kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

রেজাল্টের কথা না ভেবে খেলাটা উপভোগ করি

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রেজাল্টের কথা না ভেবে খেলাটা উপভোগ করি

আগের দিন শুভঙ্কর শর্মার সঙ্গে যুগ্মভাবে শীর্ষে ছিলেন। কাল ১১ আন্ডার পার খেলে ভারতীয় গলফারকে পেছনে ফেলে বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের দ্বিতীয় দিন শেষে এককভাবে শীর্ষে থাই গলফার জ্যাজ ইয়ানুয়াতানন।

রাউন্ড শেষ করে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি

প্রশ্ন : দ্বিতীয় দিন এককভাবে শীর্ষে উঠে গেলেন, আজকের পারফরম্যান্স নিয়ে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?

জ্যাজ ইয়ানুয়াতানন : আমার জন্য এটা মিক্সড একটা রাউন্ড ছিল। পারফরম্যান্সে বেশ ওঠানামা হয়েছে। তিনটি বোগি খেলেছি সঙ্গে আবার অনেকগুলো বার্ডিও হয়েছে। তবে আমি কোনো উচ্চাশা নিয়ে মাঠে নামিনি। নিজেকে শুধু বলেছি, খেলাটা উপভোগ করো। খুব ভোরে ঠাণ্ডায় অবশ্য বেশ কষ্ট হচ্ছিল। আমি সঙ্গে করে জ্যাকেটও আনিনি। বুঝতে পারিনি এখানে এমন ঠাণ্ডা হবে। খেলার আগে সময়ও কম ছিল, ওয়ার্মআপটাও ভালোভাবে হয়নি।

তার পরও শুরু করে প্রথম কয়েকটা হোল পারে রাখতে পেরেছি। আমি খুশি আমার আজকের পারফরম্যান্স নিয়ে।

প্রশ্ন : শিরোপা জেতার ব্যাপারে এখন কতটা আশাবাদী?

ইয়ানুয়াতানন : সামনের দুটি রাউন্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাকে পুরোপুরি তৈরি হয়ে নামতে হবে। গত বছর এশিয়ান ট্যুরের কার্ড হারিয়েছি, এ বছর কোয়ালিফাইং স্কুলেও পূর্ণ কার্ড পাইনি। তাতে অবশ্য আমি হতাশ নই। এখনো নিজের সেরাটা দিতে তৈরি। যে টুর্নামেন্টেই আমি খেলব সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন : গত বছরটা ভালো না যাওয়ার পেছনে কারণ কী?

ইয়ানুয়াতানন : সত্যি বলতে আমি নিজে আমার খেলার কোনো ভুল ধরতে পারছি না। গত ডিসেম্বরে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ট্যুরে আমি আমার মৌসুমের সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট করি। ওই টুর্নামেন্ট শেষ করেই দুই সপ্তাহের জন্য আমি সন্ন্যাসব্রত নিয়েছিলাম। সেটি শেষ করেই কোয়ালিফাইং স্কুলে খেলেছি, প্রস্তুতির তাই সময় পাইনি।

প্রশ্ন : ওই সপ্তাহের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

ইয়ানুয়াতানন : খুবই ভালো সময় কেটেছে আমার। প্রতিদিন মন্দিরে আমি প্রার্থনা করেছি, শ্লোক বলেছি। মনের মধ্যে একটা শান্তির ভাব হয় তাতে করে। আমি এখনো সেটা অনুভব করি। একটা সময় মনে হতো গলফই আমার সব, এখন তা নয়— এখানে এই টুর্নামেন্টে খেলতে পেরেই আমি খুশি।

প্রশ্ন : থাইল্যান্ডে সবাই-ই কি একটা সময় এমন সন্ন্যাস জীবন কাটায়?

ইয়ানুয়াতানন : না, তা নয়। ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এমনটা করার নিয়ম আছে। কিন্তু এটা বাধ্যতামূলক না। যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি দুই সপ্তাহ সময় কাটিয়েছি আমার বাবা-মা আর আমাদের প্রয়াত রাজার জন্য। এটা তাঁকে এক ধরনের সম্মান দেখানো। থাইল্যান্ডে এখনো অনেকে রাজার মৃত্যুতে কালো ব্যাজ ধারণ করে আছে। পুরো এক বছরই হয়তো তারা সেটা পরে থাকবে। এটা তাদের কেউ বলে দেয়নি। নিজেদের থেকেই রাজার প্রতি এই ভালোবাসা প্রকাশ করছে তারা।


মন্তব্য