kalerkantho


ভালোয়-মন্দয় ব্যাটিং প্রস্তুতি

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভালোয়-মন্দয় ব্যাটিং প্রস্তুতি

মুশফিকের ৫৮

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সকালে উইকেট দেখে অবাকই হয়েছিলেন কি?

দিনের শেষে সৌম্য সরকারকে করা প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিকই ছিল। কারণ ভারতে গিয়ে নিউজিল্যান্ডের মতো উইকেট নিশ্চয়ই প্রত্যাশিত ছিল না বাংলাদেশ দলের কাছে।

নিউজিল্যান্ডে শেষ টেস্টে দারুণ ব্যাটিং করার পর ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে কাল থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও উজ্জ্বল সৌম্য অবশ্য স্মিত হাস্যে বলতে চাইলেন অন্য কথাই, ‘অবাক হব কেন? যে উইকেটই দেওয়া হবে, তাতেই মানিয়ে নিয়ে খেলতে হবে। মনে হয় বাউন্সি উইকেট হওয়াতে ভালোই হয়েছে। মাত্রই তো নিউজিল্যান্ডে আমরা এ ধরনের উইকেটে খেলে আসলাম। মানিয়ে নিতে তাই সুবিধাই হয়েছে। ’

টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে অবশ্য সৌম্যর কথার প্রতিফলন নেই। এই উইকেটে বরং প্রতিপক্ষের দুই বাঁহাতি পেসার অনিকেত চৌধুরী ও চামা মিলিন্দের বল খেলতে সমস্যাই হয়েছে সফরকারী দলের ব্যাটসম্যানদের। একই সঙ্গে উইকেটের অসমান বাউন্সও কম ভোগায়নি তাঁদের। বল যে কখনো কখনো নিচু হয়েছে। তাই বলে সবাই যে ভালো বলে আউট হয়েছেন, তাও নয়।

বাজে শটে আউট হয়ে অনেকে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্টের আগে প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগও নষ্ট করেছেন। ব্যতিক্রম বলতে সৌম্য এবং আঙুলের চোটে ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের শেষ টেস্ট মিস করা মুশফিকুর রহিম। দুজনেই করেছেন ফিফটি। সৌম্যর ব্যাটে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা। চোট কাটিয়ে ফেরা টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিংও টেস্টের আগে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তির হিমেল হাওয়া বইয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।

কিন্তু ওই যে, এক-দুজনের ব্যাটেই তো আর সব হয়ে যায় না। দল হিসেবে ঝলসে উঠতে হয়। সেটি হয়নি, হয়নি বলেই ৮ উইকেটে ২২৪ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে দিয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে ২১ ওভার ব্যাটিং করে ১ উইকেটে ৯১ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করেছে ভারতীয় ‘এ’ দল। ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও কামরুল ইসলামের পাশাপাশি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকেও বিশ্রাম দিয়ে এই ম্যাচ খেলতে নামা বাংলাদেশের অবশ্য টেস্টেও প্রস্তুতি ম্যাচের উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা সামান্যই। কারণ হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া টেস্ট খুব সম্ভবত ধীরগতির স্পিন সহায়ক উইকেট দিয়েই স্বাগত জানাবে বাংলাদেশকে।

তাহলে সেকান্দারাবাদের জিমখানা মাঠে দুই দিনের ম্যাচে কেন উইকেটে বাউন্স? কারণটা বোধগম্যই। বাংলাদেশে এসে বাঁহাতি স্পিনার সামলাতে হবে বলে ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরের দলগুলো নেটে একাধিক এ ধরনের স্পিনার চেয়ে থাকে কিন্তু দেওয়া হয় না। আগেই তাঁদের প্রস্তুতিতে বাদ সেধে বসে থাকে স্বাগতিকরা। এবার স্বাগতিক ভারতও যেমন চায়নি টেস্টের আগেই ধীরগতির স্পিন উপযোগী উইকেটে বাংলাদেশের প্রস্তুতিটা হয়ে যাক! তাই বাড়তি বাউন্সের উইকেট, যাতে ওয়েলিংটন টেস্টের মতোই বাউন্সারে হুক করে লেগ সাইড বাউন্ডারিতে ইমরুল কায়েসের (৪) ধরা পড়া দিয়ে শুরু। ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার অনিকেতের বলে প্লেড অন হওয়া অন্য ওপেনার তামিম ইকবালও (১৩) টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। যদিও তাঁর মারা তিন বাউন্ডারিতে দারুণ কিছুর প্রতিশ্রুতি ঠিকই ছিল।

প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ছিল সৌম্যর ব্যাটে। ৭৩ বলে ৯ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৫২ রান করা এই তরুণও অবশ্য দিনের শেষে আফসোস করেছেন ইনিংস আরো বড় করতে না পারায়, ‘ইনিংসটা আরো বড় হলে আমার জন্যই ভালো হতো। ’ সৌম্যর আগে-পরে ভালো কিছু না করেই ফিরেছেন মমিনুল হক (৫) ও মাহমুদ উল্লাহও (২৩)। তাতে ১১৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসার পর রক্ষা মুশফিক ও সাব্বির রহমানের (৩৩) ৭১ রানের ষষ্ঠ উইকেট পার্টনারশিপে। ঘরোয়া আসর বিসিএলে ডাবল সেঞ্চুরির পুরস্কার হিসেবে ভারত সফরে যাওয়া লিটন কুমার দাশও (২৩*) অবশ্য সুযোগ যথাসম্ভব কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন। ১৩৭ মিনিট উইকেটে থেকে ১০৮ বলে ৮ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় মুশফিকের ৫৮ রানের ইনিংসটি আরো বড় না হলেও দলকে স্বস্তি তো দিয়েছে।


মন্তব্য