kalerkantho


ভারতে যাচ্ছেনই না মুস্তাফিজ

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভারতে যাচ্ছেনই না মুস্তাফিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘রোড ম্যাপ’টা করা হয়েছিল নিউজিল্যান্ডেই। ওয়েলিংটন টেস্ট চলাকালে প্রধান নির্বাচক-হেড কোচ ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি চেয়ারম্যানের সভাতেই একরকম সিদ্ধান্ত হয়েছিল মুস্তাফিজুর রহমানকে শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য শতভাগ ফিট করে তোলার। তাই ভারতগামী বাংলাদেশ দলে কাটার মাস্টারের না থাকাটা বিস্ময় নয়, কিন্তু উদ্বেগের তো বটেই—আর কদিন মাঠের বাইরে থাকবেন মুস্তাফিজ?

সোনার ডিমপাড়া রাজহাঁসটার পেট চিড়ে ডিম বের করতে গিয়ে পরিণতি কী হয়েছিল, সেটা তো অল্পবিস্তর সবারই জানা। বাস্তব উদাহরণ হিসেবে হাতের কাছে মাশরাফি বিন মর্তুজাও আছেন। অতিরিক্ত চাপে শরীর ভেঙে পড়েছিল তাঁর বারবার। তাই মুস্তাফিজুর রহমানের আবির্ভাবের পরই তাঁর ব্যাপারে অতি সতর্ক ক্রিকেটের কর্তাব্যক্তিরা। তবে কখনো কখনো এই অতি সতর্কতা থেকেই জাগছে প্রশ্ন, দেশের হয়ে খেলার চেয়ে আইপিএলের জন্য আগাম সতর্ক হয়ে নিজেকে আড়ালে রেখে দিতে চাচ্ছেন না তো ‘কাটার মাস্টার’? কারণ তাঁর চোট তো এখন বোলিংয়ের মতোই ধন্দে ফেলে দিচ্ছে সবাইকে!

নিউজিল্যান্ড সফরে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ এবং দুটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে খেলেছেন মুস্তাফিজ। তার আগে চোট ও অস্ত্রোপচার পরবর্তী পুনর্বাসনে খেলা হয়নি আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেও। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম টেস্টে বিশ্রামে, দ্বিতীয় টেস্টের আগে যোগ হয়েছে কোমরের ব্যথা। তাতে টেস্ট সিরিজটা দর্শক হয়ে কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন মুস্তাফিজ। দেশে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ১১ উইকেট নেওয়া মুস্তাফিজ ভারত সফরের একমাত্র টেস্টে হয়ে উঠতে পারতেন তুরুপের তাস।

কিন্তু তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার প্রতীক্ষা আরো লম্বা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন জানালেন, ফিজিও ফিট ঘোষণা করলেও মুস্তাফিজকে মাঠে নামার আগে আরেকটু সময় দিতে চান তাঁরা, ‘ফিজিও বলেছে সে ফিট, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে লম্বা সময় ধরে বল করার সামর্থ্য তার এখনো আসেনি। ও অনেক দিন ধরে খেলার বাইরে, পরিকল্পনা আছে বিসিএলে সামনের কোনো রাউন্ডে তাকে খেলানোর। সে যদি বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে অনেক দিন না খেলে, তাহলে হুট করে টেস্ট ক্রিকেটে নামিয়ে পরীক্ষা করা যায় না। ওকে আমাদের আস্তে আস্তে সুস্থ করতে হবে। সামনে অনেকগুলো ম্যাচ আছে, আমার বিশ্বাস তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে। ’ দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনেই  মিনহাজুল বলছিলেন, মুস্তাফিজের ফিটনেস থাকলেও ম্যাচ স্কিলে ঘাটতি আছে। কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহেও তাই মনে করছেন, ‘আগে সে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করত। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে সে ১২৭-১২৮ কিলোমিটার গতিতে বল করেছে। পুরোপুরি ঠিক হতে সময় লাগবে, আশা করি শ্রীলঙ্কা সিরিজে তাকে পাওয়া যাবে। ’ তবে কোচের ধারণা, শারীরিক চোটের চেয়ে মনের ভয়ই বেশি কাজ করছে মুস্তাফিজের, ‘ও খুব স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না। ডাক্তারি পরীক্ষায় সব ছাড়পত্রই আমরা পেয়েছি। তবে মাঠে চাপের মধ্যে খেলা ও নিজের দক্ষতা কাজে লাগানো অন্য ব্যাপার। যেহেতু মেডিক্যালি আমরা কিছু পাইনি, তাই ক্রিকেটার নিজে কী বলে সেটাই শুনতে হয়েছে আমাদের। তবে যেকোনো খেলোয়াড়েরই বড় ইনজুরির পর একটু অনীহা থাকে। কেউ যদি পা ভেঙে ফেলে, তাহলে দেখা যাবে সুস্থ হয়ে হাঁটতে একটু বেশি সময় নেবে। ওকে আরো বেশি সময় দিতে হবে আমাদের। ’

হায়দরাবাদ সানরাইজার্সের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার যতগুলো ম্যাচে মুস্তাফিজকে একাদশে পেয়েছেন, বাংলাদেশের কোনো অধিনায়কেরই সেই সৌভাগ্য হয়নি! নিউজিল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশনেও দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি সব সময় এবং সেরা চেহারায়, ভারত সফরেও মুস্তাফিজ দর্শক। তাই আক্ষেপেই মুশফিক বললেন, ‘আমি টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তাকে দলে চাই। শুধু এই ফরম্যাটেই নয়, সব ফরম্যাটেই। তবে ফিট মুস্তাফিজকে নিয়মিত পাওয়াটা বেশি দরকার। ’ ফিজিওর ছাড়পত্রের পরও মুস্তাফিজের না খেলা প্রসঙ্গে মুশফিকের মন্তব্য, ‘চোট থেকে ফিরেই তো কেউ পাঁচ দিন খেলতে পারে না। খেলতে গিয়ে আবার যদি চোট পায় তাহলে সেটা হবে আরো খারাপ। মুস্তাফিজ কবে টানা অনেক ওভার বল করেছে আমার মনে নেই। মুস্তাফিজের মতো বোলারকে সব অধিনায়কই পেতে চাইবে, তবে আমার মনে হয় এখন ওকে বিশ্রাম দেওয়াটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। ’

কোচ, প্রধান নির্বাচক ও অধিনায়ক; সবার সহানুভূতি ও সমর্থনই পাচ্ছেন মুস্তাফিজ। ‘দেশের সম্পদ’ হিসেবে পাচ্ছেন বাড়তি যত্ন। তবে এই যত্নের নরম চাদরের আরামে ধার হারিয়ে ফেলছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু খুঁজতে হবে মুস্তাফিজকেই।


মন্তব্য