kalerkantho


সিদ্দিকের সেরা দিন

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সিদ্দিকের সেরা দিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনের গত দুই আসরে এত ভালো রাউন্ড কাটাননি সিদ্দিকুর রহমান। কাল যেমনটা কাটিয়েছেন, খেলা শেষ করেছেন ৫ আন্ডার পারে। এই টুর্নামেন্টে সিদ্দিকের আগের দিনের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তাঁর গতকালের পারফরম্যান্স একেবারেই মেলানো যাবে না। আগের দিন পতন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন, কাল কেবল ওপরেই উঠলেন। লিডারবোর্ডে এখন তিনি সেরা পাঁচে।

শিরোপার লড়াইয়ে ঢুকে গেছেন বলাই যায়। তবে প্রথম দিনের ‘বিপর্যয়’ তাঁকে ভোগাবে আরো। এদিন ৪ আন্ডার পার খেলে শুভঙ্কর শর্মার চেয়ে ১ শটে এগিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন থাই গলফার জ্যাজ ইয়ানুয়াতানন। সিদ্দিকের সঙ্গে তাঁর (-১১) ব্যবধান ৬ শটের। অর্থাৎ দারুণ এক রাউন্ড কাটিয়েও দেশসেরা গলফার শিরোপার লড়াইয়ে এগোতে পেরেছেন সামান্যই। সমান তালে লড়তে হলেও আগামী দুটি দিনে এমন উজ্জ্বল পারফরম্যান্সই ধরে রাখতে হবে। ২০১৫ সালে প্রথম বসুন্ধরা ওপেনে সিদ্দিকের সেরা স্কোর ছিল ২ আন্ডার, ৩৮তম হয়েছিলেন ওই আসরে। পরেরবার ৩৫তম হওয়ার পথে সেরা রাউন্ড কাটান তৃতীয় দিনে, খেলেছিলেন ৩ আন্ডার। প্রত্যাশার ধারেকাছে ছিল না সে দুইবার তাঁর পারফরম্যান্স। এবার অন্তত আশা দেখাচ্ছেন তিনি। গতবার সাখাওয়াত হোসেন, জামাল হোসেন লড়াইয়ে ছিলেন সেরাদের সঙ্গে। এবার তাঁদের অবস্থান বেশ পেছনে। আগের দিন ১ আন্ডার পার খেলা জামাল হোসেন এদিন ভালোই খেলছিলেন। ফ্রন্ট নাইনের শেষ হোলে বোগি খেলার পর থেকেই তাঁর ছন্দপতন। ১৮তম হোলে বার্ডি খেলে শেষ পর্যন্ত পারে রাখতে পেরেছেন স্কোর। করুণ পরিণতি হয়েছে সোহেলের। গতবার ষষ্ঠ হওয়া গলফার এবার তৃতীয় রাউন্ডের আগেই ছিটকে গেলেন। প্রথম দিন ৫ ওভার পার খেলেই তাঁর যা সর্বনাশ হওয়ার হয়ে গিয়েছিল, কাল ১ আন্ডার খেলেও কাট বাঁচাতে পারেননি। ৩ ওভার পর্যন্ত যাঁরা স্কোর রাখতে পেরেছেন তাঁরাই শুধু কাট পেয়েছেন।

সেই তালিকায় সিদ্দিক ও জামালসহ বাংলাদেশের গলফার ১০ জন। সিদ্দিক আমেরিকান ডজ কেমারের সঙ্গে যুগ্মভাবে আছেন পঞ্চম স্থানে। বাংলাদেশিদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা দুলাল হোসেন বেশ পিছিয়ে, ১ আন্ডার পার খেলে তাঁর অবস্থান ২২তম। আগের দিন পারে দিন শেষ করেছিলেন, কালই খেলেছেন ১ আন্ডার। দুলালের পর সজীব আলী ও জামাল—দুজনই খেলেছেন পারের সমান। আগের দিন ২ ওভার খেলা সজীব কাল খেলেছেন ২ আন্ডার। দুই রাউন্ড মিলিয়ে ১ ওভার পার মোহাম্মদ জিয়া, বাদল হোসেন ও মোহাম্মদ নাজিমের। ২ ওভার পার খেলেছেন অ্যামেচার সম্রাট শিকদার। আরেকজন অ্যামেচার আকবর হোসেনও কাট পেয়েছেন, তিনি খেলেছেন ৩ ওভার। সর্বনিম্ন এই স্কোরে কাট বাঁচিয়েছেন রবিন মিয়াও।

তিন লাখ ডলারের এই আসরে মোট ৭২ জন কাট পেয়েছেন। শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে ইয়ানুয়াতানন ও শুভঙ্কর শর্মার সঙ্গে ভালোভাবেই আছেন আরো দুই থাই গলফার পানুফল পিতায়ারাত ও রাতানন ওয়ানাশ্রীচান। দুজনেই খেলেছেন ৮ আন্ডার। ৫ আন্ডার খেলা সিদ্দিক এই চারজনের সঙ্গে লড়াইয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। তবু প্রবল আত্মবিশ্বাসে শিরোপা থেকে চোখ সরাচ্ছেন না এশিয়ান ট্যুরের অন্যতম সফল এই গলফার, ‘আজ যেমন খেললাম, এটাই যদি আমি আগামী দুই দিন ধরে রাখতে পারি, তবে ভালো সম্ভাবনা আছে শিরোপা জেতার। ’

এদিন ব্যাক নাইন থেকে খেলা শুরু করে প্রথম ৪ হোল খেলেন পারের সমান, ১৪ নম্বর হোলে তাঁর প্রথম বার্ডি। ১৫ নম্বরে পার খেলে আবার ১৬ ও ১৭ নম্বরে টানা তাঁর আরো দুটি বার্ডি। ব্যাক নাইনে কোনো বোগিই খেলেননি তিনি। তিনি সেটা প্রথম খেললেন ফ্রন্ট নাইন শুরু করেই। আগের দিন এই পাশটাতেই তাঁর সর্বনাশ হয়ে গিয়েছিল ৪ নম্বর হোলে ওভার বাউন্ডারি মেরে। কাল সেই হোলেই বার্ডি করে সিদ্দিক তাঁর ঘুরে দাঁড়ানোটাই আরো স্পষ্ট করেছেন। পুরো রাউন্ডে তাঁর ১০ নম্বর হোলে ওই একটিই বোগি। ৪ এর আগে ৩ নম্বর হোলেও বার্ডি খেলেছিলেন, দিনের ষষ্ঠ বার্ডিটি খেলেন তিনি ৭ নম্বর হোলে। এমন পারফরম্যান্সে সিদ্দিক নিজেই মুগ্ধ, “সামনে কী হবে জানি না তবে আজকের দিনটা আমি উপভোগ করেছি। যে ছন্দে আমি খেলেছি, যেভাবে বল মেরেছি তাতে সত্যিই আমি খুশি। সব মিলিয়ে এটা একটা ‘গ্রেট ডে’ আমার জন্য। ”


মন্তব্য