kalerkantho


অপেক্ষা শেষে মাঠের লড়াইয়ে

ভারতের পুরো দল নিয়েই ভাবছি

টপ অর্ডারে লম্বা ইনিংস   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভারতের পুরো দল নিয়েই ভাবছি

শীর্ষ সাত ব্যাটসম্যান সবারই দায়িত্ব থাকে, প্রথম ভালো শুরু করে ইনিংসটাকে যত দূর সম্ভব বড় করা। টেস্ট ক্রিকেটে ৫০-৬০ রানের ইনিংস কখনোই যথেষ্ট নয়।

আশা করি সেই ব্যাপারে তারা (ব্যাটসম্যানরা) সচেতন আছে। আমি জানি তাদের সামর্থ্য আছে, আশা করি তারা যদি ভালো শুরু করতে পারে, তাহলে আমি নিশ্চিত তারাও অনেক বড় ইনিংস খেলতে পারবে। নিউজিল্যান্ডে বড় ইনিংস খেলার পরও আমাদের হারের বড় একটি কারণ হচ্ছে অন্য খেলোয়াড়দের সহযোগিতার অভাব। দলের সবাই এগিয়ে না এলে যেকোনো দলের জন্যই কাজটা কঠিন হয়ে যায়। খেলাটা দলীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে হতে হবে। আমি দেখতে মুখিয়ে আছি, আমাদের সেরা সাত ব্যাটসম্যান সবাই বড় রান করবে না। অন্তত দুই-তিনজন, যারাই বড় রান করবে তাদের সঙ্গে মিলে দলের সংগ্রহটাকে বড় করতে সাহায্য করবে। সবাই অনেক পরিশ্রম করছে। আশা করি মাঠে সেরাটা তারা দিতে পারবে।

সাব্বিরের কাছে প্রত্যাশা

ও-তো এক টেস্টে আগে দুই ইনিংসে দুটি হাফসেঞ্চুরি করেছে। ও যেখানে ব্যাটিং করে, তাকে যদি অন্য কেউ সাপোর্ট না দেয় তাহলে তার জন্য রান করাটা অনেকটাই কঠিন। ওকে নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। ওর জন্য একটা বড় সুযোগ। প্রথমবার এখানে ও খেলবে। সাব্বির নিজেও জানে দুটি হাফসেঞ্চুরি করার পরও দল হেরেছে। সে আরো রান করতে মুখিয়ে আছে। আশা করি সুযোগ পেলে বড় বড় ইনিংস খেলবে সাব্বির।

উইকেট

ভারতের উইকেট সাধারণত যেমন হয়, অনেকটা তেমনই। উইকেট অনেক শক্ত এবং বল ঘুরবে। দেখে মনে হয়েছে ব্যাটিংয়ের জন্য অনেক ভালো উইকেট। এখানে পেস বোলাররাও শুরুতে হয়তো কিছুটা সাহায্য পাবে। স্পিনাররা বাউন্স পাবে। দ্বিতীয় দিনের পর থেকে এখানে বল বেশি বাঁক নিতে থাকে। এটা ভালো উইকেট। এখন আমরা কিভাবে খেলি, কতটুকু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি, সেটাই দেখতে হবে।

তাসকিন-রাব্বির পেস বোলিং জুটি

তারা নিউজিল্যান্ডে ভালো বোলিং করেছে। কিন্তু তাদের কাছে আমার চাহিদা এবং প্রত্যাশা আরো বেশি। কেননা যতই ভালো বোলিং করুক, উইকেট না পেলে তো আর টেস্ট ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। আমাদের তাদের প্রতি বিশ্বাস আছে, তারা এর চেয়ে আরো বেশি ভালো করার সামর্থ্য রাখে। তবে শুধু ওরা নয়, এখানে আমাদের স্পিনাররাও ভালো একটা ভূমিকা রাখুক, এটাও চাইব। এখানে আমরা যে বলে খেলি সেটা রিভার্স সুইং করে। আমার মনে হয়, পেসাররা যদি বলের কাজ দেখাতে পারে তাহলে ভারতের ওপরের ব্যাটসম্যানদের আমরা সমস্যায় ফেলতে পারব।

এই বছরে বেশি টেস্ট

১১ বছর ধরে ক্রিকেট খেলছি। আমার ক্যারিয়ারে এমন মৌসুম এর আগে আমি পাইনি। দুই-আড়াই বছর পর বিদেশের মাটিতে আমরা টেস্ট খেলেছি। এটা কখনোই একটা টেস্ট দলের জন্য কাম্য হতে পারে না। আমার মনে হয় এই বছরটা যদি আমরা ভালোভাবে খেলতে পারি, আমাদের যে সুযোগটা এসেছে, সেটা কাজে লাগাতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব ফল যেন আমাদের পক্ষে আসে। টেস্ট ক্রিকেটের চেয়ে বড় অভিজ্ঞতা আর কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশ দল আরো বেশি উন্নতি করবে যখন তারা আরো বেশি টেস্ট খেলতে পারবে।

কোহলি ও অশ্বিন

বিরাট কোহলি আর অশ্বিন অনেক উঁচু মাপের ক্রিকেটার। তবে তারা দুইজন ভালো করেই জানে যে জিততে হবে মাঠে খেলে। ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড সিরিজ বলেন অনেকেই কিন্তু দারুণ পারফরম্যান্স করেছে। পূজারা ও লোকেশ রাহুল অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। তাদের পেস বোলারদের যখন ব্রেক থ্রু দেওয়ার দরকার ছিল তারা দিয়েছে। হয়তো ৫-৬ উইকেট পায়নি। কিন্তু অবদান রেখেছে। টেস্টের এক নাম্বার দল হিসেবে ভারতের সবচেয়ে বড় অর্জন এটাই। দল হিসেবে তারা খেলছে। সর্বশেষ ইংল্যান্ড সিরিজে ভারতের মিডল অর্ডার ও লেট মিডল অর্ডারে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে গেছে। তাই আমার মনে হয়, শুধু দুজনই নয় ভারতের পুরো দল নিয়েই ভাবতে হবে।

 


মন্তব্য