kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

মোহামেডানের সঙ্গে নাড়ির টান অনুভব করি

খেলা ছাড়ার পর মোহামেডান ক্লাবের দীর্ঘদিনের ম্যানেজার ইমতিয়াজ সুলতান জনি। মোহামেডানের দুঃসময়ে আবার এই তারকা পাশে দাঁড়িয়েছেন। দুর্দশা থেকে টেনে তোলার দাবি নিয়ে পরশু সভা করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে এই তারকা মুখোমুখি হয়েছেন কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের।

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মোহামেডানের সঙ্গে নাড়ির টান অনুভব করি

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : মোহামেডানকে ফেরানোর জন্য যে সভা হয়েছে, সেখানে তো আপনিও উপস্থিত ছিলেন...

ইমতিয়াজ সুলতান জনি : শুধু আমি নই, বিশেষ করে মোহামেডানের সাবেক ফুটবলার এবং আগের অফিশিয়ালসহ অনেকেই এ সভায় উপস্থিত ছিল। এবার ফুটবলের রেজাল্ট দেখার পর আমরা সবাই আসলে হতাশ। এ দুর্দশা থেকে দলটিকে বের করে আনা উচিত, এ উপলব্ধি থেকেই বর্তমান অফিশিয়ালদের কাছে আমরা বসার প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। তারা সাড়া দিয়ে আমাদের ডেকেছেন। আমাদের মূল দাবিই ছিল ক্রীড়াঙ্গনে ক্লাবটির ভাবমূর্তি ফেরানো। এ ব্যাপারে সবাই ঐকমত্য প্রকাশ করেছে সভায়।

প্রশ্ন : হঠাৎ করে এ রকম এক উদ্যোগের কারণ কী?

জনি : সভাটা এ রকম হঠাৎ হয়েছে। তবে সবার মনের কথা এক, মোহামেডানকে ফেরাতে হবে। দেখেন, কোনো খেলাতেই এখন আর মোহামেডানের আধিপত্য নেই। শক্তিশালী দলই হয় না এখন। গত ১০-১২ বছর ধরে ফুটবলে আমাদের ক্লাবের খুব বাজে অবস্থা।

তেমনি অন্যান্য খেলায়ও, সত্যি বললে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এই ক্লাবের যত অবদান গত এক যুগ ধরে তার ধারেকাছে নেই তারা। বর্তমান অফিশিয়ালরাও সেটা স্বীকার করে উত্তোরণের পথ খুঁজছেন।

প্রশ্ন : সভার পর ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়া ও মনিরুল হক চৌধুরীর মুখে ঐক্যের কথা শোনা গেছে। তবে ক্লাবের নির্বাচন কিংবা লিমিটেড কম্পানি কোনো অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না তো?

জনি : পরিচালনা পরিষদের সবাই ছিলেন না সভায়। তবে ডিরেক্টর ইনচার্জ ছিলেন। তিনিও আমাদের স্পিরিটের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন এবং ক্লাব প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। কাজটা কঠিন। কারণ অনেক দিন একই ধরনে চলে এসেছে। সেখান থেকে ফেরাতে গেলে কঠিন প্রতিজ্ঞা এবং সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতা খুব প্রয়োজন।

প্রশ্ন : ক্লাবের প্রতি যে অনুভূতি নিয়ে আপনারা সভায় বসেছেন, সেটা কি মোহামেডানের বর্তমান অফিশিয়ালদের সবার আছে?

জনি : অনুভূতি একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। আমি প্রথমে ছিলাম সমর্থক, তারপর খেলোয়াড় এবং শেষে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছি। তাই ক্লাবের প্রতি আমরা নাড়ির টান অনুভব করি। আমাদের বেশির ভাগ ফুটবলারই সেটা অনুভব করে। ক্লাবটির চেহারা ফেরানোর জন্য বর্তমান অফিশিয়ালদেরও সে রকম অনুভূতি থাকতে হবে।

প্রশ্ন : দুর্দশা থেকে ফেরানোর জন্য অর্থ কী বড় বাধা?

জনি : অর্থ একটি বাধা, তবে সব নয়। আবার অর্থ দিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ পাওয়া যায় না। একটা দলকে সেরায় রূপ দিতে হলে কোচ, খেলোয়াড়, ম্যানেজার এবং ক্লাবের সামগ্রিক প্রাশসনের ক্রীড়ামুখী হতে হবে। আমরা চাই, ফুটবলের আগামী দলবদল থেকে ইতিবাচক প্রভাব পড়ুক।


মন্তব্য