kalerkantho


হায়দরাবাদে

পুরনো ঐতিহ্যে মুশফিকদের বরণ

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পুরনো ঐতিহ্যে মুশফিকদের বরণ

ভারতে প্রথম সফর করা কমনওয়েলথ দলটা খেলেছিল হায়দরাবাদে। সেকুন্দরাবাদ জিমখানা মাঠে হওয়া ম্যাচটি ঘিরে হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এইচসিএ) প্রকাশ করেছিল বিশেষ স্মরণিকা। এরপর তো ঐতিহ্যই হয়ে যায় ব্যাপারটা। ভারতের পুরনো এই শহরের প্রতিটি ধূলিকণায় যেমন মিশে আছে ইতিহাস, তেমনি এখানে খেলতে আসা ক্রিকেট দলগুলোর স্মৃতিও ধরে রাখা হতো স্মরণিকায়। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত বজায় ছিল রেওয়াজটা। এরপর ছন্দপতন। গত দুই দশকে অনেক দল হায়দরাবাদে খেললেও স্মরণিকা আর প্রকাশ করেনি এইচসিএ। টেস্ট খেলতে বাংলাদেশের প্রথম ভারত সফরে পুরনো সেই ঐতিহ্য ফিরে আসছে আবারও। ‘ঐতিহাসিক’ সেই ম্যাচটি ঘিরে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করতে যাচ্ছে তারা।

সেটা সমৃদ্ধিশালী করতে কলম ধরেছেন ১৯৮৩ সালে ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দলের ম্যানেজার পিআর মান সিং। লিখবেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ মহিন্দর অমরনাথও।

আরো লিখবেন আব্বাস আলী বেগ, ভিভিএস লক্ষ্মণ, সৈয়দ কিরমানি, ভেংকটরাঘবনের মতো সাবেক ক্রিকেটাররা। এই স্মরণিকায় সুরেশ মেননের মতো ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি লিখবেন প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলেও। তাঁদের লেখার পাশাপাশি থাকবে ভারত-বাংলাদেশ লড়াই নিয়ে নানা পরিসংখ্যান, কার্টুন আর ছবি।

ভারতের মাটিতে মুশফিকুর রহিমদের প্রথম টেস্ট বলে ম্যাচটি এমনিতেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এইচসিএর এমন আয়োজনে ব্যাপারটা পেতে যাচ্ছে ভিন্নমাত্রা। গতকাল এক বিবৃতিতে ম্যাচটিকে বিশেষ উপলক্ষ মনে করা এইচসিএ জানিয়েছে, ‘পুরনো এক ঐতিহ্যকে আবারও জাগিয়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হায়দরাবাদ ক্রিকেট সংস্থার বর্তমান নির্বাহী কমিটি। ভারতের মাটিতে ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এই টেস্ট স্মরণীয় করে রাখতে একটা স্মরণিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছি আমরা। ’

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আর রাজ্য সংস্থাগুলোয় ওলটপালট হওয়ায় একটা সময় হায়দরাবাদে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট আয়োজন। শেষ পর্যন্ত সেটা না হলেও ৮ ফেব্রুয়ারির বদলে ম্যাচটি পিছিয়েছে এক দিন। এই টেস্ট ঘিরে বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্য রকম উত্তেজনা আছে ভারতেও। গুরুত্ব বুঝেই এইচসিএর পুরনো ঐতিহ্যে ফেরা। আর পুরনো ঐতিহ্যের কথা বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দিতে ভোলেনি তারা, ‘ভারতে আসা প্রথম কমনওয়েলথ দলের ম্যাচ আয়োজন করেছিল হায়দরাবাদ। ম্যাচটি হয়েছিল সেকুন্দরাবাদ জিমখানা মাঠে। তখন থেকেই হায়দরাবাদে খেলা ম্যাচ উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশ করা হতো। এই রীতিটা ছিল নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিক পর্যন্ত। কোনো বিদেশি দল যখন ভারতে এসেছে, বিসিসিআই যখন হায়দরাবাদকে ম্যাচ আয়োজন করতে দিয়েছে, সেই উপলক্ষে এইচসিএ স্মরণিকা প্রকাশ করেছে। রেওয়াজটা ফিরে আসছে আবার। ’

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই ২০০০ সালে টেস্টে পথচলার শুরু বাংলাদেশের। এ পর্যন্ত খেলা ৯৭ টেস্টের ৮টি ভারতের সঙ্গে। এই ৮ ম্যাচের দুর্লভ নানা ছবি আর পরিসংখ্যান দিয়ে সমৃদ্ধ করা হবে স্মরণিকাটা। তা ছাড়া ঐতিহাসিক এই সফরে প্রথম ওয়ানডে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ১৯৯৮ সালে কোকাকোলা ত্রিদেশীয় সিরিজে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী স্টেডিয়ামে হারিয়েছিল কেনিয়াকে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে কেনিয়া করেছিল ২৩৬ রান। সে সময়ের প্রেক্ষাপটে রানটা কম নয়। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে নামা মোহাম্মদ রফিকের ৭৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ৬ উইকেটে স্মরণীয় জয় পায় বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের ছবিও নিশ্চিত জায়গা পাবে স্মরণিকায়।

এদিকে একমাত্র টেস্টটি খেলতে গতপরশু হায়দরাবাদে পৌঁছে গেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। যানজটে নাকাল হয়ে মুশফিকরা বিশ্রামেই ছিলেন হোটেলে। তবে গতকাল ঘাম ঝড়ানো অনুশীলন করেছেন সবাই। ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম টেস্টের আগে ভারতীয় ‘এ’ দলের বিপক্ষে আজ থেকে সেকুন্দরাবাদের জিমখানা মাঠে গড়াচ্ছে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ। এই ম্যাচটা খেলে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে দল। টেস্ট ম্যাচের ভেন্যু রাজিব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অনুশীলন করবে ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি।   পিটিআই


মন্তব্য