kalerkantho


বাংলাদেশকে দেখে অবাক হইনি

ম্যাচ শেষ হতেই স্মারক হিসেবে একটা স্টাম্প তুলে নিলেন বিরাট কোহলি। নেবেনই তো। কী দুর্দান্ত ম্যাচই না গেছে তাঁর। টানা চতুর্থ সিরিজে ডাবল সেঞ্চুরি করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন, সঙ্গে টানা ষষ্ঠ সিরিজ জয়ে দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। এমন অর্জনের পর সংবাদ সম্মেলনে একগাদা গুণমুগ্ধ প্রশ্নকর্তার সামনে কোহলি—

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশকে দেখে অবাক হইনি

প্রশ্ন : আপনার নেতৃত্বে টানা ১৯ টেস্ট অজেয় ভারত। এটাকে নিশ্চয় আপনিও দারুণ অর্জন বলবেন?

বিরাট কোহলি : তা ঠিক।

তাই বলে ভাববেন না সবটাই হয়েছে আমার কারণে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিটা খেলোয়াড়ই ভালো করতে চায়। আমরা সবাইও ভালো খেলতে চাচ্ছি, এটাই পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। খেয়াল করে দেখবেন ২০১৬ সাল থেকে আমি বিস্তর রান করছি। তবে ২০১৫ সালে আমি বেশি রান না করার পরও ভারত কিন্তু অনেক ম্যাচ জিতেছে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ কি আপনার ভাবনার চেয়েও বেশি লড়াই করল?

কোহলি : না, আমি আগেও বলেছি যে এটা ব্যাটিং সহায়ক উইকেট। আপনি যদি বেসিক ক্রিকেট খেলেন, তাহলেই এমন উইকেটে রান করা সম্ভব। আমি আশা করিনি যে বাংলাদেশকে ২০০-২৫০ রানে গুটিয়ে দেওয়া যাবে। ওদের ব্যাটিং অর্ডারে বেশ কজন ভালো ব্যাটসম্যান আছে।

নিউজিল্যান্ডে ওরা ৫৮০ (আসলে ৫৯৫) রানের ইনিংস খেলেছিল। এমন উইকেটে ওই আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশ ভালো ব্যাটিং করবে বলেই ভেবেছিলাম। ওরা তা-ই করেছে। আর আমাদের কাজ ছিল বিরামহীন একটা ভালো জায়গায় বল করে যাওয়া। গত কয়েকটি ম্যাচে এভাবেই আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি। আমরা আমাদের নিয়েই বেশি ভাবি। আর সত্যি বলতে কী, বাংলাদেশের লড়াই করা দেখে আমি এতটুকু অবাক হইনি। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দারুণ লড়েছে।

প্রশ্ন : আপনার নিজের ব্যাটিং নিয়ে কিছু বলবেন?

কোহলি : (ঋদ্ধিমান) সাহাকে ছয় নম্বরে খেলাচ্ছি। তার মানে ব্যাটসম্যান হিসেবে আমাকে বাড়তি কিছু দায়িত্ব নিতেই হবে। আর উইকেটও ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো ছিল। তবে ২৪০ বলে ২০০ রান করার চিন্তা নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামিনি। সাধারণত আমি একটু সময় নিয়ে ব্যাটিং করি। কিন্তু এখানকার উইকেট আমাকে শট খেলায় উৎসাহী করেছে। ছন্দটা দ্রুত ধরে ফেলেছিলাম। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে ছন্দ পেয়ে যাওয়াটা ভালো ব্যাপার। আশা করি আসন্ন সিরিজেও সেটা অব্যাহত থাকবে।

প্রশ্ন : অধিনায়ক হিসেবে কি নিজেকে আগের চেয়ে পরিণত মনে হয়?

কোহলি : সত্যি বলতে কী, আপনি কতটা ভালো অধিনায়ক তার অনেকটাই নির্ভর করে আপনার দলটা কেমন। আরো সত্যি করে বললে, ফিল্ড সেট করতে তো সবাই-ই জানে। অধিনায়ককে শুধু নিশ্চিত করতে হয় পুরো দলের এনার্জি লেভেলটা যেন উঁচুতে থাকে। বোলিংটা যেন ঠিকঠাক জায়গায় হয়। মাঠে আমি চেষ্টা করি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে। তাই বাকিরাও অধিনায়ককে অনুসরণ করে। বিশেষ করে সার্কেলের ভেতরের ফিল্ডার এবং বোলাররা তত্পর থাকে নির্দিষ্ট প্ল্যানে নিজেদের কাজ করার ক্ষেত্রে। তবে কাজটা প্রথমে আমাকেই করে দেখাতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অধিনায়কের পক্ষে এর চেয়ে বেশি কিছু করার থাকে না। দলটাকে চাঙ্গা রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন : সামনেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। এর আগে বোলারদের, বিশেষ করে ফাস্ট বোলারদের পারফরম্যান্সকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

কোহলি : খুবই ভালো, বিশেষ করে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট বিবেচনায়। টস জেতাটা দারুণভাবে আমাদের পক্ষে গেছে। বড় স্কোর গড়লাম। তার পরও প্রথম ইনিংসে উইকেট নিতে আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। উমেশ, ভুবি এবং ইশান্ত—তিনজনই দারুণ বোলিং করেছে। তবে উমেশ সেরা। দ্বিতীয় ইনিংসেও তাই। তিন পেসারই ভালো করেছে। তবে এবার সেরা মনে হয়েছে ইশান্তকে। তবে আমাদের পেস বোলারদের আক্রমণাত্মক বোলিং করার মঞ্চ তৈরি হয় স্পিনারদের হাতে। স্পিনাররা এত ভালো বোলিং করে যে রান খরচ হওয়া নিয়ে পেসারদের বেশি ভাবতে হয় না। একজন অধিনায়ক হিসেবে এমন ভারসাম্যপূর্ণ বোলিং আক্রমণ পাওয়া দারুণ ভাগ্যের ব্যাপার। আমার কাছে ওরা সত্যিকারের ম্যাচ উইনার।


মন্তব্য