kalerkantho


শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য তৈরি মুস্তাফিজ

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য তৈরি মুস্তাফিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে আগের ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে বোলিং করেছিলেন ১৭ ওভার। মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে চলতি বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) তাঁর দ্বিতীয় ম্যাচে মুস্তাফিজুর রহমান এবার বোলিং করলেন আগের ম্যাচের প্রায় দ্বিগুণ।

দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩১ ওভার। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে নামা এ ফাস্ট বোলারের বোলিং দেখে এসে তাই গতকাল সন্ধ্যায় ভীষণ নির্ভারও শোনাচ্ছিল প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের কণ্ঠ, ‘প্রথম ইনিংসের চেয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে আরো বেশি ছন্দে বোলিং করেছে মুস্তাফিজ। ’

ভারত সফর শেষে বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফরের আগে যেটি এ মুহূর্তে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত খবরও। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তেমন কিছু ধরা না পড়লেও তিনি নিজে ব্যথার অভিযোগ করছিলেন বলে নিউজিল্যান্ড সফরে দুই টেস্টের সিরিজে মুস্তাফিজকে খেলানোই হয়নি। লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকায় তাঁর মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিও থাকতে পারে বলে মনে হয়েছিল সংশ্লিষ্টদের। যে কারণে ভারত সফরের দলেও ছিলেন না ‘কাটার মাস্টার’। আত্মবিশ্বাস ফেরানোর জন্য ভারতে না পাঠিয়ে তাই মুস্তাফিজকে পাঠানো হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ফার্স্ট ক্লাস আসরের ম্যাচ খেলতে। প্রথমে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে খেলে এলেন পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে। এরপর ফতুল্লায়ও তাঁকে দেখার পর দক্ষিণাঞ্চলের ফিজিও নাজিবুর রহমানের মনে হয়েছে, ‘লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকার ফলে মনের ভেতর যে ভীতিটা কাজ করছিল, এ দুই ম্যাচ দেখে মনে হলো তা পুরোপুরি কেটে গেছে।

ভীতি কেটে যাওয়ার পর ছন্দটাও ফিরে পেতে দেখে এসেছেন মিনহাজুল। তাঁর ভাষ্য, ‘মুস্তাফিজকে আমরা যে ছন্দে দেখতে চেয়েছিলাম, এ ম্যাচে সেটিও দেখা গেছে। ’ যদিও শিকারসংখ্যা দিয়ে বিবেচনা করতে গেলে তা দৃশ্যমান হবে না। দুই ম্যাচে মাত্র ৪টি উইকেটই নিয়েছেন তিনি। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের বোলাররা যা করতে চেয়েও পারেননি, দ্বিতীয় ম্যাচে সেই রান ‘চেক’ দেওয়া বোলিং ঠিকই করেছেন মুস্তাফিজ। আগের ম্যাচের চেয়ে উন্নতিটাও চোখে পড়ছে। পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে আগের ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৯ ওভারে ১টি মেডেনসহ ৩২ রান খরচায় নিয়েছিলেন ২ উইকেট (ইকোনমি ৩.৫৫)। পরের ইনিংসে উইকেটশূন্য মুস্তাফিজ ৮ ওভারে ১টি মেডেনসহ রান দিয়েছিলেন ২৩ (ইকোনমি ২.৮৮)। এবার মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে বোলিং বাড়িয়ে ছন্দ আরো ফিরে পাওয়া এই বাঁহাতি ফাস্ট বোলার ১.৮৮ ইকোনমিতে ১৮ ওভারে ৭টি মেডেনসহ ৩৪ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে আরো কিপ্টে বোলিং তাঁর, ১৩ ওভারে ৬টি মেডেনসহ ১৩ রানে ১ উইকেট! ম্যাচে মুস্তাফিজকে ৩০ ওভারের বেশি কার্যকর বোলিং স্বাচ্ছন্দ্যেই করতে দেখার পর স্বস্তির নিশ্বাস তো প্রধান নির্বাচক ফেলবেনই। শ্রীলঙ্কা সফর যে দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করে দিয়েছে। মাসখানেকের সফরে তিনটি ওয়ানডে এবং দুটো টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি আছে দুই টেস্টের সিরিজও। বিসিএলের দুই ম্যাচে তাঁকে দেখার পর ওই সফরে মুস্তাফিজকে পাওয়ার বিষয়টি একরকম নিশ্চিতই করে দিলেন মিনহাজুল, ‘পর পর দুই ম্যাচে ওকে দেখার পর এটা বলতে পারি যে শ্রীলঙ্কা সফরে মুস্তাফিজকে পাওয়া নিয়ে কোনো সংশয়ই নেই। ’ যদিও প্রধান নির্বাচককে এর সঙ্গে একটি পাদটীকাও জুড়ে দিতে হচ্ছে, ‘যদি মুস্তাফিজ আর কোনো সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ না করে, তাহলে ও অবশ্যই শ্রীলঙ্কায় যাবে। ’ মিনহাজুল নিশ্চিতভাবে পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকেই এ কথা বলে রেখেছেন। নিউজিল্যান্ডে তো তাঁর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই টেস্ট খেলা থেকে মুস্তাফিজকে নিস্তার দেওয়া হয়েছিল। তা ছাড়া ফাস্ট বোলারদের কখন কী হয়ে যায়, সেটিও তো আগে থেকে বলে দেওয়া যায় না। সেসব শঙ্কা দূরে সরিয়ে রাখলে আপাতত মুস্তাফিজের শ্রীলঙ্কা যাওয়া নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। তাই দেড় বছর পর আবার মুস্তাফিজকে টেস্টে দেখার অপেক্ষা। ২০১৫ সালের জুলাইতে চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেকেই ম্যাচসেরা হওয়া এই তরুণ আসলে খেলেছেন ওই এক টেস্টই। ঢাকায় বৃষ্টিবিঘ্নিত পরের টেস্টে যে বল করতে হয়নি একটিও!


মন্তব্য