kalerkantho


রানআউট করতে না পারার আফসোস

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রানআউট করতে না পারার আফসোস

ক্রীড়া প্রতিবেদক : একটি মাত্র রানআউটেই বদলে যেতে পারত হায়দরাবাদ টেস্টের প্রথম দিনের চেহারা। মুরালি বিজয় আর চেতেশ্বর পূজারা ভুল বোঝাবুঝিতে এক প্রান্তেই গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন।

এমন সুযোগ কেউ হেলায় হারায় নাকি!

কিন্তু বাংলাদেশ হারাল। ফিল্ডার কামরুল ইসলাম রাব্বির থ্রো-ও যেমন জমাট ছিল না, তেমনি নন স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়ানো বোলার মেহেদি হাসান মিরাজও যেন ভুলে গিয়েছিলেন এ ক্ষেত্রে বল ধরার জন্য কোথায় দাঁড়াতে হয়। পেছনে নয়, উইকেটের সামনে দাঁড়িয়েই ধরতে গেলেন বল। তাতে বলই হাত ফসকালো না শুধু, ৩৫ রানে দাঁড়ানো বিজয়কেও রানআউট করার দারুণ এক সুযোগ নষ্ট হলো। আর সেই সুযোগ নষ্টের খেসারতেই দ্বিতীয় উইকেটে ১৭৮ রানের পার্টনারশিপে সফরকারী দলের মনোবলও নষ্ট করে দেন বিজয়-পূজারা। দিনের শেষে ওই রানআউটের সুযোগটি কাজে লাগাতে না পারার হাহাকারও শোনা গেল বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসা তাসকিন আহমেদের মুখে। টেস্টের চতুর্থ বলেই উইকেট পাওয়া তরুণ এই ফাস্ট বোলার মনে করেন ওই রানআউটটি হলে দিনের শেষে ভারত কিছুতেই অতটা আধিপত্যের জায়গায় থাকতে পারত না, ‘ওই রানআউটটি যদি আমরা করতে পারতাম, তাহলে তিনটির জায়গায় আমরা ভারতের ৫-৬টি উইকেট ফেলতে পারতাম। ’

অবশ্য হায়দরাবাদ টেস্টের প্রথম দিনে যে ওই একটিই সুযোগ নষ্ট করেছে বাংলাদেশ, তা নয়। চেষ্টা করলে ক্যাচ বানানো যায়, এমন সুযোগও তাঁদের উদাসীনতায় চোখ এড়িয়ে গেছে।

যা দিনের শেষে ভারতের ৩ উইকেটে ৩৫৬ রান তুলে ফেলার ক্ষেত্রেও রেখেছে ভূমিকা। রানআউটের সুযোগ হারানো নিয়ে আফসোস করলেও তাসকিন এও বলে রাখলেন, ‘রানআউট কিংবা ক্যাচের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা তো ম্যাচেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। ’ তা ছাড়া এখন আফসোস করে তো আর হারানো সুযোগ ফিরেও আসবে না। তাই তাসকিন তাকাচ্ছেন সামনেই। ভারত বিশাল সংগ্রহের দিকে অনেক দূর এগিয়ে গেলেও এখনো বাংলাদেশ ম্যাচের বাইরে চলে যায়নি বলেই মনে করেন তাসকিন। এই তরুণ ফাস্ট বোলারের মতে তাঁদের ম্যাচে ফেরার সুযোগও আছে। কঠিন মনে হলেও তা সম্ভব বলে বিশ্বাস তাসকিনের, ‘এটা তো ভালো উইকেট। আর ধরুন যদি আমরা ওদের ৪৫০ রানের মধ্যে আটকে ফেলতে পারি, তাহলে ভালোই হবে। ’

দলের অবস্থা নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি তাসকিন সংবাদ সম্মেলনে শুনিয়েছেন তাঁর নতুন অভিজ্ঞতার কথাও। কিছুদিন আগে নিউজিল্যান্ডে তাঁর টেস্ট অভিষেক। ভারতীয় উপমহাদেশের উইকেটে টেস্টে বোলিং করার অভিজ্ঞতা এই প্রথম।

১৬ ওভারে দুটি মেডেনসহ ৫৮ রান খরচায় ১ উইকেট নেওয়া তাসকিনের প্রথম দিন শেষে উপলব্ধি, ‘আসলে এ ধরনের উইকেটে বোলারের ধৈর্য ধরাটা খুব জরুরি। এখানে বেশি বাজে বল করলেই ব্যাটসম্যানের কাজটা সহজ হয়ে যায়। বোলারকে তাই ধৈর্য ধরতে হবে ব্যাটসম্যানের ভুলের জন্য। ’ সেই সঙ্গে তিনি আরো যোগ করেছেন, ‘এটা আমার জন্য ছিল একেবারেই নতুন এক অভিজ্ঞতা। ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলছি, যেটি আবার ভারতের বিপক্ষে প্রথম। ফ্ল্যাট উইকেটে বোলিং করাটা নতুন অভিজ্ঞতাই। প্রথম ঘণ্টায় কিছুটা মুভমেন্ট থাকলেও পরে উইকেট ফ্ল্যাট হয়ে গেছে। তা ছাড়া ভারতের ব্যাটসম্যানরাও ভালো ব্যাটিং করেছে। ’ ম্যাচের চতুর্থ বলেই উইকেট নেওয়া তাসকিনের সঙ্গে ভালো বোলিং করছিলেন তাঁর নতুন বলের পার্টনার কামরুল ইসলাম রাব্বিও। পরের দিকে যদিও ধার হারিয়ে ফেলেছিলেন দুজনেই। সেটিরও ব্যাখ্যা মিলেছে তাসকিনের কাছ থেকে, ‘এই উইকেটে ধৈর্য নিয়ে বল করতে হবে। বলে যখন সুইং থাকবে না, তখন রিভার্স সুইং করানোর চেষ্টা করতে হবে। আমি রিভার্স সুইং করানোর চেষ্টা করে কিছুটা সফলও হয়েছি। কিন্তু এটাও তো মানতে হবে যে ভারত বিশ্বের সেরা দল। ওরা খুব ভালো সামলে নিয়েছে। তা ছাড়া পেস বোলার তো আমরা দুজনেই আছি। বাউন্সার আমিও যেমন করেছি, তেমনি কামরুলও। যেগুলো খুব একটা ওঠেনি, সেগুলো ওরা খুব ভালো খেলেছে। মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির পর শর্ট বল অনেক স্লো হয়ে গেছে। যে কারণে ওরা আরো সহজে খেলতে পেরেছে। প্রথম দিকে আমাদের করা বাউন্সারগুলো ভালোই ছিল। কিন্তু পরের দিকে উইকেট স্লো হওয়ার কারণে অত ওঠেওনি আবার ওদের পক্ষে খেলা সহজও হয়েছে। ’

 


মন্তব্য