kalerkantho


সেই মামাত এবার...

সামীউর রহমান   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সেই মামাত এবার...

আগের বারের ঢাকা ভ্রমণের স্মৃতিটা নিশ্চয়ই ভুলতে পারেননি মার্দান মামাত। গ্রীষ্মের চারটি দিন লিচুর গন্ধ নিয়ে উড়ে আসা বাতাসে কুর্মিটোলার সবুজ ঘাসে পার করেছিলেন সিঙ্গাপুরের এই গলফার।

যাবার বেলায় সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন রয়াল বেঙ্গল টাইগারের আকৃতিতে গড়া বসুন্ধরা বাংলাদেশে ওপেনের প্রথম আসরের শিরোপা। ব্যক্তিগত কারণে বাংলাদেশ ওপেনের দ্বিতীয় আসরে অংশ নেওয়া হয়নি মামাতের। তৃতীয় আসরে অংশ নিয়েছেন, কিন্তু এবার আর আগের সেই ধার নেই। ৪ আন্ডারপার খেলে আরো একজনের সঙ্গে যুগ্মভাবে হয়েছেন ১৭তম। প্রথম আসরে অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার, এবার সেটা মোটে ৩৭০৫! শনিবার খেলা শেষে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের লাউঞ্জে বসে মামাত দেখছিলেন, একপাশে এশিয়ান ট্যুরের ক্যামেরায় সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন বিজয়ী জ্যাজ ইয়ানুয়াতানন আর অন্যপাশে রানার-আপ হওয়া সিদ্দিকুর রহমানকে ঘিরে বাংলাদেশের সংবাদকর্মীরা। ফোনটা রেখে প্রশ্ন শুনে নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিলেন, ‘এটাই গলফ!’

সিঙ্গাপুর ডলার আর মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্যে তফাত খুব সামান্য। চার-পাঁচ দিনের ঢাকা ভ্রমণ, ক্যাডির ফি, বিমানভাড়া সব হিসাব করলে ৩৭০০ ডলারের সামান্যই পকেটে ঢোকার কথা। মামাত জানালেন, তবু কোনো অতৃপ্তি নেই, ‘আমার তো নিজের খেলা ভালোই লেগেছে। এটাই গলফ, ভালো-মন্দ মিলিয়েই তো খেলাটা।

আমি খুব একটা খারাপ খেলিনি আর সামনের সপ্তাহে মালয়েশিয়া ওপেনের মতো বড় আসরে খেলার আগে ভালো একটা প্রস্তুতিও হয়ে গেল। ’ দ্বিতীয় বসুন্ধরা ওপেনে খেলা হয়নি, তৃতীয়টিতে খেলতে ঢাকা আসার আগে ঠিক কোন ছবিটা ভাসছিল মাথায়? এমন প্রশ্নে মামাতের উত্তর, ‘এখানে আসতে খুবই ভালো লাগে, গলফ কোর্সটাও খুব গোছানো। কোনো প্রত্যাশা নিয়ে ঢাকার ফ্লাইটে চড়িনি। নিজেকে বলেছিলাম, আসব আর খেলাটা উপভোগ করব। ’

মামাতের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য সিঙ্গাপুর মাস্টার্স জেতা, যে টুর্নামেন্টটা হয়েছিল ইউরোপিয়ান ট্যুরের সঙ্গে মিলিয়ে, ফলে এশিয়ার বাইরে থেকেও অনেক নামিদামি গলফার এসেছিলেন খেলতে। ঘরের মাঠে তাঁদের হারিয়ে শিরোপা জেতা মামাত সিদ্দিকের মাঝে দেখছেন সেই ছাপ, ‘সিদ্দিক উন্নতি করছে। এবার তো সে দ্বিতীয় হলো, কে জানে পরেরবার হয়তো জিতেই নেবে! নিজের দেশে খেলাটা সহজ নয়। কেউ যখন দেখবে যে অনেকগুলো চোখের নজর তাঁর ওপর, প্রত্যাশার চাপটা অনেক বেশি তখন নিজের ওপর বাড়তি চাপ আসবে। এই অনুভূতিটা কেমন সেটা আমি জানি। সেটা সামলেই আমি নিজের মাঠে জিতে দেখিয়েছি। সিদ্দিকও সেই জায়গাটা যাচ্ছে। প্রথম আসরে ভালো করেনি, দ্বিতীয় আসরেও ভালো করেনি কিন্তু এবার সে ঠিকই রানার-আপ হলো। ’

গলফের মেজর টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে যেটি প্রাচীনতম, সেই ব্রিটিশ ওপেনে খেলেছেন মামাত। পাঁচটি এশিয়ান ট্যুর ও একটি ইউরোপিয়ান ট্যুরসহ পিজিএ টুর্নামেন্টও জেতা মামাতের প্রশংসাবাক্যের ওজন নিশ্চয়ই কম নয়। ভবিষ্যতে হয়তো আরো অনেকবারই বাংলাদেশে হবে এশিয়ান ট্যুরের আয়োজন, তাতে কেউ না কেউ নিশ্চয়ই জিতবেন শিরোপা। হয়তো সিদ্দিকই দেশের মাটিতে পাবেন বড় সাফল্যের দেখা। তবে বাংলাদেশে এশিয়ান ট্যুরের প্রথম আয়োজন বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের প্রথম আসরের প্রথম শিরোপাজয়ী হিসেবে মামাতের নামটা কিন্তু অক্ষয় হয়ে থাকবে।


মন্তব্য