kalerkantho


ভেবেছিলাম জিতেও যেতে পারি

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভেবেছিলাম জিতেও যেতে পারি

ছবি : মীর ফরিদ

ভালোবাসা থেকে সিদ্দিকুর রহমানকে বলা হয় বাংলার ‘টাইগার উডস’। কারণ সিদ্দিকই তো গলফের বিশ্বমঞ্চে একাই বহন করছেন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। তাঁকে দেখেই গলফ খেলতে ঝুঁকেছেন আরো অনেকে। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জিতেছেন এশিয়ান ট্যুরের শিরোপা, সরাসরি জায়গা পেয়েছেন অলিম্পিকে। অনেক সাফল্যের ভিড়েও বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনে বিশেষ সুবিধা করতে পারছিলেন না তিনি। বাংলাদেশের মাটিতে এশিয়ান ট্যুরের একমাত্র আয়োজন, সিদ্দিকের হাতের তালুর মতো চেনা মাঠ কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে। অথচ সেখানে প্রথম দুই আসরেই যে ব্যর্থ সিদ্দিক। তৃতীয় আসরে এসে ফিরে পেলেন নিজেকে, শিরোপা না জিতলেও দারুণ লড়াই করে হয়েছেন দ্বিতীয়। রানার-আপ ট্রফি হাতে হাজির হয়েছিলেন সংবাদমাধ্যমের সামনে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠের সামীউর রহমান

 

প্রশ্ন : শিরোপা হারানোর আফসোস নাকি দেশের মানুষের সামনে এশিয়ান ট্যুরের মতো আসরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো করার আনন্দ?

সিদ্দিকুর রহমান : অনেক দিন পর এতটা ভালো খেললাম আসলে। শেষ রাউন্ডটা দারুণ খেলেছি, সব মিলিয়ে গোটা সপ্তাহটা খুব ভালো কেটেছে। নিজের মাঠে আমার খেলা দেখার জন্য অনেক মানুষকে আসতে দেখাটাও বিরাট একটা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

যেভাবে খেলেছি তাতে আমি খুশি।

প্রশ্ন : শেষে এসে তালগোল পাকিয়ে ফেলার একটা বাজে অভ্যাসই হয়ে গিয়েছিল আপনার, বা বলা চলে শিরোপার সম্ভাবনার জায়গা থেকে পিছলে নেমে যাওয়ার একটা প্রবণতাও তৈরি হয়েছিল আপনার খেলায়। এবার শেষ দুটি রাউন্ড কিন্তু চমৎকার খেললেন?

সিদ্দিক : হ্যাঁ, আমি সত্যিই খুব ভালো খেলেছি। গেল সপ্তাহের শুরুর দিকটায় খাবারের বিষক্রিয়ায় একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। সেখান থেকে দ্বিতীয় হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করাটা দারুণ ব্যাপার। কোনো অভিযোগ নেই। সপ্তাহের শুরুর দিকটা ঘরে বিশ্রাম নিয়েই কাটিয়েছি, তাই প্রস্তুতি পর্যাপ্ত হয়নি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই যে সুস্থ হয়ে খেলতে পারলাম, তাতেই আমি খুশি।

প্রশ্ন : শেষ হোলে এসে বার্ডি করতে পেরে খুবই উল্লসিত দেখাল আপনাকে। সেটা কি অবশেষে ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙার আনন্দে?

সিদ্দিক : আমি চেয়েছিলাম ১৮ নম্বর হোলটা পারে শেষ করতে। শুনেছিলাম ডজ (কিমার) ১১ আন্ডারপারে শেষ করেছে, তাই লিডারবোর্ডে ওর ওপরে থাকতে পারের সমান খেললেই আমার দ্বিতীয় স্থানটা নিশ্চিত। কিন্তু হয়ে গেল বার্ডি। বলা যায়, এই হোলটা আমার সবচেয়ে পছন্দের।

প্রশ্ন : শেষের দিনটা খুব ভালো খেললেন, বলা যায় প্রথম রাউন্ডটা বাদ দিলে বাকি ৩ রাউন্ডই খুব ভালো খেলেছেন। প্রথম দিনটা নিয়ে আফসোস কি এতে আরো বেশি মনে হয়?

সিদ্দিক : এসব আসলে খেলারই অংশ। ওইদিন আসলে বল গাছে লেগে বাজে জায়গায় চলে গেছে। এই নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নেই, কারণ এই টুর্নামেন্টে আমাকে অনেক উত্থান-পতনের ভেতর দিয়েই যেতে হয়েছে। যেমন হোল নাম্বার সাতে বাজে শট খেলেও বার্ডি পেয়েছি। তবে সব মিলিয়ে চমৎকার একটা সপ্তাহ কেটেছে আমার।

প্রশ্ন : শেষ দিনে কি চাপ নিয়ে খেলেছেন নাকি সব কিছু ভুলে চাপমুক্ত খেলাটা উপভোগ করতে চেয়েছেন?

সিদ্দিক : আজ (কাল) অনেক আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। দ্বিতীয় হোলে বার্ডি, চতুর্থ হোলে বার্ডি করেছি। পঞ্চম হোলে সহজ বার্ডি মিস করেছি। এরপর সাত নম্বরে, ৯ নম্বরে মিস করলাম। আমার পাটিংগুলো যদি ভালোমতো হতো, তাহলে সুযোগ ছিল। তবে তা নিয়ে কোনো আফসোস নেই। জ্যাজ খুব ভালো খেলেছে। ও আসলেই শিরোপার যোগ্য। তার প্রতি আমার অভিনন্দন রইল।

প্রশ্ন : তিন রাউন্ড খেলা শেষে লিডারবোর্ডে তিনে আপনি, এক নম্বরের সঙ্গে তফাৎ ৫ পয়েন্টের। সেখান থেকেও কি মনে হয়েছিল জিতবেন?

সিদ্দিক : সত্যি কথা বলতে কি, শুরুর ৯টা হোলে খেলা পর্যন্ত আমার আশা ছিল, জিততেও পারি। এরপর ১০-১১ পর্যন্তও ভেবেছিলাম জিতেও জেতে পারি, এরপর মনে হলো আর হবে না। ও অনেক ভালো খেলোয়াড়।

প্রশ্ন : বছরের গোড়ার দিকেই এমন একটা সাফল্য আপনার সঙ্গী। সামনের দিনগুলোতে কী প্রত্যাশা?

সিদ্দিক : নতুন বছরে এটা আমার দ্বিতীয় টুর্নামেন্ট। বছরের বাকি টুর্নামেন্টগুলোয় এই সাফল্য আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করবে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় হওয়া আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।

প্রশ্ন : সব মিলিয়ে বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেন নিয়ে আপনার সার্বিক মূল্যায়ন কী?

সিদ্দিক : অসাধারণ একটা সপ্তাহ কাটল। কোর্সটা দারুণ আর আবহাওয়াও ছিল চমৎকার। আমি ঘরের মাঠে স্থানীয় দর্শকদের কাছ থেকে প্রচণ্ড সমর্থন পেয়েছি। এটা আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে। আমার মা-বাবা আমার খেলা দেখতে এসেছেন, সমর্থন করেছেন। আমার ভাইও এসেছে। সব মিলিয়ে তাঁদের সামনে ভালো করাটা আমার জন্য সত্যিই চমৎকার একটা স্মৃতি।


মন্তব্য