kalerkantho


অ্যাথলেটিকসে হচ্ছেটা কী!

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অ্যাথলেটিকসে হচ্ছেটা কী!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গৌরব হারিয়ে দেশের অ্যাথলেটিকস এখন খুবই করুণ। প্রতিদিনই যেন একটু একটু করে পিছিয়েছে। সর্বশেষ দায়টা অবশ্যই ইব্রাহীম চেঙ্গিসের বিদায়ী কমিটির। অ্যাথলেটিকসের অধোগামিতার পাশাপাশি বিদায়ী কমিটির বিরুদ্ধে অর্থনেতিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত পরশু। মেয়াদের শেষদিকে ফেডারেশন সভাপতিকে না জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদক মিলে তুলে নিয়েছেন ২০ লাখ টাকা। এই অভিযোগ তুলে ফেডারেশন সভাপতি এ এস এম আলী কবির বলেছেন, ‘গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে এ বছর ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ফেডারেশনের অ্যাকাউন্ট থেকে ২৫ লাখ টাকা তোলা হয়েছে। জাতীয় অ্যাথলেটিকসের জন্য পাঁচ লাখ টাকা ছাড়া বাকি ২০ লাখ টাকা কী জন্য তোলা হয়েছে, আমি জানিই না। সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদক মিলেই এই কাজটা করেছেন। ’ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম চেঙ্গিস ও অর্থ সম্পাদক মিজানুর রহমানের স্বাক্ষরে টাকা তোলা হয়েছে। দুজনকেই কারণ জানানোর চিঠি দিয়েছেন সভাপতি, ‘যখন আমি জেনেছি তখন ওই দুজনকে চিঠি দিয়ে টাকা তোলার কারণ জানতে চেয়েছি।

আমার কাছে মনে হয়েছে এটা বড় অনিয়ম এবং আর্থিক বিশৃঙ্খলা। ’ ৬ ফেব্রুয়ারি কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তার ঠিক আগে আগে অর্থাৎ ৫ থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে চার চেকে ১০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সোনালী ব্যাংক থেকে।

এর পরই সভাপতি অন্য মাধ্যমে খবরটা পেয়ে মাথায় হাত দিয়েছেন, ‘আসলে যখন টের পেয়েছি তখন সর্বনাশ হয়ে গেছে। এরপর নিজে উদ্যোগী হয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজড করে দিয়েছি। সত্যি বললে টাকা তোলা হয়েছে অভিনব কায়দায়। ’ অভিযুক্ত বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম চেঙ্গিস বলেছেন, ‘টাকা তোলার ইস্যুটা সভাপতিকে জানানো হয়নি, এটা ঠিক। তবে ফেডারেশনের কাজেই অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তোলা হয়েছে। এ ছাড়া আমারও কিছু পাওনা ছিল ফেডারেশনের কাছে। ’

এদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকেও নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের বিরুদ্ধে। এই প্রোগ্রামের সমন্বয়ক কামরুল ইসলাম কিরণ বলেছেন, ‘ইতিমধ্যে প্রতিভা অন্বেষণের জন্য ২২.২৮ লাখ টাকা নিয়ে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। তারা ৩১টি জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ শেষ করেছে বলে দাবি করলেও এ ব্যাপারে আমরা অবহিত নই। কারণ তারা আগে জানায়নি বলে মনিটরিং করতে পারিনি আমরা। ’ অ্যথলেটিকসের কার্যক্রমে মোটেও খুশি নন প্রতিভা অন্বেষণের প্রধান সমন্বয়কারী বাদল রায়। প্রোগ্রামের জন্য টাকা বরাদ্দ নিয়ে তারা যথাযথ কাজ করেছে কি না, তার সন্দেহ আছে। বিভিন্ন মাধ্যমে নামসর্বস্ব কার্যক্রমের কথা শুনেছেন তিনি। এ ব্যাপারেও ফেডারেশনের সভাপতি কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন ইব্রাহীম চেঙ্গিসকে, ‘তিনি ফেডারেশনের প্রধান এক্সিকিউটিভ হলেও ক্রীড়া পরিষদের প্রতিভা অন্বেষণ নিয়ে প্রথমে কিছুই জানাননি আমাদের। ক্রীড়া পরিষদের নিয়মানুযায়ী, একটি বাস্তবায়ন কমিটি করতে হবে। সেটাও তিনি করতে চাননি। পরে আমার হস্তক্ষেপে একটি কমিটি গঠন করা হলেও প্রতিভা অন্বেষণ হয়েছে খুবই দায়সারাভাবে। অথচ অ্যাথলেটিকসের চেহারা ফেরানোর জন্য ক্রীড়া পরিষদের এই উদ্যোগটা খুব উপযোগী ছিল। ’ বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবর আরো ভয়ংকর। প্রতিভা অন্বেষণের টাকা দিয়ে জেলায় জেলায় তারা অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের আগাম নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছে। টাকা তুলে দিয়েছে জেলার সংগঠকের হাতে। অ্যাথলেট খোঁজার কাজ হলে হলো নইলে ভোটের কাজ তো হলো। এখনো অবশ্য অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি।


মন্তব্য