kalerkantho


অ্যাথলেটিকসের বিপ্লবে রোমাঞ্চিত বোল্ট

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অ্যাথলেটিকসের বিপ্লবে রোমাঞ্চিত বোল্ট

মিশ্র দ্বৈত ব্যাপারটা দেখা যায় ব্যাডমিন্টন, টেনিস, টেবিল টেনিসের মতো খেলায়। অ্যাথলেটিকসে এটা অকল্পনীয়। সেটাই ঘটল মেলবোর্নের নাইট্রো অ্যাথলেটিকসে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই ট্র্যাকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ৪ গুণিতক ১০০ মিটার রিলেতে লড়লেন পুরুষ ও নারী অ্যাথলেটরা। স্প্রিন্ট কিংবদন্তি উসাইন বোল্ট আর আসাফা পাওয়েলের দলে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই নারী অ্যাথলেট জেন্না প্রাণডিনি ও জেনেবা টারমো। দুজন নারীর দৌড় শেষে পুরুষদের পালা। শেষ লেপে যথারীতি অলস্টার দলের অধিনায়ক উসাইন বোল্ট। তাঁর বজ বিদ্যুতের মতো গতির দৌড়ে অনেকখানি পিছিয়ে থাকা অলস্টার দল শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন রিলেতে। সোনা বা রুপার চেয়ে একই রিলেতে নারীর সঙ্গে লড়াই করার মতো বিপ্লবে রোমাঞ্চিত বোল্ট, ‘একই ট্র্যাকে কখনো কোনো নারীর সঙ্গে ব্যাটন বদল করিনি। এটা রেনেসাঁই বলতে পারেন। আমার জন্য রোমাঞ্চের অভিজ্ঞতা।

অ্যাথলেটিকসে এমন নতুন কিছুরই দরকার ছিল। ’

গত পরশু মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হওয়া ছয় দলের এই রিলেতে বোল্টের অলস্টার দল হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। স্বাগতিক দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ১৬ বছরের স্কুল পড়ুয়া অ্যাথলেট রাইলে ডে। বোল্টকে পাশের লেনে দেখে নিজের চোখকেই বিশ্বাস হচ্ছিল না রাইলে ডে’র, ‘তিন মাস আগেও বোল্টের সঙ্গে হাত মেলানোর স্বপ্ন দেখতাম না আমি। এখন খেলছি তাঁরই বিপক্ষে? অবিশ্বাস্য। বোল্ট, পাওয়েলদের মতো কিংবদন্তিদের কাছ থেকে টিপস পাওয়াটা সৌভাগ্যের। ’

মিশ্র রিলের পাশাপাশি ৬০ মিটার স্প্রিন্টে জিতেছিলেন বোল্টের দলের আসাফা পাওয়েল। নতুন ঘরানার এই অ্যাথলেটিকসে আছে ১৫০ মিটার স্প্রিন্টও। তবে সবগুলো ইভেন্ট দর্শকদের যে টানবে না ভালোই জানা বোল্টের, ‘কয়েকটি ইভেন্টে অবশ্যই বদল আনতে হবে। এই অ্যাথলেটিকসের আসল উদ্দেশ্য দর্শকদের আনন্দ দেওয়া। মেলবোর্নের লেকসাইড স্টেডিয়ামে আসা সাত হাজার দর্শক উপভোগ করেছেন টুর্নামেন্টের প্রথম দিন। টিভিতেও দেখেছেন কয়েক লাখ মানুষ। ব্যাপারটা প্রথম বলে এখনো সবাই ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারছে না। ধীরে ধীরে সেটা হয়ে যাবে। সবচেয়ে বড় কথা এমন আয়োজনে রোমাঞ্চিত খেলোয়াড়রা। সবাই নিজেদের সেরাটা খেলছে। ’

গত পরশুর আয়োজন শেষে শেন ওয়ার্নের নাইটক্লাবে ডিজের ভূমিকায় ছিলেন বোল্ট। নেচে, গেয়ে উপভোগ করেছেন রাতটা। ৯ ও ১১ ফেব্রুয়ারি আবারও ট্র্যাকে নামবেন তিনি। জ্যাভেলিন, লংজাম্পের মতো ইভেন্টগুলো হবে তখন। অলস্টার দলের নেতা হিসেবে বোল্ট কি অংশ নেবেন তাতে? হাসতে হাসতেই জানালেন, ‘দলের সবাইকে বলেছি দরকার হলে লং জাম্প বা জ্যাভেলিনে ওরা পাবে আমাকে। ’ সতীর্থের ডোপ পাপে ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকের একটি সোনা হারিয়ে মেলবোর্ন এসেছিলেন বোল্ট। সোনা হারালেও আরেকটি অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই তাঁর, ‘অলিম্পিকের একটি সোনা হারানো কষ্টের। তাই বলে ২০২২ টোকিও অলিম্পিকে খেলব না। লন্ডনের বিশ্ব মিটই হবে আমার ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্ট। ’ এএফপি


মন্তব্য