kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

এই শতাব্দীর একটি খেলা তৈরিই ছিল উদ্দেশ্য

বিশ্বকাপের সুবাদে রোল বল নামটা ছড়িয়েছে বাংলাদেশে। আসলে খেলাটির বয়সও বেশি হয়নি। তার জন্ম ভারতের পুনেতে। জন্মদাতা স্কুল শিক্ষক রাজু দাবাড় এখন ঢাকায়। খেলার জন্ম-বৃত্তান্ত নিয়ে তিনি মুখোমুখি হয়েছেন কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এই শতাব্দীর একটি খেলা তৈরিই ছিল উদ্দেশ্য

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : আপনি তো একজন স্কুল শিক্ষক...।

রাজু দাবাড় : মহরাষ্ট্রের কৃষক পরিবারে আমার জন্ম।

আমিই প্রথম পুনেতে গিয়ে স্নাতক শেষ করেছি। বিপিএড করার সুবাদে আমি স্কুলে ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে কাজ করি। ছোটবেলা থেকে আমার খেলাধুলায় খুব আগ্রহ ছিল। মূলত এই আগ্রহ থেকেই রোল বলের প্রবর্তন।

প্রশ্ন : হ্যাঁ। জেনেছি, এই খেলাটার আবিষ্কারক আপনি। কিভাবে মাথায় এলো প্রথমে?

রাজু : ইন্টারনেটে গিয়ে দেখেছি, প্রায় সব খেলার জন্ম ইউরোপ-আমেরিকায়। সেই থেকে নতুন একটি খেলার কথা মাথায় ঘুরতে থাকে। আমি দেখলাম, রোলার স্কেটিং  ইউরোপ-আমেরিকার জনপ্রিয় এক খেলা।

কিন্তু বেশির ভাগ খেলার সঙ্গে বল জড়িত। রোলার স্কেটিংয়ের সঙ্গে একটা বল যুক্ত করে দিলে কেমন হয়, এই ধারণা থেকে রোল বলের জন্ম। আমি একবিংশ শতাব্দীর যুবাদের জন্য একটি খেলা তৈরি করতে চেয়েছি।

প্রশ্ন : এটা বোধহয় ২০০০ সালের ঘটনা। তারপর...

রাজু : এক বছর আমি এই খেলা নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। রোলার স্কেটিং করে নিজে নিজে বল ড্রিবল করার চেষ্টা করেছি। এসব শেষ করে ২০০৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি খেলাটার আনুষ্ঠানিক যাত্রা হয়। এর আগে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে খেলার নিয়ম-কানুন জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। দুজন প্রতিনিধি ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন এবং তাঁরা আমাকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন।

প্রশ্ন : তাহলে খেলার বয়স মাত্র ১৪ বছর। এর মধ্যেই ৪০ দেশ বিশ্বকাপ খেলছে!

রাজু : এই খেলা ডেভেলপ করতে গিয়ে আমার বাড়ি বন্ধক রাখতে হয়েছিল। ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে আমার পরিবারকে। শেষ পর্যন্ত আমি সফল হয়েছিল, ১৪ বছরে ৫০টি দেশে এই রোল বল খেলা হচ্ছে। ৯টি আন্তর্জাতিক আসরও হয়েছে। কিন্তু আমার পকেট থেকে একটি টাকাও খরচ করতে হয়নি, এটা আমি চিন্তাও করতে পারি না।

প্রশ্ন : অল্প সময়ে খেলাটির এরকম বিস্তার কিভাবে হলো?

রাজু : প্রথমে আমি চেষ্টা করেছি, আমাদের প্রতিবেশী বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, ভুটান, শ্রীলঙ্কায় খেলাটির বিস্তার ঘটাতে। তারপর আফ্রিকায়ও গিয়েছি। আমার অনেক ছাত্র এখন অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকায় কাজ করছে। নিয়ম-কানুনের বই ও সিডি দেওয়া হয়েছে।         

প্রশ্ন : বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গেমসে খেলাটি আন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা আছে?

রাজু : আমাদের আন্তর্জাতিক ফেডারেশন, এশিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ান ফেডারেশন আছে। আমরা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কাছে আবেদন করেছি, আলোচনার পর্যায়ে আছে। এসএ গেমস কমিটিও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।


মন্তব্য