kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

খেলা নিয়েই বাবার সব স্বপ্ন ছিল

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



খেলা নিয়েই বাবার সব স্বপ্ন ছিল

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের গত আসরের অন্যতম সেরা পারফরমার জাহিদ হোসেন। এবারের টুর্নামেন্ট শুরুর দুদিন আগে বাবাকে হারিয়েছেন জাতীয় দলে খেলা এ উইঙ্গার। সেই শোক সঙ্গী করেই পরশু আবার দলে যোগ দিয়েছেন তিনি। কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে জাহিদ তাঁর বাবার স্মৃতিচারণার পাশাপাশি কথা বলেছেন টুর্নামেন্ট নিয়ে

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : এই সময়ে আবার ক্যাম্পে ফিরে এলেন, সতীর্থদের সঙ্গে, ফুটবল মাঠে মনটা কি এখন কিছুটা হালকা লাগছে?

জাহিদ হোসেন : হ্যাঁ, অনেকটাই। খেলা নিয়েই তো বাবার সব স্বপ্ন ছিল। ক্যাম্পে ফেরা নিয়ে তাই দ্বিতীয়বার ভাবিনি। এখানে এসে বন্ধুদের মাঝে এখন অনেকটাই ভালো লাগছে। বাবার স্মৃতি ভুলে থাকা সম্ভব না কিছুতেই, কিন্তু খেলার মাঠে থেকে তাঁকে স্মরণ করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় মনে হচ্ছে।

প্রশ্ন : বাবার আগ্রহেই আপনার ফুটবলার হয়ে ওঠা?

জাহিদ : হ্যাঁ, সেই ছোটবেলায় বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে আমার ক্যারিয়ার, সব খুঁটিনাটি বিষয়ে তাঁর নজর ছিল। বাবাকে ছাড়া আমি আমার এই ফুটবল ক্যারিয়ার ভাবতেই পারি না। যত দিন খেলব তাঁর স্মৃতিই আমার কাছে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

প্রশ্ন : কোচ এই মুহূর্তে আপনাকে কতটা সাহায্য করছেন?

জাহিদ : টিটু ভাইকে (চট্টগ্রাম আবাহনী কোচ সাইফুল বারী) আমি চিনি সেই ২০০৬ সাল থেকে। উনিও আমার ভালো-মন্দ সব জানেন। সব সময় আমি টিটু ভাইকে পাশে পাব—এ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। ক্যাম্পে অনেক পুরনো সতীর্থ আছে, সঙ্গে টিটু ভাইও থাকায় আসলে আমার জন্য এ সময়টা অনেক সহজ হয়েছে।

প্রশ্ন : প্রথম ম্যাচ খেলতে পারেননি, পরের ম্যাচগুলোতে মাঠে নামার ব্যাপারে কিছু বলেছেন তিনি?

জাহিদ : উনি আমাকে খেলাতে চান। সামনের ম্যাচেই আশা করি মাঠে নামব। আমি বললাম না, টিটু ভাই আমার সব জানেন, আমার মনের অবস্থাও তিনিই সবচেয়ে ভালো বুঝবেন। উনি যখনই আমাকে মাঠে নামাতে চান আমি নিজের সবটুকু দিয়ে পারফর্ম করতে তৈরি।

প্রশ্ন : গত আসরে যেমন স্মরণীয় পারফরম্যান্স করেছেন তাতে এই টুর্নামেন্টটা এমনিতেও তো আপনার জন্য বিশেষ কিছু?

জাহিদ : তাতো অবশ্যই। গতবার টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিকসহ আমার ৫ গোল ছিল, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট ছিল। আবাহনীর বিপক্ষে জয় পাই আমার একমাত্র গোলে। এই আসরেও পারফর্ম করার জন্য আমি মুখিয়ে ছিলাম। বাবার মৃত্যুর সংবাদটা একটা ধাক্কা হয়ে এলো। সকাল ১০টার দিকে বাবা মারা যান, আমি ক্যাম্প থেকে ছুটি নিয়ে ঢাকা হয়ে টাঙ্গাইলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে বিকেল। গত ফেডারেশন কাপে খেলতে পারিনি, বাবাকে নিয়ে চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ছিলাম চার মাস। এখনো স্মৃতিগুলো টাটকা, তা নিয়েই মাঠে নামব।


মন্তব্য