kalerkantho


অবস্থান পরিবর্তনে স্বস্তি বিসিবিতে

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অবস্থান পরিবর্তনে স্বস্তি বিসিবিতে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান কমিটির সামনে কঠিনতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল দ্বি-স্তর বিশিষ্ট টেস্ট প্রচলনের পরিকল্পনা। দুবাইয়ে সদ্য সমাপ্ত তিন দিনব্যাপী বোর্ড সভার পর দুশ্চিন্তার সে মেঘ কেটে গেছে।

আগের দিন দেশে ফিরে গতকাল নিজ কার্যালয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানকেও তাই দেখিয়েছে নির্ভার।

২০১৪ সালে ‘বিগ থ্রি’ ঘটা করে ক্রিকেট বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারের যে ছক এঁকেছিল, তাতে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদাই পড়েছিল হুমকির মুখে। সবশেষ আইসিসির সভায় অন্তত সে ছক বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। নীতিগত সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত নয়, এপ্রিলে আইসিসির পরবর্তী সভাতেই পুনর্নির্ধারিত হবে বিশ্ব ক্রিকেট প্রশাসনের গতিপথ। তবে ৮-২ বদলে দ্বি-স্তরের ক্রিকেট ৯-৩ হওয়া এবং উত্তরণ ও অবনবন পদ্ধতি বাদ দেওয়ায় বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা যে পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত হচ্ছে, সে নিশ্চয়তা মিলে গেছে এরই মধ্যে। সেটাই নাজমুল হাসানের স্বস্তির অন্যতম কারণ, ‘টেস্টে কোনো উন্নতি-অবনতি থাকবে না। দ্বি-স্তরের টেস্ট চালু করার প্রাথমিক প্রস্তাবে যদিও এমনটাই উল্লেখ ছিল। ওয়ার্কিং পেপারে আমাদের অবস্থান সুরক্ষিত আছে। সেখানে দেখেছি এমন কিছু নেই, যাতে করে আমাদের কোনো সমস্যা হবে।

বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত খেলার সুযোগ আমরা পাব। ’

আইসিসির এ গতি পরিবর্তনে বাংলাদেশ দলের মাঠের সাফল্যের ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নাজমুল হাসান, ‘সব কৃতিত্ব আমাদের দলের। মাঠে তাদের নৈপুণ্য দেখার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্ব মনে করে আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে। বড় দলের বিপক্ষে খেলার অধিকার আমাদের রয়েছে। ’ জানা গেছে, সম্প্রতি দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট জয় আইসিসির অপরাপর সদস্য দেশগুলোর বাংলাদেশের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেওয়ায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

দ্বি-স্তরে টেস্ট প্রচলনের প্রাথমিক প্রক্রিয়ার সরাসরি বিরোধিতার শুরুটা অবশ্য করেছিল বিসিবি। আর সম্প্রতি তিন মোড়লের ‘পজিশন পেপার’ শুদ্ধিকরণের জন্য যে ওয়ার্কিং কমিটি গঠিত হয়, সে কমিটিতে ছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল। স্বভাবতই দ্বি-স্তরের টেস্ট থেকে উত্তরণ-অবনমনের প্রস্তাবনায় তাঁর ভূমিকাও রয়েছে। আর ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য থাকায় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভোটাভুটিতে অংশ নিতে হয়নি বিসিবি প্রধানকে। তাতে করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) বিরাগভাজনও হতে হয়নি বিসিবিকে।

এ সভায় আরো অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর্থিক বণ্টননীতিও ঢেলে সাজানোর প্রস্তাবনার পক্ষে ভোট পড়েছে। তাতে নিশ্চিতভাবেই ভারতীয় বোর্ডের আয় সংকুচিত হবে। আইসিসি থেকে আয় কমবে ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ডেরও। তাতে করে আইসিসির অন্যান্য সদস্য দেশের মতো বিসিবির আয়ও বাড়বে নিশ্চিতভাবে। তবে সেটা বেড়ে কত হবে, সেটি এখনই বলতে পারছেন না নাজমুল হাসান, ‘বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় আমাদের আয় কী পরিমাণ বাড়ছে, সেটি বলতে পারছি না। তবে অস্ট্রেলিয়া যা পাবে, আমরা সে পরিমাণ অর্থ পাব। ’

কিন্তু স্রেফ নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর শতভাগ নির্ভর করায় ঝুঁকি প্রবল। বিশেষ করে ভারতীয় বোর্ড যেখানে অখুশি। ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিবেদনের বিরোধিতা বিসিসিআই এরই মধ্যে করেছে। সঙ্গে পেয়েছে শ্রীলঙ্কার প্রকাশ্য এবং জিম্বাবুয়ের নীরব সমর্থন। বিশ্লেষকদের মতে, এপ্রিলে চূড়ান্ত ভোটাভুটির আগে নানা প্রলোভনে দল ভারী করবে বিসিসিআই। সংশ্লিষ্ট দেশকে দ্বি-পক্ষীয় সিরিজ কিংবা ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের প্রলোভন দেখিয়ে অতীতে অনেকবারই নিজেদের পক্ষে টেনেছে ভারতীয় বোর্ড। তার ওপর আইসিসির বোর্ড রাজনীতিতেও বিশেষ স্বার্থ আছে অনেক সদস্যের।

আপাত এ পরিবর্তন তাই কার্যকর হওয়া থেকে এখনো বহু পিছিয়ে। তবে বাংলাদেশের দুটি লাভ শতভাগ নিশ্চিত—টেস্ট অবনমনের শঙ্কা নেই এবং উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে আইসিসি থেকে প্রাপ্য ফান্ড। ভোটের বাজারে লাভের অঙ্ক বাড়তে পারে আরো!


মন্তব্য