kalerkantho


তৃতীয় বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেন আজ শুরু

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



তৃতীয় বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেন আজ শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশে এশিয়ান ট্যুরের টুর্নামেন্ট একসময় ছিল স্বপ্ন। বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়ে এক এক করে আজ সেই টুর্নামেন্টের তৃতীয় আসর মাঠে গড়াচ্ছে। সেই একই উত্তেজনা, আয়োজন, জাঁকজমক এবারও। স্থানীয় গলফাররা শিরোপার স্বপ্ন চোখে অনুশীলনে মগ্ন, বিদেশিরাও সিরিয়াস। কাল শেষবেলার অনুশীলনের ফাঁকে প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন মার্দান মাম্মাত তো কথাই বলতে চাইলেন না সময় নষ্ট হবে বলে।

এবারও তিনি ফেভারিট। মাম্মাতের নিজের ফেভারিট কে জানা হলো না। কিন্তু অন্য আর যাঁকেই জিজ্ঞেস করা হয়, সবার মোটামুটি একই উত্তর, ‘এশিয়ান ট্যুরের এই পর্যায়ে যাঁরাই খেলেন, সবারই সামর্থ্য আছে একটা টুর্নামেন্ট জিতে নেওয়ার। ’ সিদ্দিকুর রহমান যেমন, প্রথম আসরে হলেন ৩৮তম, পরের আসরে এগোলেন মাত্র দুই ধাপ। কিন্তু কে না জানে, এশিয়ান ট্যুরে এখনো যেকোনো টুর্নামেন্ট জিতে নেওয়ার সামর্থ্য রাখেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন হতে পারেন এই বসুন্ধরা ওপেনেও। গত দুই আসরে বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো যাঁর অবস্থান, সেই সাখাওয়াত হোসেনকেও তো পিছিয়ে রাখা যায় না। কিংবা সজীব আলী, বাংলাদেশ প্রফেশনাল গলফারস অ্যাসোসিয়েশেনের র‌্যাংকিংয়ে এই তরুণই তো এখন শীর্ষে। জোরালো সম্ভাবনা জামাল হোসেন, দুলাল হোসেনদের নিয়েও। কুর্মিটোলায় অনেকবার শিরোপার উৎসবে মেতেছেন এ দুই গলফার। দেশের মাটিতে গলফের সবচেয়ে বড় আসরে কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত ছুঁতে তাঁরাও যে মুখিয়ে।

বিদেশিদের মধ্যে কাউকে হিসাবের বাইরে রাখা তো আরো কঠিন। গতবারই যেমন থাইল্যান্ডের থিটিফুন চুয়াইপ্রাকং তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম এশিয়ান ট্যুর শিরোপাই জিতে নিয়েছেন এই বসুন্ধরা ওপেনে। তার আগে কে চিনত তাঁকে! এবারও যে তেমন চমক কেউ দেখাবেন না, কে জানে! থিটিফুনের স্বদেশি পানুফল পিতায়ারাতই যেমন অনুসরণ করতে চাইছেন তাঁকে, ‘একজন থাই গলফার হিসেবে থিটিফুনের সাফল্যে আমরাও অনুপ্রাণিত। আমি টানা তৃতীয় আসর খেলছি এখানে, এবারও লক্ষ্য একটাই—শিরোপা জেতা। ’ ভারতীয় গলফার রশিদ খান ২০১৫-এর পর আবার এসেছেন ঢাকায়। প্রথম আসরে তাঁর খ্যাতি অনুযায়ী তিনি খেলতে পারেননি। দুটি এশিয়ান ট্যুর শিরোপা জেতা গলফার সিদ্দিকের মতোই তৃতীয় শিরোপার খোঁজে। ফেভারিটের প্রসঙ্গে তাঁর হিসাবটা এ রকম, ‘এই কোর্সে শিরোপা জিততে হলে ১৫, ১৬ আন্ডার পার খেলতে হবে। নিজেকে তো এই পারফরম্যান্সটা আগে দেখাতে হবে, তারপর না অন্যদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশ্ন। আমার ধারণা, এই টুর্নামেন্টে যে সবচেয়ে ধারাবাহিক থাকতে পারবে চারটা দিন, সে-ই শিরোপা জিতবে। ’ ভারতের তারকা গলফারদের মধ্যে ঢাকায় গগনজিৎ ভুলার, শামিম খানরাও খেলেছেন। তবে রশিদ, শুভংকর শর্মা, চিরাগ কুমার, খালিন জোশির সঙ্গে এবার যিনি এসেছেন, সেই জিভ মিলখা সিং এই অঞ্চলের পেশাদার গলফারদের কাছে কিংবদন্তিতুল্য। ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল এই গলফার এখন ৪৫ বছর বয়সে। বাংলাদেশে এশিয়ান ট্যুর টুর্নামেন্টে নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে তিনি।

বাংলাদেশের পেশাদার গলফারদের মধ্যে সিদ্দিক নিয়মিত খেলেন এশিয়ান ট্যুরে, জামাল হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেন বছরে গুটিকয়েক টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পান। কিন্তু বাকি প্রায় ৩০-৪০ জন স্থানীয় পেশাদার গলফারের কাছে কিন্তু এই বসুন্ধরা ওপেনেই এশিয়ান ট্যুরের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ, সুযোগ জিভ মিলখার মতো চারটি ইউরোপিয়ান ট্যুরজয়ী, মেজর আসরে খেলা গলফারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করারও। দেশের চেনা কোর্সে খেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় কেউ শিরোপা জিতে গেলে তাঁর জন্য এশিয়ান ট্যুরের দুয়ারটাও অবারিত হয়ে যায়। বাছাই ছাড়াই খেলতে পারবেন তাঁরা ট্যুরের পরবর্তী যেকোনো আসরে। আর এই বসুন্ধরা ওপেনে চ্যাম্পিয়নশিপ প্রাইজ মানিই যে ৫৪ হাজার ডলার, যা দেশের বাইরে গিয়ে আরো টুর্নামেন্ট খেলার অবলম্বনও হয়ে যাবে তাঁর। দুলাল, নাজিম, সজীব, জামালদের চোখে এই আসর তাই স্বপ্ন না ছড়িয়ে পারে না। সিদ্দিকুর তাই পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপকেই কৃতিত্ব দেন টানা তিন বছর এমন একটি আসর ধারাবাহিকভাবে আয়োজনের জন্য, ‘এশিয়ান ট্যুর একসময় ছিল স্বপ্ন, বসুন্ধরা গ্রুপ এগিয়ে আসাতেই সম্ভব হয়েছে এই আয়োজন। আমরা হয়তো এখনো শিরোপা জিততে পারিনি, কিন্তু এর ইতিবাচক প্রভাব অনেক। ’ এশিয়ান ট্যুর সূচিতেও বছরের শুরুতে এই আসর এখন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে। ইংল্যান্ড, আমেরিকা, সুইডেন, কোরিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ ২২টি দেশের গলফার অংশ নিচ্ছেন এবারের আসরেও। গলফবিশ্বে সিদ্দিকের বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচিত করেছে এই বসুন্ধরা ওপেনই।


মন্তব্য