kalerkantho


ছক এঁকেছেন মেহেদী মিরাজ

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ছক এঁকেছেন মেহেদী মিরাজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ছোট্ট টেস্ট ক্যারিয়ারে তাঁকে দেখে কখনো মনেই হয়নি যে ভালো ব্যাটিংয়ের জন্যও সুনাম ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের। এই অলরাউন্ডারের পরিচয়টা তাই এখন শুধুই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশকে টেস্ট জেতানো অফস্পিনার হয়ে যাওয়ার পথে।

কিন্তু মিরাজ তা হতে দেবেন কেন? এ জন্যই কাল বাংলাদেশ দলের ছুটির দিনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ব্যাটসম্যান হিসেবেও নিজেকে মেলে ধরার প্রতিজ্ঞা ফুটে উঠল তাঁর কথায়, ‘বিশ্বাস আছে যে ব্যাটিংয়েও আমি নিজেকে ফিরে পাব। হয়তো এখন হচ্ছে না। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খুব কঠিনও। চেষ্টা করছি মানিয়ে নিতে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি ব্যাটিংয়েও পারফর্ম করতে শুরু করব। ’

অবশ্য হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ঐতিহাসিক টেস্টের আগে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং ভাবনায় মিরাজের ঠাঁই নেই তেমন। দলের শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যানদের ঘিরেই যত প্রত্যাশা। সেটি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে ভালো খেলতে খেলতেও পথ হারিয়ে গর্তে না পড়ার। একই সঙ্গে স্পিন উপযোগী উইকেটে এবার স্পিনারদের কাছেও প্রত্যাশা কম নয় বাংলাদেশ শিবিরের।

সেটি পূরণের সাধ্যানুযায়ী চেষ্টার প্রতিশ্রুতি মিললেও মিরাজ মনে করিয়ে দিতে ভুললেন না, ‘এখানে হয়তো উইকেট থেকে স্পিনাররা সাহায্য পাবেন। কিন্তু ভারতীয় দলেও তো অনেক বড় ব্যাটসম্যানরা আছেন। কাজেই এটা আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জও। ’ তবু ভারতের মাটিতে তাঁদের বিপক্ষে ভালো করার বিশ্বাসটা গভীর বলেও জানালেন গত অক্টোবরে মিরপুর টেস্টে ইংল্যান্ডবধের নায়ক, ‘অবশ্যই আমাদের সবার আত্মবিশ্বাস ভালো জায়গায় আছে। নিউজিল্যান্ডে সবাই খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। আশা করি এখানেও সর্বোচ্চটা দিতে পারলে ফল আরো ভালো হবে। কারণ আমরা এই প্রথম ভারতে টেস্ট খেলতে এলাম। ভারতের সঙ্গে সচরাচর আমাদের খেলাও হয় না। চেষ্টা করব নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার। ভারতের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার জন্য আমরা সবাই মানসিকভাবে প্রস্তুতও আছি। ’

ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টেই ১৯ উইকেট নেওয়া মিরাজ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধ কন্ডিশনে পরের দুই টেস্টে নিয়েছে ৪ উইকেট। সেই তিনি এবার আবার চেনা ভারতীয় উপমহাদেশের উইকেটে বোলিং করতে চলেছেন। কাজেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তির আশাও উসকে যাওয়া বিচিত্র নয়। কিন্তু মিরাজ সতর্কতার সঙ্গেই মনে করিয়ে দিতে চাইলেন, ‘সব সময় যে একই রকম পারফরম্যান্স হবে, এটা কেউই আগে থেকে বলে দিতে পারবে না। আমি শুধু চেষ্টাই করে যেতে পারি। ’ ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে অবশ্য বাংলাদেশের বোলাররা সুবিধা করে উঠতে পারেননি। তবে সেটিকে মূল ম্যাচের পারফরম্যান্সের পূর্বাভাস ধরে নিলে যে ভুল হবে, মিরাজ সম্ভবত সে ইঙ্গিতও দিয়ে রাখতে চাইলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই ম্যাচটি খেলে এখানকার কন্ডিশনটা আমরা বুঝতেও পেরেছি। এই ম্যাচ খেলে আমরা বুঝেছি যে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। সে জন্য চায় চড়াও হয়ে খেলতেও। আমরাও তাই সেভাবেই আমাদের পরিকল্পনা সাজাব। নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে কিভাবে ওদের রান করা আটকানো যায়, আমরা এখন সেটারই অনুশীলন করছি। ’ তাঁর মতে, ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আটকানোর ফর্মুলা হলো, ‘রান আটকাও, উইকেট নাও। ’ বুদ্ধির জোরেই তাঁদের সঙ্গে পেরে ওঠার পরিকল্পনার কথা জানালেন মিরাজ, ‘রান চেক দেওয়া বোলিং করতে হবে। তাহলে ওরাই হতাশ হয়ে চড়াও হতে গিয়ে উইকেট দেবে। ওদের সঙ্গে জোর করে কিছু করতে পারবেন না। ’ উইকেট নেওয়ার চেষ্টায় নিজেকেও এলোমেলো করে ফেলতে চান না এই তরুণ, ‘ব্যক্তিগত লক্ষ্য হলো নিজের শক্তি অনুযায়ী বোলিং করা। আমার শক্তি হলো ভালো জায়গায় বোলিং করা। সব সময় এই চেষ্টাই করি। উইকেট নেওয়ার জন্য কখনোই বোলিং করি না। উইকেট নেওয়ার জন্য বোলিং করলেই অনেক সময় এলোমেলো হয়ে যাই। তাই শুধু ভালো জায়গায় বোলিং করার চেষ্টাই থাকে। ’


মন্তব্য