধিনায়কত্বে মোহামেডান চারটি শিরোপা জিতেছে।

প্রশ্ন : মিডফিল্ডার আরমান মিয়া বোধহয় আপনার আইডল ছিল।

আরমান : হ্যাঁ, মাঝমাঠের তারকা আরমান ভাইকে অনুসরণ করতাম আমি। তাঁর মতো একজন ভালো প্লেমেকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। এ জন্য নিজের চেষ্টার পাশাপাশি অনেক দেশি-বিদেশি কোচের অবদান আছে। কিন্তু পারফরম্যান্স যখন ভালো হচ্ছিল তখন ইনজুরিতে পড়ে গেলাম। অথচ ২০১১ সালেও আবাহনীতে আমি ভালো পারফর্ম করেছিলাম।

প্রশ্ন : আপনার ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ কোনটি?

আরমান : সেরা ম্যাচ খেলেছি ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে প্রথম সুপার কাপ ফাইনাল। ১১টি সেলাই নিয়ে আমি মোহামেডানের জার্সি গায়ে খেলেছি এবং আমার পাস থেকে রবিন একমাত্র গোলটি করে। আমার অধিনায়কত্বে মোহামেডান প্রথম সুপার কাপ জেতে।

প্রশ্ন : অবসরের পর কি ফুটবলের সঙ্গে থাকবেন?

আরমান : অবশ্যই। রুহুল আমিন ভাই যেভাবে ফুটবল উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, সেখানে আমি তাঁর সহযোগী হতে চাই। উনার অধীনেই কাজ করছি। তা ছাড়া চট্টগ্রাম আবাহনীর প্রেসিডেন্ট এম এ লতিফ ভাই, সাধারণ সম্পাদক শামসু ভাই এবং সাইফ স্পোর্টিংয়ের নাসির ভাইয়ের কাছে আমি বিশেষ কৃতজ্ঞ। কারণ তাঁরাই চট্টগ্রাম আবাহনীর জার্সি গায়ে এমএ আজিজ স্টেডিয়াম থেকে আমাকে অবসরে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।


মন্তব্য