kalerkantho


খেলা শেষে

তিনটি দায়িত্বই উপভোগ করছি

সহজ স্টাম্পিং মিস করে নিজের উইকেটকিপিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেওয়া বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম হায়দরাবাদের সেঞ্চুরি দিয়ে গুণমুগ্ধদের আরেকবার মন্ত্রমুগ্ধও করেছেন। সেই তিনি সংবাদ সম্মেলনে এসে জানালেন হারলেও এই টেস্ট থেকে খুশি হওয়ার মতো অনেক কিছুও আছে।

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



তিনটি দায়িত্বই উপভোগ করছি

প্রশ্ন : টেস্টে নিজেদের উন্নতিটা কোথায় দেখছেন?

মুশফিকুর রহিম : যদিও আরো অনেক জায়গায় উন্নতি করার আছে। তবু উন্নতি তো অবশ্যই হচ্ছে।

আগে যেটা হতো, আমরা মাঝেমধ্যে এক-দুটি টেস্টে ভালো খেলতাম। এখন নিয়মিত ভালো খেলছি। গত বেশ কয়েকটি টেস্টেই আমরা লড়াইয়ে ছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি। দ্বিতীয় টেস্টে তো আল্লাহর রহমতে জিতেই গেছি। নিউজিল্যান্ডে আমরা দুই টেস্টেই তিন দিন সমান তালে লড়েছি। এখানে (হায়দরাবাদে) সাড়ে তিন দিন। এটাই পাঁচ দিন করতে হবে। আশা করি আরো কিছু টেস্ট খেললে আমরা এই জায়গাটিতেও উন্নতি করতে পারব।

প্রশ্ন : এই জায়গাটিতে উন্নতি করতে হলে আর কোন কোন জায়গায় উন্নতি দরকার বলে মনে করেন?

মুশফিক : আমার মনে হয় বোলিং ইউনিটে আমাদের উন্নতি করা দরকার। সেই সঙ্গে ফিল্ডিং ইউনিটেও। আমাদের এই দুই জায়গায় উন্নতি দরকার। আমাদের সাত ব্যাটসম্যান যেকোনো কন্ডিশনে কিছু হলেও রান করছে। দুটি ইনিংসের মধ্যে একটি ইনিংসে হলেও ভালো খেলছে। তো বোলিং ইউনিট যদি আরেকটু সাহায্য করে এবং ফিল্ডিং ব্যাকআপ করে, তাহলে দু-এক বছরের মধ্যে আমরা আরো ভালো টেস্ট দল হতে পারব।

প্রশ্ন : নিউজিল্যান্ড সফর থেকেই একটি সমস্যা লক্ষণীয়। সামনে আসা সুযোগগুলো ঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারা।

মুশফিক : অনেক সময় একজন নতুন খেলোয়াড়ের পক্ষে সামনে আসা সুযোগ কাজে লাগানো কঠিন হয়ে যায়। আপনারা যে রান আউটের কথা বললেন, সেটি অন্য কোনো সময়ে হলে মিরাজ আরামে ধরে স্টাম্পে লাগিয়ে দিত। কিন্তু ভারতের মতো দলের বিপক্ষে এই প্রথম খেলতে নামার ব্যাপারটি মাথায় থাকায় হয়তো ওরকম হয়ে থাকতে পারে। আমরা যদি এমন আরো তিন-চারটি   টেস্ট এভাবেই খেলতে পারি, তাহলে অন্তত এই ভুলগুলো আমাদের দিয়ে আর হবে না। যা ভবিষ্যতে টেস্ট জেতার ক্ষেত্রে আমাদের সহায়ক হবে। এসব নিয়ে আমরা কাজ করছি। শেষ কয়েকটি টেস্টে আমাদের সামনে অনেক সুযোগই তো এসেছিল। সেসব নিতে পারলে আমরা অনেক এগিয়ে থাকতে পরতাম।

প্রশ্ন : অনেকেই তো দলের সেরা ব্যাটসম্যানকে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পক্ষে। এ ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান?

মুশফিক : আমার টেস্ট ব্যাটিং গড় তো ৩৩ বা ৩৪-এর (৩৪.৫১) বেশি না। আমি কিভাবে দলের সেরা ব্যাটসম্যান হই? আমি যদি দুটি বা তিনটি দায়িত্বে থাকি, তার মানে বোর্ড বা ম্যানেজমেন্ট আমার ওপর আস্থা রাখছে। আমার কাজ হলো তিনটি দায়িত্বই ভালোভাবে পালন করা। আমি যদি ভালো করতে না পারি, তাহলে তারা যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

তবে আমি তিনটি দায়িত্বই উপভোগ করছি। কারণ আমি মাঠে থাকতে ভালোবাসি। আমার মাঠে সময় কাটানোর উপায় হলো  সেখানে দায়িত্ব পালন করা, ড্রেসিংরুমে বসে নয়। আমি আমার সব দায়িত্ব ভালোবাসি। তার পরও পছন্দ না হলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার লোক আছে বাইরে। তবে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করলে বলব, আমি তিনটিই দারুণ পছন্দ করি। আর নেতৃত্বও আমার হাতে নেই। বোর্ড চাইলে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

প্রশ্ন : দ্বিতীয় ইনিংসে চড়াও হতে গিয়ে আউট হয়েছেন। এর ব্যাখ্যা কী?

মুশফিক : পরিকল্পনা ছিল ইতিবাচক থাকব। পঞ্চম দিনের উইকেট, যদিও পঞ্চম দিনের প্রথাগত ভারতীয় উইকেট নয়। তার পরও রাফ ছিল উইকেটে। সেটাও কঠিন। তো অশ্বিন যদি একই লাইনে বল করে যেতে থাকে এবং ঘিরে থাকে অনেক ফিল্ডার, তাহলে সে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। সেই ভাবনা থেকে আমি চেয়েছি পায়ের ব্যবহার করতে এবং অশ্বিনের লাইন-লেন্থ একটু এলোমেলো করে দিতে। শটটা খারাপও ছিল না। স্রেফ ঠিকভাবে লাগেনি। কারণ কয়েক ওভার আগেই জাদেজাকে রিভার্স সুইপ খেলেছি অফ স্টাম্পের বাইরের বলে, দারুণভাবে লেগেছিল ওটা। অশ্বিনের ক্ষেত্রে ঠিকঠাক হয়নি। ফিল্ডার ভেতরে ছিল, বাউন্ডারি মারলে ফিল্ডার পিছিয়ে নিত ওরা। তখন সিঙ্গেল নেওয়া সহজ হতো। এটিই ছিল ভাবনা। হতে পারত যে আরো তিন-চার ওভার থাকার পর অশ্বিনকে ওই শট খেলতে পারতাম। আমিও এই ভুল থেকে শিখব।

প্রশ্ন : প্রথম ইনিংসে সাকিব আল হাসানের আউট হওয়ার ধরন নিয়েও তো প্রশ্ন উঠেছে।

মুশফিক : ডিফেন্স করে কখনোই কোনো ম্যাচ বাঁচানো যায় না  কিংবা ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। সাকিব তো আজ (গতকাল দ্বিতীয় ইনিংসে) একটা বলও মারতে যায়নি, তার পরও আউট হয়ে  গেছে। আমি প্রথম ইনিংসে একটি বাজে শটও খেলিনি। তার পরও আউট হয়ে গেছি। এটা আসলে বলা যায় না কখন কে কিভাবে আউট হবে। অনেকে বলতে পারে ওই বলটা মারা উচিত হয়নি। না মারলেই যে সারা দিন খেলা সম্ভব, তাও তো বলা কঠিন।  

প্রশ্ন : কী করলে এই টেস্টে আরো ভালো করা যেত?

মুশফিক : আমরা অনেক সুযোগ পেয়েছি এবং সেগুলো হাতছাড়াও করেছি। প্রথম ইনিংসে ওদের যদি সাড়ে ৫০০ রানেও আটকাতে পারতাম, তাহলে হয়তো দ্বিতীয় ইনিংসে ওরা আরেকটু সময় ব্যাট করত। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ইনিংসে চার সেশনের বদলে তিন সেশন ব্যাট করতে হতো আমাদের। তখন ব্যাপারটি অন্য রকম হতে পারত। প্রথম ইনিংসে তাই ১৫০-১৭০ রান বেশি দিয়ে ফেলেছি আমরা। ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে উইকেটও দারুণ ছিল। প্রথম চার ব্যাটসম্যানের কেউ বড় স্কোর করলে আমরা ওদের প্রথম ইনিংসের রানের কাছাকাছি যেতে পারতাম। অন্তত ৫৫০ করতে পারতাম।


মন্তব্য