kalerkantho


আম্পায়ারের মুখে বল মেরে...

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আম্পায়ারের মুখে বল মেরে...

পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে! ডেনিস শাপোভালভের ব্যাপারটা এমনই। মেজাজ হারিয়ে র‌্যাকেট দিয়ে বল ছোড়া বিতর্কিত হলেও নিয়মিত টেনিসে। সেই বলগুলো যায় গ্যালারিতে। দর্শকরাও রেখে দেন স্মারক হিসেবে। কিন্তু গতপরশু অভাবিত কাণ্ড ঘটল ডেভিস কাপে। ইংল্যান্ড-কানাডার সমতা ছিল ২-২-এ। ইংল্যান্ডের কাইল এডমুন্ড আর কানাডার টিনএজার ডেনিস শাপোভালভ লড়ছিলেন এককে। যিনিই জিততেন কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছত তাঁর দল। সেই চাপেই তৃতীয় সেটে ভুলটা করলেন শাপোভালভ। তাঁর একটা রিটার্ন পড়ে লাইনের বাইরে। মেজাজ হারান তাতে।

পকেট থেকে একটা বল বের করে র‌্যাকেট দিয়ে মারেন প্রচণ্ড জোরে। সেটা গিয়ে লাগে আম্পায়ারের মুখে। বাঁ চোখের নিচে আইসপ্যাক দিয়েও কালসিটে পড়ায় তাঁকে নিতে হয় হাসপাতালে।

শাস্তি হিসেবে সঙ্গে সঙ্গে ডিসকোয়ালিফায়েড ১৭ বছর বয়সী শাপোভালভ। আর ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখায় ইংল্যান্ড। ডেভিস কাপের ১১৭ বছরের ইতিহাসে এমন কাণ্ড ঘটল এবারই প্রথম। এ জন্য ক্ষমা চাইলেন উইম্বলডনের বালক এককের চ্যাম্পিয়ন শাপোভালভ, ‘আমি ক্ষমা চাইছি। এমন কিছু হবে দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। এটা যে ইচ্ছে করে নয় নিছক দুর্ঘটনা, আশা করছি বুঝবেন সবাই। ’ বলটা আম্পায়ারের চোখের নিচে লাগার পর বিব্রত এই টেনিস খেলোয়াড় ছুটে যান তাঁর দিকে। প্রচণ্ড জোরে মারায় আম্পায়ারের অবস্থা অনুমান করতে পারছিলেন তিনিও। বাঁ চোখে বরফ লাগিয়ে ব্যথা না কমায় আম্পায়ার ছুটে যান হাসপাতালে। ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। শাস্তি হিসেবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে কানাডাকে।

তার পরও শাপোভালভের পাশেই কানাডার অধিনায়ক মার্তিন লরেনদিউ, ‘এমন কিছু কল্পনায় ছিল না কারো। ওর বয়স কম, মেজাজ হারিয়ে একটা ভুল করে ফেলেছে। এই ভুল থেকে ভবিষ্যতে শিখবে নিশ্চয়ই। উইম্বলডনের মতো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শাপোভালভ। উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে ওর জন্য। ’ সমবেদনা জানিয়েছেন সাবেক নাম্বার ওয়ান ইয়েভগেনি কাফেলনিকভও, ‘বাচ্চাটার ওপর কঠোর হবেন না দয়া করে। নিজেদের ক্যারিয়ারেও এমন অসংখ্য বোকামি করেছি আমরা। ’

১৯৯৫ সালে উইম্বলডনে এমন দুর্ঘটনায় টিম হেনম্যান বল মেরেছিলেন এক বল গার্লের শরীরে। তবে নিষিদ্ধ হননি তিনি। ২০১২ কুইন্স টুর্নামেন্টের ফাইনালে দাভিদ নালবানদিয়ানের লাথি লেগেছিল লাইন জাজের শরীরে। আট হাজার পাউন্ড জরিমানা হলেও নিষিদ্ধ হননি নালবানদিয়ান। তবে ছাড় পেলেন না শাপোভালভ। ডেইলি মেইল


মন্তব্য