kalerkantho


পারবেন তাঁরা?

আরো একবার মুশফিকের শ্রেষ্ঠত্ব

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আরো একবার মুশফিকের শ্রেষ্ঠত্ব

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘আমার মতে এই মুহূর্তে ও-ই আমাদের সেরা ব্যাটসম্যান’—হায়দরাবাদ টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসা ব্যাটিং কোচ থিলান সামারাবীরা এমন সার্টিফিকেট কাকে দিলেন, সেটি তো দিবালোকের মতোই স্পষ্ট। টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে অন্যদের সঙ্গে যে নিজের ব্যবধানও এখন আরো স্পষ্ট করে তুলেছেন মুশফিকুর রহিম। গতকাল তাঁর ১২৭ রানের ইনিংসটি টেস্টে মাত্রই তাঁর পঞ্চম সেঞ্চুরি। তুলনায় আটটি সেঞ্চুরি নিয়ে বেশ এগিয়ে তাঁর দলেরই ওপেনার তামিম ইকবাল। সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের নামের পাশেও তো ছয়টি টেস্ট সেঞ্চুরি। কিন্তু সেঞ্চুরি সংখ্যায় সাকিব আল হাসান ও মমিনুল হককে (দুজনেরই চারটি করে সেঞ্চুরি) টপকে যাওয়ার দিন মুশফিক ছাড়িয়ে গেছেন নিজেরই নির্ধারণ করা সীমানাও। বাংলাদেশের হয়ে তিনটির বেশি দেশে সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান তিনি ছাড়া আর কেউই ছিলেন না। আগের চারটি সেঞ্চুরির প্রত্যেকটিই ছিল ভিন্ন ভিন্ন দেশে। এবার পঞ্চম সেঞ্চুরিও করলেন পঞ্চম দেশেই!

এতেই প্রমাণিত যে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অনুকূল আর প্রতিকূল কন্ডিশনের বিভেদরেখাটা সবচেয়ে বেশি তুলে দিতে পেরেছেন মুশফিকই। সেটি সম্ভবত তাঁর চরম নিবেদনের পুরস্কারও। ব্যর্থতায় তাঁকে আরো বেশি অনুশীলনে মগ্ন হয়ে যেতে দেখা যায়।

দলের হয়তো দুপুর ১২টায় অনুশীলন সূচি নির্ধারিত, কিন্তু তাঁকে দেখা যায় ১১টার মধ্যেই এসে হাজির! মিরপুর স্টেডিয়ামে এটি নিয়মিত দৃশ্য। এমনকি মুশফিক নিয়মিত বাংলাদেশ দলের ঐচ্ছিক অনুশীলনেও। সেই বাড়তি শ্রমই হয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের শক্তি ও সাহস দেয় তাঁকে। যেটি দিয়েছে হায়দরাবাদ টেস্টেও। তাই গুণমুগ্ধ সামারাবীরাকে বলতে হয়, ‘ওর ম্যাচ পরিকল্পনাটা হয় জমাট। সেই সঙ্গে আছে ওর সাহসও। ’

ভারতের বিপক্ষে তাঁর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতেও প্রতিফলিত হয়েছিল সেই সাহস। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ভারতের প্রথম ইনিংস ২৪৩ রানে শেষ করে দেওয়ার পর বাংলাদেশও গুটিয়ে গিয়েছিল ২৪২ রানে। এরপর ভারতের ৪১৩ রানের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১৫ রানের টার্গেট পাওয়া স্বাগতিকরা দাঁড়িয়েই ছিল মুশফিকের ১০১ রানের ইনিংসে। সেবারও শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছিলেন, হায়দরাবাদের প্রথম ইনিংসেও তাই। ভারতের মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলতে যাওয়া মুশফিকের মাঝের তিনটি সেঞ্চুরিও ভিন্ন ভিন্ন দেশের ভিন্ন কন্ডিশনে। ২০১৩ সালের মার্চে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁর দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি দিয়ে ইতিহাসে নিজের নামটিও টুকে ফেলেছিলেন মুশফিক। সেটি যে ছিল টেস্টে কোনো বাংলাদেশির প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিও (২০০)। লঙ্কানদের ৫৭০ রানের প্রথম ইনিংসের জবাবটা তাই নিজেদের টেস্ট ইতিহাস সর্বোচ্চ ৬৩৮ রান তুলেই দিতে পেরেছিল বাংলাদেশ। তাঁর ডাবল সেঞ্চুরি শ্রীলঙ্কার মাঠে তাদের বিপক্ষে খেলে ড্র করার আনন্দেও ভাসিয়ে নিয়েছিল সফরকারীদের। মুশফিকের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিটি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট ভিনসেন্টে। যেটিও খুব চাপের মুখে খেলা। টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে ক্যারিবীয়দের রান পাহাড়ে চড়তে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সমালোচিত অধিনায়কের চাপে চিড়েচ্যাপ্টা হওয়ার দশা ছিল দল ফলোঅনে পড়ায়। সেখান থেকে তাঁর ১১৬ রানের ইনিংসই দলকে দেখিয়েছিল ইনিংস হার এড়ানোর পথ। এবার হায়দরাবাদেও সহজতম স্টাম্পিং মিস করে সমালোচনার মুখে পড়ার আগে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে কঠিনতম কন্ডিশনেও মুশফিক খেলেছেন ১৫৯ রানের ইনিংস। আঙুলের চোটের কারণে ক্রাইস্টচার্চে পরের টেস্ট খেলতে পারেননি অবশ্য। যে কারণে হায়দরাবাদের সেঞ্চুরি টেস্টে তাঁর টানা দ্বিতীয়। বাংলাদেশের হয়ে পর পর দুই টেস্টে সেঞ্চুরি অবশ্য আরো দুজন করেছেন। এঁদের মধ্যে তামিম একাই করেছেন দুইবার (২০১০ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে ও ২০১৪ সালে দেশে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে) আর মমিনুল একবার (২০১৩ সালে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে)। তবে মুশফিকের মতো পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন দেশে সেঞ্চুরি আর কারো নেই। তামিমের আট সেঞ্চুরির পাঁচটিই দেশে আর অন্য দুটি বিদেশে (ইংল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজে)। মোহাম্মদ আশরাফুলের ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশ সমান, ছয় সেঞ্চুরির  তিনটি বাংলাদেশে আর তিনটি শ্রীলঙ্কায়। মমিনুলের চারটিই দেশের মাটিতে!


মন্তব্য