kalerkantho


চ্যাম্পিয়নদের জয়ে শুরু হার মোহামেডানের

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চ্যাম্পিয়নদের জয়ে শুরু হার মোহামেডানের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ঢাকা আবাহনী বা মোহামেডানের পদাঙ্ক অনুসরণ করেনি চট্টগ্রাম আবাহনী। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। দ্বিতীয় আসরে তাদের শুরুটা হলো চ্যাম্পিয়নদের মতোই। আফগানিস্তানের শাহিন আসমায়িকে কাল ৩-১ গোলে হারিয়েছে তারা। আগের ম্যাচেই মোহামেডান ২-০ গোলে হারে নেপালের মানাং মার্সিয়াংদির কাছে। আবাহনী তাদের প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে হেরেছিল মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের কাছে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ কোরিয়ান পচিয়ন সিটিজেনের মুখোমুখি তারা। হেরে গেলেই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়বে। সেখানে চট্টগ্রাম আবাহনী কাল প্রথম ম্যাচ জিতেই সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল এক পা।

চট্টগ্রাম আবাহনীকে জিতিয়েছেন এই টুর্নামেন্টের জন্যই ব্রাদার্স ইউনিয়ন থেকে যোগ দেওয়া অগাস্টিন ওয়ালসন ও এনকোচা কিংসলে। জোড়া গোল করেছেন ওয়ালসন।

২৩ মিনিটে তাঁর প্রথম গোলের পর ব্যবধান বাড়ান কিংসলে। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট সাতেক আগে ওয়ালসনের আরেক গোল। ব্রাদার্সের হয়ে গত লিগে এই দুজনের বোঝাপড়া চোখে পড়ার মতো ছিল। চট্টগ্রাম আবাহনী কোচ শেখ কামাল ক্লাবে বাজি ধরেছেন তাঁদের নিয়েই। প্রথম ম্যাচেই তাঁরা মাত করলেন। ২৩ মিনিটে এনকোচা কিংসলের থ্রু ধরেই বক্সের ভেতর দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ওয়ালসনের প্রথম গোল। ৪০ মিনিটে কোনাকুনি শটে ব্যবধান বাড়ান কিংসলে। দ্বিতীয়ার্ধে নাসির হুসাইনের গোলে অবশ্য লড়াইয়ে ফিরেছিল শাহিন আসমায়ি। কিন্তু ৮৩ মিনিটে ৩-১ করে ফেললে আর সুযোগ থাকে না তাদের।

চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে এবং চট্টগ্রামের দল হিসেবেও কাল চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে এমন জয় প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু আগের দিন লিগ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ায় দশম স্থান পাওয়া মোহামেডানকে নিয়ে সেই প্রত্যাশা ছিল না মোটেই! তবে কাল নেপালি চ্যাম্পিয়ন মানাং মার্সিয়াংদির বিপক্ষে ক্ষয়িষ্ণু মোহামেডান ভালো লড়াই উপহার দিল। ম্যাচে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিয়েছে তারা ২-০ গোলে হেরে। ম্যাচটি অন্তত ২-২ হতে পারত। আমিনুর রহমানের শট পোস্ট না কাঁপালেও আরো অন্তত দুটি সুযোগ এসেছিল যেগুলো কাজে লাগিয়ে ম্যাচের রংটা বদলে দিতে পারত মোহামেডান।

গত লিগে খেলা দলটার সঙ্গে আব্দুল কাইয়ুম সেন্টুর বর্তমান মোহামেডানের পার্থক্য বিদেশিতে। মাঝমাঠে সেই বিদেশিদের একজন দাউদা সিসে মার্সিয়াংদির বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছিলেন। ম্যাচের শুরুতেই আমিনুর রহমানকে বল বের করে দিয়েছিলেন তিনি, গত মৌসুম থেকে মোহামেডানের ৯ নম্বর জার্সিতে খেলা এই স্ট্রাইকার সেই বল আকাশে উড়িয়ে সুযোগ নষ্ট করেছেন। ৩৫তম মিনিটে সিসে সুযোগ করে দেন অধিনায়ক তৌহিদুল আলমকেও। গোলরক্ষককে একা পেয়েও তোহিদ পোস্টে শট নিতে পারেননি। মোহামেডানের দুর্ভাগ্য স্পষ্ট হয় বিরতির ঠিক আগে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া আমিনুরের জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে। এই অর্ধে গোলরক্ষক মামুন খানকেও দুর্দান্ত একটি সেভ করতে হয়েছে। মার্সিয়াংদি ফরোয়ার্ড স্যামসন ওলাসেমির শট পোস্টে ঢোকার মুখে ঝাঁপিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন মোহামেডান গোলরক্ষক।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলাটা বদলে যায়, মোহামেডান বল পজেশন রাখলেও গোলের আর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে মার্সিয়াংদি ৫৩ মিনিটে একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকেই আনন্দের সেই উপলক্ষ পেয়ে যায়। নেপাল জাতীয় দলে খেলা রোহিত চাঁদ চমৎকার থ্রু বাড়িয়েছিলেন ওয়াওলে ওলাদিপোকে। এই জাম্বিয়ান স্ট্রাইকার এক পায়ে রিসিভ করে আরেক পায়ের ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে দিয়েছেন। পিছিয়ে পড়েও মোহামেডান চাপ বাড়াতে পারেনি প্রতিপক্ষের ওপর। এগিয়ে গিয়ে মার্সিয়াংদি বরং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ৮৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল সেই ধারাবাহিকতায়। ওলাদিপোর বাড়ানো পাসে কোনাকুনি শটে বল জালে জড়িয়ে দিয়েছেন বিশাল রায়। গতবার শ্রীলঙ্কার সলিড এসসি ও কলকাতা মোহামেডানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠা মোহামেডানের এবারের শুরুটা তাই হতাশার, ম্যাচ শেষে কোচ সেন্টুর কণ্ঠেও ধরা পড়ল তা, ‘সত্যি আমি হতাশ। প্রথমার্ধে যে সুযোগগুলো আমরা নষ্ট করেছি, এমনটা কেউই আশা করে না। ’ সেখানে চমৎকার ফিনিশিং উপহার দিয়েছেন মার্সিয়াংদির দুই ফরোয়ার্ড। সেন্টুকেও তাই মানতে হচ্ছে, ‘শেষ পর্যন্ত ওরাই ভালো খেলেছে, ভুল কম করেছে। জয়টা ওদেরই প্রাপ্য। ’ আবাহনীর মতোই এখন দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ সেন্টুর দলের।


মন্তব্য