kalerkantho


ক্যাচ পড়ায় বিচলিত নন ওয়ালশ

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ক্যাচ পড়ায় বিচলিত নন ওয়ালশ

সেকান্দারাবাদের জিমখানা গ্রাউন্ডের নেটটা সীমানাদড়ি ঘেঁষে। সেখানে দাঁড়িয়েই গতকাল সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। উল্টো ঘুরে ছিলেন তিনি, তাই দেখতে পাননি ঠিক তাঁর পেছনেই একটা ক্যাচ ফেলেছেন বাংলাদেশের সেরা ফিল্ডার বলে বিবেচিত সাব্বির রহমান। কভার থেকে মিড অনে দৌড়ে গিয়ে বল হাতে পেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু জমাতে পারেননি তিনি। ওটা দিনের দ্বিতীয় ক্যাচ ড্রপ; নিউজিল্যান্ড সফরে ফেলা সর্বমোট ২০টির সঙ্গে যোগ করলে সংখ্যাটা হায়দরাবাদ টেস্টে নামার আগে ২২। উদ্বিগ্ন না হয়ে উপায় কী!

কিন্তু ওয়ালশ তো আর দেখেননি ক্যাচ পড়ার দৃশ্যটি। আর দেখলেই বা কী করতেন? বোলারদের জীবনে ক্যাচ পড়ার হতাশা অভাবিত নয়। বাংলাদেশি বোলারদের বেলায় শুধু এ হতাশা নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে! ক্যাচ পড়লেও তাই হাসেন তাসকিন আহমেদ। তবে মনের গভীরে কি হতাশা কাজ করে না? বিশেষ সময়ে এমন একটি ক্যাচ ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেয় একটি দলকে, মানসিক অবসাদে ভুগতেই পারেন বোলার।

ওয়ালশের ক্লাসে কি এ নিয়ে অনুযোগ করেন তাসকিনরা? উত্তরে বরাবরের মতোই দার্শনিক কোর্টনি ওয়ালশ, ‘আপনি যখন মাঠে নামছেন, তখন ধরেই নেবেন ক্যাচ পড়তে পারে। আমি ছেলেদের বলেছি ক্যাচ পড়া নিয়ে খুব বেশি না ভাবতে।

বলেছি, একটা চলে গেলে পরের সুযোগটার জন্য অপেক্ষায় থাকো। কেউই ইচ্ছা করে ক্যাচ ফেলে না। এটা ক্রিকেটেরই অংশ। দুর্দান্ত ক্যাচও কিন্তু ধরে ছেলেরা। তাই ভালোর সঙ্গে মন্দটাও মেনে নিতে হবে আপনাকে। আমাদের বোলাররা বিষয়টি মেনে নিয়েছে, ক্যাচ পড়ার ক্ষত গায়ে না মেখে সামনে এগিয়ে যায়। ক্যাচ পড়লে কি করবেন? আপনাকে আবার ক্যাচের পরিস্থিতি তৈরির জন্য ঝাঁপাতে হবেই। ’

সম্প্রতি তাসকিন আহমেদ, কামরুল ইসলাম ও শুভাশীষ রায়ের বাহ্যিক আচরণে ওয়ালশ দর্শনের প্রভাব দেখা গেছে। ক্যাচ পড়লে হেসে বোলিং মার্কে ফিরে যান তাসকিন। ক্যাচ ড্রপের পর কামরুলের কাঁধও ঝুলে পড়তে দেখা যায়নি। বরং নিউজিল্যান্ড সফরে এ জাতীয় হতাশা ভুলে প্রাণপণে বোলিং করে গেছেন তাসকিন-কামরুল-শুভাশীষরা, যা দেখে আপ্লুত তাঁদের গুরু ওয়ালশ, ‘নিউজিল্যান্ডে ওদের দেখে আমি মুগ্ধ। মনে হচ্ছে ওরা উন্নতির স্রোতধারা ধরেই এগোচ্ছে। তবে এটা (ভারত) আরেকটা চ্যালেঞ্জ। আশা করি ওখানকার (নিউজিল্যান্ড) অভিজ্ঞতা ওদের এখানে সাহায্য করবে। প্রচণ্ড পরিশ্রম করছে ছেলেগুলো। ’

তবে মোটে তো একটা সিরিজই তাঁরা একসঙ্গে খেলেছেন নিউজিল্যান্ডে। সে তুলনায় কিছুটা কঠিন ভারতে, সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাও সহজ নয়। ওয়ালশের কথা শুনে মনে হবে প্রতিপক্ষ আর পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গে বোলারদের প্রস্তুতিতেও ভিন্নতা এসেছে, ‘চেষ্টা করছি ম্যাচের জন্য ওদের পুরোপুরি তৈরি করে রাখতে। সমস্যা একটাই— অভিজ্ঞতা। ওরা তো আর বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলেনি। বোর্ড চেষ্টা করছে তাদের পর্যাপ্ত এক্সপোজার দিতে। বলতে পারেন, সব কিছু ঠিক পথেই এগোচ্ছে। দেশের বাইরে যত বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া যাবে, ততই উন্নতি করবে দল। ’

পুরো শক্তির পেস আক্রমণ নিয়ে ভারতে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমান যেমন রয়ে গেছেন দেশে। বিসিএলে তাঁর সঙ্গে খেলছেন রুবেল হোসেনও। ঘরোয়া আসরের ম্যাচে ভালো বোলিংও করেছেন দুজনে। এটাকে সামগ্রিক উন্নতির ইঙ্গিত বলে মনে করছেন ওয়ালশ। পাশাপাশি ওই দুজনকে ছাড়াই ভারতে অবস্থানরত পেস আক্রমণের ওপর যথেষ্ট আস্থাশীল তিনি, ‘এরা খুব ইমপ্রেসিভ। এমনকি রুবেল আর মুস্তাফিজের দিকেই দেখুন। নিউজিল্যান্ডে ম্যাচ খেলার আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা বিসিএলে খেলছে। এখানে যারা আছে, তারাও তৈরি। এমনকি নতুন যে ছেলেটা (আবু জায়েদ) এসেছে, সে-ও তৈরি। এটা দলের জন্য খুব ভালো বার্তা। ’ ক্রিকইনফো


মন্তব্য