kalerkantho


ইমরুলকে নিয়ে সংশয়ে নির্বাচকরা

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ইমরুলকে নিয়ে সংশয়ে নির্বাচকরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফিটনেস অত্যাবশ্যকীয়। তবে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন তারও আগে জুড়ে দিয়েছেন ফিটনেসের নতুন মানদণ্ড—স্কিলওয়াইজ ফিটনেস।

মানে, একজন ক্রিকেটারকে শুধু শারীরিকভাবে তরতাজা থাকলেই হবে না, স্কিলওয়ার্কেও থাকতে হবে শতভাগ ফিট। গতকাল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি প্রধান নির্বাচকের বলা কথার মালা নিশ্চিতভাবেই কণ্টকাকীর্ণ; ইমরুল কায়েস ও রুবেল হোসেনের জন্য তো বটেই!

নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়েলিংটন টেস্টে মাঠ থেকে স্ট্রেচারে শুয়ে ইমরুল কায়েসের হাসপাতালে যাওয়ার দৃশ্যটা এখনো আতঙ্ক হয়ে আছে দেশীয় ক্রিকেট পরিমণ্ডলে। দলের ভেতরেই একটা খচখচানি আছে—ওভাবে স্ট্রেচার না নিয়ে ড্রেসিংরুম হয়ে কি হাসপাতালে যেতে পারতেন জাতীয় দলের বাঁহাতি এ ওপেনার? বিস্তর ডাক্তারি পরীক্ষার পর জানা যায়, ইমরুলের ঊরুর পেশিতে সূক্ষ্ম চিড় ধরা পড়েছে। সেই থেকে ইনজুরি সারিয়ে মাঠেও ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু ভারতে একমাত্র টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে একই চোট মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় ইমরুলকে শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর ব্যাপারে পূর্ণ সতর্ক নির্বাচক কমিটি, ‘আমাদের হায়দরাবাদ অভিজ্ঞতা ভালো হয়নি। তাই ফিটনেসের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কাউকে শ্রীলঙ্কায় পাঠাব না। ’

নির্বাচকদের নিশ্চয়তা এরই মধ্যে মৌখিকভাবে দিয়েছেন ইমরুল কায়েস। দুদিন আগে বলেছেন, ‘ভারত থেকে ফেরার পর রিহ্যাব করেছি। দুই দিন হলো ব্যাটিং-রানিং করেছি।

আমার মনে হয়েছে, ওরকম কোনো ব্যথা নেই। ব্যাটিং ও রানিংয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ’ কিন্তু তাতে পূর্ণ আস্থাশীল মনে হয়নি প্রধান নির্বাচককে, ‘ইমরুলকে নিয়ে একটু সংশয় আছে। ফিজিও যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে বলা মুশকিল যে সে কত দ্রুত সেরে উঠবে। ’ তবে এবার শুধু ফিজিওর প্রতিবেদনকেই চূড়ান্ত প্রত্যয়নপত্র মনে করছে না নির্বাচক কমিটি। মাঠে স্কিলওয়াইজ ফিটনেস পরীক্ষাতেও উতরাতে হবে ইমরুলকে। তা প্রমাণের সুযোগ আজ থেকে শুরু হওয়া বিসিএলের চতুর্থ রাউন্ডে পাচ্ছেনও তিনি। চার দিনের এ ম্যাচেই ইমরুলের ওপর চোখ থাকবে প্রধান নির্বাচকের, ‘ইমরুলের ম্যাচ আছে। শুধু ব্যাটিং করলেই তো হবে না, ফিল্ডিংটাও দেখতে হবে। আবার স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকলে হবে না। রানিং কেমন করছে, থ্রো ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, দেখতে হবে। স্কিলওয়াইজ ফিটনেস ফিরে পেতে বিসিএলে ওর অন্তত দুটি ম্যাচ খেলতে হবে। ’

অথচ আজ শুরু হওয়া চতুর্থ রাউন্ড শেষ হওয়ার আগেই শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করে দেবেন মিনহাজুল আবেদীন, ‘২০ তারিখ (আগামীকাল) বিকেলে দল দিয়ে দেব। ’ তার মানে বিসিএলের এ রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনেই শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য টেস্ট দল ঘোষিত হয়ে যাবে। তাতে ইমরুল কায়েস কি থাকছেন? এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও বিসিএলে ফিটনেস পরীক্ষার জন্য যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, তাতে উত্তরটা নেতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। গতকাল নির্বাচক কমিটির আলোচনার রেশ ধরে যেন তেমন ইঙ্গিতও দিলেন মিনহাজুল, ‘দলে খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। ’ সেই ‘অল্প’ পরিবর্তনের ধাক্কায় ইমরুলের জায়গায় দুই টেস্টের স্কোয়াডে ঢুকতে পারেন মোসাদ্দেক হোসেন।

আরেকটি পরিবর্তন অবধারিত। অবশ্য সেটিকে পরিবর্তন না বলে সংযোজন বলা ভালো। ‘১৬ জনের প্রাথমিক দল নিয়ে শ্রীলঙ্কায় যাবে দল। এর মধ্য থেকে ১৫ জনের দল চূড়ান্ত হবে’, জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। স্কোয়াডে খেলোয়াড় সংখ্যার এ তারতম্যের ব্যাখ্যায় মিনহাজুল বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কায় এখন অনেক গরম। দুই দিনের একটা প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। ফাস্ট বোলারদের ক্লান্তির বিষয়টি মাথায় রেখেই ১৬ জনের দল পাঠাব। পরে একজনকে ফিরিয়ে আনা হবে। ’ তার মানে ভারতীয় রেসিপিই শ্রীলঙ্কায় প্রয়োগ করবেন নির্বাচকরা। হায়দরাবাদ টেস্টের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে আবু জায়েদকে পাঠানো হয়েছিল দেশ থেকে। এবার তিনি কিংবা তেমন কেউ উড়ে যাবেন মূল স্কোয়াডের সঙ্গেই। তবে ফিরে আসবেন প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেই।

পেসারদের নিয়ে নির্বাচকদের এমন গভীর ভাবনায় কি স্থান আছে রুবেল হোসেনের? ফিটনেস-সংক্রান্ত একটি প্রশ্নে মিনহাজুল আবেদিনের উত্তরে তেমন আভাস নেই, ‘ফিটনেসকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। মাঠে পাঁচ দিন খেলার এনার্জির দিকটায় আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। ’ এ তো আর গোপন বিষয় নয় যে মাঠে রুবেলের ‘এনার্জি লেভেল’ নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের মনে যথেষ্টই সংশয় আছে। তাতে বিসিএলে সে সংশয় দূর করার জন্য বিস্তর খাটাখাটনি করতে হবে রুবেল হোসেনকে।

শ্রীলঙ্কা সিরিজের দল গঠন নিয়ে ‘ওভারটাইম’ খাটতে হচ্ছে নির্বাচকদের। সফরের গুরুত্বটাও যে অনেক বেশি। ‘এরই মধ্যে বিদেশের মাটিতে আমরা তিনটি টেস্ট খেলেছি। সে অভিজ্ঞতা থেকে শ্রীলঙ্কা সিরিজটা আমরা একটু অন্যভাবে নিচ্ছি। বিদেশের মাটিতে অনেক ঘাটতি ছিল। ওই তিন টেস্টের অভিজ্ঞতা শ্রীলঙ্কা সিরিজে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারব বলে আশা করি’, মিনহাজুলের এ আশাবাদেই পরিষ্কার যে শ্রীলঙ্কা সফরে দারুণ কিছুর আশা করছে বাংলাদেশ।


মন্তব্য