kalerkantho


সাকিবের দৃষ্টিতে কোহলি-অশ্বিন

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সাকিবের দৃষ্টিতে কোহলি-অশ্বিন

আইপিএল সূত্রে ‘ঘরের ছেলে’ মুস্তাফিজুর রহমানকে বাংলাদেশ দলে না দেখে কিছুটা হতাশ হায়দরাবাদের ক্রিকেট অনুরাগীরা। স্বভাবতই বাঁহাতি এ পেসারকে আরো বেশি ‘মিস’ করছে বাংলাদেশ দল।

বোলিং সামর্থ্য এবং আইপিএল অভিজ্ঞতার কারণে ভারতের মাটিতে মুস্তাফিজকে বড্ড দরকার ছিল বাংলাদেশের।

তিনি নেই, কিন্তু সাকিব আল হাসান তো আছেন। টানা চারটি আইপিএল খেলে ভারতের কন্ডিশন সম্পর্কে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে সবচেয়ে অভিজ্ঞ তিনি। শুধু কি অভিজ্ঞতা, নৈপুণ্যেও এগিয়ে সাকিব। তাই গতকাল প্রস্তুতি ম্যাচে না থেকেও বিস্তর যত্নআত্তি চলেছে তাঁর!

সেকেন্দারাবাদের জিমখানা মাঠে বাংলাদেশ দল যখন ব্যাটিংয়ে নামছে, তখন পাশের নেটে সাকিব আল হাসান। ব্যাটিং কোচ থিলান সামারাবীরার নজরদারিতে ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন তিনি। তবে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও তাঁর কাছে বিপুল দাবি দলের। ভারত-বাংলাদেশ লড়াইয়ের ভেতর ব্যক্তিগত এক লড়াইয়ের ছবিও আঁকছেন অনেকে। ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিন বনাম বাংলাদেশের সাকিব—সে লড়াই নিয়ে অবশ্য মনে সামান্য হেলদোল নেই বাঁহাতি স্পিনারের।

বরং অশ্বিনই এগিয়ে— নির্দ্বিধায় প্রশংসাপত্র দিয়ে সে লড়াইয়ের আগুনে যেন জলই ঢেলে দিলেন সাকিব।

‘এভাবে আমি চিন্তা করি না। আমি নিশ্চিত সে-ও (অশ্বিন) চিন্তা করে না। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিজ দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা’, সাফ জানিয়ে দিয়ে ভারতীয় অফস্পিনারকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সাকিব, ‘গত দুই-তিন বছর ধরে অশ্বিন দুর্দান্ত বোলিং করছে। ওর নিয়ন্ত্রণ অসাধারণ। সে যা চায়, করতে পারে। এমন নিয়ন্ত্রণ থাকলে আর বিশেষ কিছু করার দরকার নেই। এ থেকেই আসে আত্মবিশ্বাস। সব মিলিয়ে এ মূহূর্তে অশ্বিনই সেরা স্পিনার। ’

আইসিসির র‌্যাংকিংও অবশ্য তা-ই বলছে। টেস্ট বোলারদের তালিকায় সাকিবের অবস্থান ১৪ নম্বরে। অন্যদিকে বোলিং এবং অলরাউন্ডারদের র‌্যাংকিংয়ে সাকিবসহ সবাইকে টেক্কা দিয়ে এখন শীর্ষে রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তবে কি অশ্বিনকে ‘ওয়াকওভার’ দিয়ে দিচ্ছেন সাকিব আল হাসান? এ প্রশ্নেও অবশ্য উসকে দেওয়া যায়নি বাংলাদেশি তারকাকে, ‘অশ্বিনের জায়গায় অশ্বিন ভালো করছে। আমার জায়গাটায় আমি ভালো করতে পারি। যত বেশি ভালো করতে পারব, দল তত বেশি উপকৃত হবে। আসলে প্রত্যেক ক্রিকেটারই দলের জন্য আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ। আমার যতটুকু অবদান রাখার সুযোগ আসে, ততটুকু করতে পারলেই আমি খুশি। ’

অশ্বিনের সঙ্গে টেস্ট বোলার কিংবা অলরাউন্ডারের লড়াই অগ্রাহ্য করা সাকিব যেন বলতে চাইলেন বোলিংয়ে তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিরাট কোহলি। অশ্বিন যদি মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট পেয়ে থাকেন, তাহলে কোহলি ব্যাটে রানের বিরামহীন আনন্দধারা। তাই ভারত অধিনায়কের উইকেটের ‘চড়া মূল্য’ ধার্য করেছে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। সব উইকেটই আনন্দের, তবে কোহলিরটা নিঃসন্দেহে গর্বেরও। কিন্তু এ আনন্দ কিংবা গর্ব করা যে সহজ হবে না মোটেও, তা খুব ভালো জানেন সাকিব, ‘কোহলি খুবই আক্রমণাত্মক এবং সফল ব্যাটসম্যান। যেভাবে ব্যাট করে মনে হয় আউটই হবে না! তাই ওর উইকেট পেতে হলে আমাদের সত্যিকার অর্থে খুব ভালো বোলিং করতে হবে। ’ যদিও বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা একমাত্র টেস্ট ইনিংসে ১৪ রানে আউট হয়েছিলেন কোহলি, ২০১৫ সালে ফতুল্লা টেস্টে ভারতের একমাত্র ইনিংসে উৎসবটা করেছিলেন জুবায়ের হোসেন।

তবে দিনশেষে কোহলির উইকেট তো একটাই। সিনিয়র ক্রিকেটারের জায়গায় বসে সেটা যেন দলের সবাইকে মনেও করিয়ে দিলেন সাকিব শেষভাগে, ‘শুধু কোহলি নয়, ভারতের পুরো ব্যাটিং লাইনআপই শক্তিশালী। ওদের বিপক্ষে ভালো করতে হলে আমাদের সর্বোচ্চটা দিতে হবে। ’ ক্রিকইনফো


মন্তব্য