kalerkantho


প্রাপ্তির খাতায় অভিজ্ঞতা আর সাহস

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রাপ্তির খাতায় অভিজ্ঞতা আর সাহস

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ৯০ মিনিটের লড়াকু মেয়েরা জাপান গিয়েছিল ‘ফেস্টিভাল ফুটবলের’ স্বাদ নিতে। সাধারণত ফেস্টিভালের বহিরঙ্গে অমন লড়াইয়ের তেজ না থাকলেও এই বিলাসিতা দেখানোর সুযোগ নেই বাংলাদেশের মেয়েদের। পুরুষ ফুটবল উচ্ছন্নে গিয়ে এখন দেশের ফুটবল পতাকা উঠেছে তাদের হাতেই। এর সম্ভ্রম রক্ষার দায় নিয়ে লড়াকু মানসিকতাকে আলিঙ্গন করেই অনূর্ধ্ব-১৬ দল জাপান সফর করে ফিরেছে। প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয়েছে অভিজ্ঞতা আর সাহস।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দল ফিরছে পরশু রাতে। দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন কাল প্রাপ্তির সারাংশ বর্ণনা করেছেন এভাবে, ‘আমাদের মেয়েরা ভালো খেলেছে, হয়তো আরেকটু ভালো হতে পারত। তবে সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছে। এক দিনে তিনটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে, প্রতি ম্যাচেই সমানভাবে লড়েছে। স্বপ্না সর্বোচ্চ ৮ গোল করেছে। জাপানেও আমার বিশেষভাবে চোখে পড়েছে, তারা যত খেলছে তত বাড়ছে তাদের সাহস ও অভিজ্ঞতা। এই মেয়েরা এখন আর কাউকে ভয় পায় না। তাদের মনের জোর অনেক বেশি। ম্যাচ শুরুই করে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। ’ ভয় জয় করার ফুটবল খেলা শুরু করেছে তারা গত বছর ঘরের মাঠে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বছাই পর্ব থেকেই। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্বে পা রাখার পর এই দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় সিনিয়র জাতীয় দলের জার্সি গিয়ে শিলিগুড়ি মাতিয়েছে। সাফের ফাইনালে শেষমেশ শক্তিশালী ভারতের কাছে হার মানলেও তাদের পায়ে সুরভি ছড়িয়েছে ফুটবল। এরপর জাপানের এই সাকাই ফুটবল ফেস্টিভাল, সেখানে একটি প্র্যাকটিস ম্যাচসহ ৭ ম্যাচে চার জয় ও দুই হারের মধ্যে আছে একটি ড্র। প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৬ দল বাদে বাকি সবই জাপানের বিভিন্ন ফুটবল একাডেমি দল। বাংলাদেশ কোচের বিচারে চারটি জয়ও কম বড় নয়, ‘তুলনা করলে বাংলাদেশের মেয়েরা অনেক ভালো খেলেছে। আমরা ছিলাম সাকাই ফুটবল একাডেমিতে। সেখানে ফুটবল খেলার জন্য ১৫টি মাঠ আছে, সুইমিং পুল আছে। দারুণ হোস্টেল ব্যবস্থা। সকাল ৬টা থেকে সারাটা দিন চলে বিভিন্ন বয়সীদের ফুটবল ট্রেনিং। স্কুলের বাচ্চারা লেখাপড়া শেষ করে গাড়িতে চড়ে চলে আসে ফুটবল খেলতে। এমন চমত্কার ফুটবল ব্যবস্থার মধ্যে যারা বেড়ে ওঠে তাদের সঙ্গে তো আসলে আমাদের তুলনাই চলে না। ’

অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী সরকার অবশ্য বৈরী আবহাওয়ার প্রসঙ্গ টেনেছেন, ‘ওখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। অনেক ঠাণ্ডা ছিল, এর মধ্যেও আমরা সাধ্যমতো ভালো খেলার চেষ্টা করিছি। ’ দেশে ফেরার দিনেই কৃষ্ণা বছরের সেরা উদীয়মান নারী ফুটবলার হিসেবে জিতেছেন কুল-বিএসপিএ অ্যাওয়ার্ড। এ ফরোয়ার্ডের কাছে এই পুরস্কার ‘অনেক গর্বের’। এই পারফরম্যান্সটা ধরে রাখতে চান সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলের মূল পর্ব পর্যন্ত, ‘আমাদের সব পরিশ্রম আর কষ্ট তো থাইল্যান্ডের ওই টুর্নামেন্টের জন্য। সেখানে আমরা ভালো করতে চাই। ’ জাপানের ফেস্টিভালে তারা পেয়েছিল ওই টুর্নামেন্টের প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ডকেও। ‘থাইল্যান্ডের সঙ্গে আমরা আগাগোড়া ভালো পারফর্ম করেছি। এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না আরো দু-দুবার গোলরক্ষককে পরাস্ত করেও বল পোস্টে রাখতে পারেনি’—আফসোসের সুর গোলাম রব্বানী ছোটনের গলায়। তবে সব আফসোস মিলিয়ে যায় মেয়েদের বাড়বাড়ন্ত অভিজ্ঞতা আর সাহস দেখে।

 


মন্তব্য