kalerkantho


ওরা বই পড়ে রোল-বল শিখছে!

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : একজনের টি-শার্টে মিয়ানমার নাম দেখেই বিস্ময়ের উদ্রেক হলো। এই সময়ের ভীষণ আলোচিত দেশ এই মিয়ানমার।

গত অক্টোবর থেকে রাখাইন রাজ্যে ধ্বংসযজ্ঞ এবং মুসলিম হত্যাযজ্ঞের কারণে দেশটি আলোচনায়। অত্যাচার থেকে প্রাণে বাঁচতে অনেক রোহিঙ্গা নাফ নদী পেরিয়ে শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। আর তারা ১১ জনের মিয়ানমার দল ঢাকায় এসেছে রোল বল বিশ্বকাপে অংশ নিতে।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁরা ঢাকায় এসেছেন। থাকছেন শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের হোস্টেলে। তাঁদের কাছে খেলাটি একদম নতুন। দলের ম্যানেজার লিন লাটের ব্যাখ্যায়, ‘এখনো আমরা বই পড়ছি আর খেলছি। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে এসেছি। ’ বই পড়ে নিয়ম-কানুন শিখে কেবল তাঁরা খেলতে নেমেছেন।

কিন্তু সমস্যায় পড়েছেন প্র্যাকটিসের সুযোগ পাচ্ছেন না বলে। দলটি মিয়ানমার বলেই আসলে বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছে আয়োজকরা। রাখাইন রাজ্যের সংকটের প্রভাবে তাঁদের এখানে-সেখানে যাওয়ার অনুমতি মিলছে না, তা বুঝতে পারছেন। নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে, সেটা কিছুটা হলেও বুঝতে পারছেন। ম্যানেজার লিন লাটও মুসলিমদের ওপর ওই ধ্বংসযজ্ঞ সমর্থন করেন না, ‘স্বল্পসংখ্যক লোকজনের কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আসলে সরকারের হাতে তো পুরো ক্ষমতা নেই। বড় বড় দায়িত্বগুলো মিলিটারির হাতে। সূচি একরকম ক্ষমতাহীন বলা যায়। ’ বৌদ্ধপ্রবণ মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে প্রায় ১১ লাখ মুসলিম জাতি-বিদ্বেষের শিকার। রোহিঙ্গা জঙ্গিদের দমনের নামে মিলিটারি অভিযানে নিহত হয়েছে প্রায় হাজারখানেক মুসলিম।  

বহির্বিশ্বে প্রশ্নের মুখে পড়েছে শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার। কিন্তু ওই ম্যানেজারের কথা অনুযায়ী তাঁর একার পক্ষে কিছু করার নেই, ‘২৫ শতাংশ সিনেটর হলো মিলিটারির লোকজন। বাকি ৭৫ শতাংশ কোনো ভালো কাজের উদ্যোগ নিলেও ওই মিলিটারির লোকজন বিরোধিতা করলেই খারিজ হয়ে যায়। ’ তিনি বৌদ্ধ হলেও জাতি-বিদ্বেষমুক্ত একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে দাবি করে বলেছেন, ‘আমার এই দলেই তিনজন মুসলিম আছে, একজন খ্রিস্টান ও বাকি সাতজন বৌদ্ধ আছে। তাতে তো আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ’ মুসলিম স্কেটার চেন নাইং রোহিঙ্গা সংকটের কথা জানেন, তবে তাঁর কোনো সমস্যা হয়নি, ‘আমি শুনেছি অনেক মুসলিম পালিয়ে এখানে চলে এসেছে। অনেক লোক সিটুই (রাখাইন রাজ্যের রাজধানী) থেকে চলে যাচ্ছে। সেখান থেকে আমরা একটু দূরে বাস করি, আমার পরিবারের কোনো সমস্যা হয়নি। ’ রোহিঙ্গা মুসলিম সংকটে রোল বল স্কেটিং দলের অন্য দুই মুসলিম সদস্যদেরও কোনো সমস্যা হয়নি মিয়ানমারে।

তাঁদের কী সৌভাগ্য, শরণার্থী হয়ে আসতে হয়নি এ দেশে।


মন্তব্য