kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

বাচ্চাদের কিভাবে শেখাতে হয় শিখেছি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গামাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে কাজ করা কোচদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। তিন দিনের সেই প্রশিক্ষণে আসা সিলেটের সৈয়দ আরজুমন্দ আলী স্কুল দলের কোচ এ টি এম মাসুদ আহমেদ কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে কথা বলেছেন এই কর্মশালা নিয়ে

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাচ্চাদের কিভাবে শেখাতে হয় শিখেছি

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : এই তিন দিনে কেমন অভিজ্ঞতা হলো?

 

এ টি এম মাসুদ আহমেদ : যথেষ্ট অভিজ্ঞতা হয়েছে। শেখার তো শেষ নেই, তবু এই অনেক দূর শেখা হয়েছে। যদি আরো একটু বেশি সময় নিয়ে বছরে অন্তত দুবার এমন আয়োজন হতো তাহলে তৃণমূল থেকে আমরা আরো ভালো ফুটবলার উপহার দিতে পারতাম।

প্রশ্ন : ঠিক কী কী শেখানো হয়েছে আপনাদের?

মাসুদ : ফুটবল খেলার কৌশলের তো নানা ধাপ আছে। আমরা এখানে আমাদের অভিজ্ঞতার বাইরেও নতুন কিছু শিখেছি। আর শিখেছি বাচ্চাদের কিভাবে শেখাতে হবে সেটা। তাদের শেখাতে হবে ধৈর্য নিয়ে, এমন আচরণ কর যাবে না যাতে ওরা ভয় পেয়ে পায়। খারাপ করলেও ওদের প্রেরণা দিতে হবে।

প্রশ্ন : আপনার স্কুল বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, এত দূর আসতে পারাটা কতটা কঠিন?

মাসুদ : ২০১৪-তেও আমরা বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বে খেলেছি বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে। এবার উঠেছি দ্বিতীয়বারের মতো। আমাদের খেলাটা শুরু হয় ইউনিয়ন থেকে।

সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম। তবে ইউনিয়ন থেকে উপজেলা আর উপজেলা পেরিয়ে জেলা পর্যায়ে ওঠার পর লড়াইটা হয় হাড্ডাহাড্ডি। দুটি ধাপ পেরিয়ে তখন সবগুলো দলই একটা ভালো অবস্থায় পৌঁছে যায়।

প্রশ্ন : সেখানে আপনার দল সেরা হলো কিভাবে?

মাসুদ : আমার দলের ছয়টি মেয়ে ভালো করছে। আগে ওরা এই টুর্নামেন্টে খেলেছে। এবার ওরা ক্লাস ফাইভে। ওদের খেলা এখন আরো ভালো হয়েছে। সবার মধ্যে বোঝাপড়াও ভালো। মাঠটা ওরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে। সে কারণেই চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি।

প্রশ্ন : পড়ালেখার পাশাপাশি মেয়েরা কতটা আগ্রহী খেলাধুলায়?

মাসুদ : অনেক। তবে কি, শেষ পর্যন্ত গরিব ঘরের মেয়েরাই দলগুলোতে থাকে। সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েদের অভিভাবকরা খেলতে দিতে চায় না। অনেকে নানা রকম কুৎসা রটায়। গরিব ঘরের মেয়েরা আসে, সরকার থেকে ওদের যদি কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে ওরা আরো উৎসাহ পাবে।

প্রশ্ন : আপনার সম্পর্কে বলুন...

মাসুদ : আমি ছোটবেলা থেকে ফুটবল খেলেছি। ফুটবল এখনো আমার নেশা। আরজুমন্দ আলী স্কুলটা প্রতিষ্ঠার সময় থেকে জড়িয়ে আছি, এখনো কমিটির সদস্য। আমি চাকরি করি ভূমি অফিসে। সেই চাকরির ফাঁকে ফাঁকেই মেয়েদের সময় দেই।

প্রশ্ন : স্কুলগুলোতে ক্রীড়া শিক্ষকও তো প্রয়োজন?

মাসুদ : তাতো অবশ্যই। স্কুলে ক্রীড়া শিক্ষক, খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকলে ছেলেদের পড়াশোনা আরো বেগমান হবে।


মন্তব্য