kalerkantho


শেখ কামাল টুর্নামেন্টের ড্র

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শেখ কামাল টুর্নামেন্টের ড্র

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এ দেশে একটি ক্লাবের আয়োজনে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট হতে পারে, এটিই ছিল প্রথমে অবিশ্বাস্য ঘটনা। ২০১৫ সালে প্রথম আসর আয়োজন করে এই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করার পর আবার নতুন সংশয়।

সামনে আবার হবে তো এই টুর্নামেন্ট! এই সংশয়ও কাল দূর হয়ে গেল শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসরের ট্রফি উন্মোচনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে। সোনারগাঁও হোটেলে অপূর্ব ট্রফি দৃশ্যমান করা এবং ড্র অনুষ্ঠানের আগে পুরোটা সময়জুড়ে হয়েছে শেখ কামাল স্মরণ।  

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পোশাকি আয়োজক চট্টগ্রাম আবাহনী। নেপথ্যে সাইফ পাওয়ার টেক লিমিটেড এবং তার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন। সুবাদে টুর্নামেন্টের সাংগঠনিক কমিটির প্রধান সমন্বয়কারীও তিনি এবং তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে শেখ কামাল আর আবাহনী একাকার হয়ে গেছে, ‘শেখ কামাল না থাকলে আবাহনীর জন্ম হয় না। এই মহান সংগঠকের হাতেই আবাহনী হয়ে ওঠে আধুনিক ক্লাব। এ জন্য তাঁর নামে আমাদের এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। তবে শুধু নিজেদের জন্য এ টুর্নামেন্ট করে না চট্টগ্রাম আবাহনী, সারা দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে আমাদের এই আয়োজন। ’ বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনও ক্রীড়া সংগঠক বন্ধুকে রাখছেন সবার ওপরে, ‘শেখ কামালের মতো এমন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সংগঠক আর জন্মাবে না।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আ হ ম মোস্তফা কামালেরও সাংগঠনিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে আবাহনীতে। এই তুখোড় ক্রিকেট সংগঠক দেশের পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলেও সেসব দিনের কথা ভোলেন কী করে, ‘ফুটবল মাঠে তখন ছিল জোয়ার, ক্রিকেটে পাঁচ শর মতো দর্শক হতো। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য আবাহনীতে খেলিয়েছি ফেয়ারব্রাদার, ইলিংওয়ার্থ, ওয়াসিম আকরামের মতো খেলোয়াড়দের। ’ ক্রিকেটের সেই কঠিন দিনের গল্প শুনিয়ে মন্ত্রী যেন বাফুফে সভাপতিকে পথ দেখাতে চাইলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সালাউদ্দিন ভাইয়ের হাতেই ফুটবলের জনপ্রিয়তা ফিরবে। খেলাটির জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য যা যা দরকার সবই করতে হবে, গ্রামেগঞ্জে নিয়ে যেতে হবে খেলাটিকে। ফুটবলারের সাপ্লাই-লাইনটা শক্তিশালী করতে হবে। ’ এরকম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টই পারে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ফেরানোয় বড় ভূমিকা রাখতে। এটা বিশ্বাস করেন দেশের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকাদারও। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেছেন চট্টগ্রাম আবাহনীর সভাপতি এম এ লতিফ ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক চৌধুরী।

আগামী ১৮ মার্চ থেকে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে শুরু এই আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ টুর্নামেন্টটি দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার এশিয়াময় হয়ে উঠছে। দেশের তিন ক্লাব বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনী, ঢাকা আবাহনী ও ঢাকা মোহামেডান বাদে দক্ষিণ এশিয়ার বাকি তিনটি দল নেপালের মানাং মার্সিয়া দি ক্লাব, মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস ক্লাব ও আফগানিস্তানের শাহীন আসমাই এফসি। এ ছাড়া কোরিয়া থেকে পোচেন সিটিজেন ক্লাব এবং কিরগিজস্তানের এফসি আলগা অংশ নিচ্ছে। আট দলের টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ড্রয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে আপাতভাবে ‘এ’ গ্রুপটিকেই শক্তিশালী মনে হচ্ছে। প্রত্যেক গ্রুপ থেকে সেরা দুই দল যাবে সেমিফাইনালে। ফাইনাল হবে আগামী ২ মার্চ।


মন্তব্য