kalerkantho


এটাই ভারতে যাওয়ার ঠিক সময়!

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এটাই ভারতে যাওয়ার ঠিক সময়!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এত দিন ভারতে টেস্ট আতিথ্য না পাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে হাহাকার ছিল; যদিও মুশফিকুর রহিমের তা ছিল বলে তাঁর কথায় অন্তত মনে হয়নি। তিনি মনে করেন, সফরটি আগে না হয়ে এখন হওয়াতেই ভালো হয়েছে।

গত পরশুর সংবাদ সম্মেলনে মুখ ফুটে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ককে সে কথা বলতেও শোনা গেছে, ‘পাঁচ বছর আগের চেয়ে এখন যাওয়া মানে আমাদের ভালো কিছু করার আছে। ’ অর্থাৎ ইঙ্গিতটা পরিষ্কার যে পাঁচ বছর আগে সফরটি হলে বাংলাদেশের ভরাডুবির আশঙ্কা থাকত। কিন্তু এখন টেস্টেও প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারছে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত হারের পর হারে ব্যতিব্যস্ত হতে হলেও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের বিপক্ষে টেস্টে কর্তৃত্ব করার সক্ষমতাও দেখিয়েছে।

মুশফিকের কথায় লুকিয়ে থাকা এই যুক্তির সঙ্গে একমত পোষণের লোকেরও অভাব হচ্ছে না। এঁদের অন্যতম বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদও। ২০০৫ সালে লর্ডসে টেস্ট অভিষেক হলেও শুধুই ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলা মুশফিকের হাতে ২০০৭ সালের শ্রীলঙ্কা সফরে কিপিং গ্লাভস উঠেছিল তো এই মাসুদকে সরিয়েই। সেই মাসুদই এবার উত্তরসূরির কথার সপক্ষে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আরো পাঁচ বছর পরে গেলে আরো ভালো করবে বাংলাদেশ। পাঁচ বছর আগে গেলে কী অবস্থা হতো বা না হতো, তা বলতে পারব না; তবে এটা বলতে পারি যে আগের তুলনায় এখনকার দলটি অনেক বেশি পরিণত এবং আত্মবিশ্বাসীও।

ভারতের মাঠে তাদের বিপক্ষেই মুশফিকদের ভালো কিছু করার সম্ভাবনার প্রহরও যেন গুনতে শুরু করে দিয়েছেন মাসুদ। তাঁর দাবি, ‘মনে হয় না ভারত খুব কঠিন কোনো ধাঁধা হবে ছেলেদের জন্য। ’ কিন্তু কেন এমন মনে হচ্ছে বাংলাদেশ দলের সাবেক এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের? সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মাসুদ বললেন, ‘ক্রিকেটে বাংলাদেশও কিন্তু ভারত স্টাইলই অনুসরণ করে আসছে। ভারতীয়রা স্পিন উপযোগী উইকেট বানিয়েই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চায়। বাংলাদেশও প্রতিপক্ষের সর্বনাশ ডেকে আনতে চায় স্পিন ফাঁদ পেতেই। অর্থাৎ দুটি দলেরই কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এক রকম। এই দুটি দল যখন একে অন্যের মুখোমুখি হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ অবশ্যই ভারতের জন্য সহজ কিছু হবে না। ’

যদিও ভারতের মাটিতে খেলতে গিয়ে এমনকি সুবিধা করে উঠতে পারে না প্রবল পরাক্রমশালী অনেক দলও। অবশ্য এসব বলেও টলানো গেল না মাসুদকে। তিনি বরং নিজের যুক্তিকে আরো শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করালেন এই বলে, ‘কোন দলগুলো ভারতে গিয়ে সুবিধা করতে পারে না? সেই দলগুলোই, যারা ভারতীয় উপমহাদেশের নয়। নানা কারণেই তাদের সমস্যা হয়, যেটি হতো না পাকিস্তানের। অনেক দিন তো এ দুই দেশের খেলাই হয় না। আর মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারাদের আমলের শ্রীলঙ্কাও কিন্তু ভারতে গিয়ে ভারতকে বেশ ভুগিয়েছে। কাজেই আমি বলতে পারি যে বাংলাদেশের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই-ই হবে। ’ অবশ্য লড়াই জমিয়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি শর্তও জুড়ে দিচ্ছেন মাসুদ, ‘নিউজিল্যান্ডে যে ভুলগুলো করেছে, এর পুনরাবৃত্তি কিছুতেই করা যাবে না। ’ লম্বা নিউজিল্যান্ড সফরের অভিজ্ঞতাও ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া একমাত্র টেস্টে কাজে দেবে বলে বিশ্বাস তাঁর, ‘মাত্রই নিউজিল্যান্ডে বেশ কঠিন একটি সফর করে এলো মুশফিকরা। কঠিন পর্বটা পার করে আসায় ভারতে খেলাটা ওদের জন্য সহজ হবে বলেই মনে হয় আমার। যদি ওরা মনোযোগটা ধরে রাখতে পারে, তাহলে ভালো কিছুর আশাই করছি। ’ মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উপযোগী হবে বলে মনে হচ্ছে মাসুদের, ‘সফরটি মাত্র এক টেস্টের হওয়ায় ভালোই হয়েছে বলব। লম্বা সফরে ছেলেরা কখনো কখনো পুরো সময় মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু ভারতে একটিই টেস্ট হওয়ায় খেলোয়াড়রা পূর্ণ মনোযোগটা দিতে পারবে। ’ তাতে  মুশফিকের যুক্তিও আরো প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। আগে না গিয়ে এখন যাওয়ায়ই ভালো হচ্ছে!


মন্তব্য