kalerkantho


আশা জাগিয়ে রাখলেন সিদ্দিক

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আশা জাগিয়ে রাখলেন সিদ্দিক

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শেষ দিনে কী রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনে। সিদ্দিকুর রহমান পারবেন তাঁর উত্থান অব্যাহত রেখে আর সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে? নাকি সন্ন্যাসের সৌম্যতা ধরে রেখে আজও একইভাবে নিজের কাজটা ঠিকঠাক করে যাবেন জ্যাজ ইয়ানুয়াতানন।

তাহলে আর কারোর এশিয়ান ট্যুরের এ আসরের ব্যাঘ্রসদৃশ সোনালি ট্রফিটি ছোঁয়ার সাধ্যি নেই। নাটকীয়তা হতে পারে তাঁর পা হড়কালেই কেবল।

সিদ্দিক কাল ৩ আন্ডার পার খেলে স্কোর -৮ এ নিয়ে গেছেন। পাঁচ নম্বর থেকে উঠে এসেছেন তিনে। শীর্ষে থাকা জ্যাজ খেলেছেন ২ আন্ডার। তাঁর স্কোর এখন -১৩। শিরোপা লড়াইয়ে দুজনের মধ্যে ব্যবধান এখন ৫ শটের। মাঝখানে শুভঙ্কর শর্মা আছেন, তবে কাল ১ ওভার খেলে হতাশ করেছেন তিনি। তাঁর স্কোর এখন -৯।

সিদ্দিকের তাঁকে টপকে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু জ্যাজের সঙ্গে লড়াইয়ে কী হবে, আগাম বলা যাচ্ছে না কিছুই। পেনাল্টিমেট রাউন্ডে দুজনই নিজের দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। সিদ্দিক টানা ২ বোগি দিয়ে দিন শুরু করেও ৩ আন্ডারে দিন শেষ করেছেন। ৩ বোগির বিপরীতে তাঁর ৬ বার্ডি। জ্যাজ যথেষ্ট ধারাবাহিক। ২ বোগির বিপরীতে খেলেছেন ৪ বার্ডি। কাল জ্যাজ, শুভঙ্কর ও রাতানন ওয়ানাশ্রীচান ছিলেন এক গ্রুপে। সেটিই লিডার গ্রুপ। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই কুর্মিটোলার দর্শক অনুসরণ করেছে দ্বিতীয় গ্রুপটিকে। সেখানে পানুফল পিতায়ারাত ও আমেরিকান ডজ কেমারের সঙ্গে খেলছিলেন সিদ্দিক। বসুন্ধরা ওপেনের তৃতীয় দিনও যে উত্তেজনায় ঠাসা থাকল, আজ শেষ রাউন্ডেও যে রোমাঞ্চের অপেক্ষা তা সিদ্দিকের কারণেই। আসরের প্রথম টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের কেউ শীর্ষ দশেও আসতে পারেননি, গত আসরে সাখাওয়াত হোসেন ষষ্ঠ হলেও তৃতীয় দিন শেষে সেই অর্থে ছিলেন না শিরোপা লড়াইয়ে। কাল পুরো দিনই সিদ্দিক, জ্যাজ, কেমার, শুভঙ্করের মধ্যে একটা অদৃশ্য লড়াই চলেছে। পরের গ্রুপে শুভঙ্কর বোগি খেলেছেন তো সিদ্দিকদের গ্রুপে আশার হাওয়া। জ্যাজ আবার হয়তো পার পার খেলে স্কোর ওপরেই রাখছেন, সিদ্দিকেরও তখন ধারাবাহিকতা রাখার চ্যালেঞ্জ।

১৪ নম্বর হোলে জ্যাজ, শুভঙ্কর সমান ১২ আন্ডারে। কিন্তু পরের চার হোলে শুভঙ্কর নেমে গেলেন -৯ এ। ১৬ নম্বর হোলে বোগি খেলে জ্যাজের চেয়ে পিছিয়ে যাওয়ার পর ১৭ নম্বরে সেই হতাশাতেই কিনা খেললেন ডাবল বোগি। সেখানে তিনটি পার খেলে একটা বার্ডি নিয়ে ১৩ আন্ডার পারে শিরোপার ছবি এঁকে বেরিয়ে গেলেন জ্যাজ। জ্যাজ-শুভঙ্কর যখন -১২তে। তখনই সিদ্দিকের -৮। ১৪ নম্বর হোলে টানা তৃতীয় দিনের মতো বার্ডি খেলে লড়াইটা জমিয়ে তুলেছিলেন। পরের চার হোলে ব্যবধান কমানোর আরো সুযোগ। কিন্তু ১৫ নম্বর হোলেই খেললেন বোগি। সহজ একটি পাট মিস করলেন। শেষ হোলে বার্ডি খেলেও জ্যাজের সঙ্গে ব্যবধানটা ৫ শটের থেকে গেল। এতটা পিছিয়ে থেকে শিরোপার জন্য লড়া সহজ নয়। কিন্তু যাঁর সামনে এই চ্যালেঞ্জ সেই সিদ্দিক নিজেই আশ্বস্ত করছেন, ‘এই ব্যবধান শেষ দিনে কাভার করা অসম্ভব নয়, তবে আমাকে এক্সেপশনালি ভালো খেলতে হবে। সেটা পুরোপুরিই নির্ভর করে নিজের ছন্দের ওপর। আমি আমার শরীরের রিদম বুঝি, সুইংও ঠিকঠাক হচ্ছে—তাহলে ডু অর ডাই চেষ্টা নয় কেন?’ এখানটাতেই এগিয়ে আছেন জ্যাজ। তাঁর প্রাণপণ চেষ্টার প্রয়োজন নেই আজ, স্রেফ স্কোরটা ধরে রাখা। শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ের আগেও নির্ভার থাকতে চাইছেন এই থাই গলফার, ‘আমি জানি না শেষ দিনে কী হবে, তবে এটা নিশ্চিত এখান থেকে আমি খুশি মনেই ফিরব। কারণ এখন পর্যন্ত যা হয়েছে আসার আগে সত্যি এতটা প্রত্যাশা ছিল না। ’ ২০১৫তে নিজের দেশের কুইন্স কাপে তৃতীয় হওয়াই এ পর্যন্ত ২০ বছর বয়সী এ গলফারের সেরা অর্জন। ২০১০-এ পেশাদার ক্যারিয়ার শুরুর পর কোনো টুর্নামেন্টের শেষ দিনে শীর্ষে থাকার অভিজ্ঞতাও এবারই তাঁর প্রথম। সেদিক থেকে দেখতে গেলে অবশ্য নিজের কোর্সে সিদ্দিক এগিয়ে, দুটি এশিয়ান ট্যুর জয়ের অভিজ্ঞতাও তাঁর ঝুলিতে। তৃতীয় বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের শেষ দিনে গলফের রোমাঞ্চকর একটি দিনের আশা করা যায়ই তো তাতে।

বাংলাদেশের অন্য যে ৯ জন গলফার কাট পেয়েছেন, তাঁদের শেষ দিনে একটাই লক্ষ্য—অবস্থানে যতটা পারা যায় এগিয়ে নিয়ে প্রাইজমানির অঙ্কটা বাড়ানো। সে চেষ্টায় সবচেয়ে বেশি এগিয়েছেন দুলাল হোসেন। আগের ১ আন্ডার পারে দিন শেষ করা এই গলফার কাল খেলেছেন সিদ্দিকের সমানই ৩ আন্ডার। মোট ৪ আন্ডারে তিনি এখন দ্বাদশ স্থানে। আগের দিন পারে শেষ করা জামাল হোসেন কালও পারে রাউন্ড শেষ করেছেন, তাতে তাঁর অবস্থান ২৮তম। ১ ওভার পারে ৩১তম স্থানে বিপিজিএ র‌্যাকিংয়ের শীর্ষ গলফার সজীব আলী।


মন্তব্য