kalerkantho


মোহামেডানে ঐক্যের সুর

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মোহামেডানে ঐক্যের সুর

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মোহামেডানে হঠাৎ ঐক্যের সুর বেজে উঠেছে। এই সুরে ক্ষমতার আস্ফাালন কিংবা ক্ষমতাহীনের আর্তিকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠছে সাদাকালোর মাঠের ঐশ্বর্য ফেরানোর ব্রত।

গত এক দশক ধরে চলছে মোহামেডানের ঐতিহ্য হারানোর গল্প। একসময় মাঠে ছিল তাদের সদম্ভ উপস্থিতি। ক্রিকেট-ফুটবল-হকি কিংবা যেকোনো ছোট খেলাতেও তারা মাঠে নামত সেরা হওয়ার জন্য। অর্জনের গল্প সে অনেক। সব সময় হয়তো পারত না, তবে দল গঠন থেকে খেলা পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মরিয়া চেষ্টাই তো একটি পরাক্রমশালী দলের মুখ্য চরিত্র। সেই চরিত্র হারিয়ে হালের মোহামেডান পুরনো জমিদার বাড়ির চেহারা নিয়েছে। জমিদারি গেছে, ঐতিহ্য গেছে, আছে শুধু হারিয়ে যাওয়া সোনালি দিনের গল্পগুলো। ক্লাবের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুরনো সমর্থকরা। এখনকার মোহামেডান শিরোপার দল গড়ে না, এমনকি দল গড়ার ভয়ে কখনো কখনো ‘খেলব না’ বলে বেঁকে বসে নানা বাহানায়।

অবস্থা এতটাই সঙ্গীন যে মোহামেডান এখন রেলিগেশন এড়ানোর জন্য লড়ে! এই কঠিন বাস্তবতা দেখে যেন মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারেননি মনিরুল হক চৌধুরীরা। তাঁর অনুসারী সালাম-বাদলসহ অনেকে অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে ২০১১ সালের ক্লাব নির্বাচন বয়কট করেছিলেন। ডাকসাইটে সংগঠকদের অনুপস্থিতিতে ক্লাবের পরিচালনা পরিষদও হয়ে পড়ে সাদামাটা।

সব তিক্ততা ভুলে মনিরুল হক চৌধুরীরা গতকাল সদলবলে মোহামেডান ক্লাবে হাজির হয়েছিলেন ‘মোহামেডান বাঁচাও’ ডাক দিয়ে। শুধু সংগঠকরা নয়, হাজির হয়েছিলেন সাবেক ফুটবলার, সমর্থকরাও। তাদের সঙ্গে বসে সভা করেছেন বর্তমান কমিটির পদাধিকারিকরা। সভা শেষে সাবেক সভাপতি মনিরুল হক চৌধুরী ও ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়ার পাশাপাশি দাঁড়ানোয় যেমন ঐক্যের সুর ফুটে ওঠে তেমনি মুখের কথায়ও। মনিরুল হক চৌধুরী ঐক্যের ডাক দিয়েছেন এভাবে, ‘মোহামেডানের আজকের দুরবস্থার জন্য আমাদের সবার দায় আছে। এই দুঃসময় সবাইকে আবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। ৭৭ সালেও মোহামেডানে দুর্দিন এসেছিল, পরের বছর আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফুটবলে। ক্লাবের ঐতিহ্য ফেরাতে এখন সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। ’ ৯ বছরের পেশাদার ফুটবলের জমানায় সাদাকালোর কোনো শিরোপা নেই, সর্বশেষ শিরোপা ২০০২ সালে। ক্রিকেটেও তারা সর্বশেষ শিরোপা জেতে ২০০৯ সালে। এমন দুঃসময়ে সবাইকে পাশে পেয়ে ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়াও খুশি, ‘আমি এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। কিভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব, একসঙ্গে কাজ করব—এসব নিয়েই আলোচনা হয়েছে সভায়। সামনে ফুটবল ও ক্রিকেটের দলবদল আছে, চ্যাম্পিয়ন দল গঠন করব আমরা। আমাদের উদ্দেশ্য যেসব ইভেন্টে মোহামেডান অংশ নেবে সবগুলোতেই ভালো দল করা। ’

মোহামেডান আবার চিরচেনা সাদাকালো জার্সিতে প্রবল প্রতাপে ফিরবে, এটা দারুণ সুখবর। এর সঙ্গে ক্লাবের নির্বাচনও জড়িয়ে আছে। বর্তমান পরিষদের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। নির্বাচন সম্পর্কিত জটিল বিষয়গুলোকে লঘু করে ক্লাবের সাবেক তারকা এবং ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেছেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো আলাপ হয়নি। আগে মাঠের পারফরম্যান্স, সাদাকালোর দোর্দণ্ড প্রতাপ নিশ্চিত করতে হবে মাঠে। তারপর অন্যসব নিয়ে কথা হবে। ’ তাঁর দাবি, ‘এই সভায় সমর্থক-সংগঠক-পুরনো খেলোয়াড় এবং বর্তমান অফিশিয়ালরাও ছিল। আলোচনা হয়েছে মোহামেডানকে ট্র্যাকে ফেরানোর ইস্যুতে। কারণ অনেক দিন ধরে মোহামেডান তার নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছে না মাঠে। দুঃসময় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। ’ দ্বিধাবিভক্ত মোহামেডানে ঐক্যের সুর। এই ঐক্যে সাদাকালো জার্সিতে আবার ঐশ্বর্য যোগ হওয়াটা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য দারুণ খবর।


মন্তব্য