kalerkantho


থেমে যেতে আসেননি তাসকিন

১১ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



থেমে যেতে আসেননি তাসকিন

‘আড়াই বছর হলো জাতীয় দলে খেলছি। তবে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি শেষ হলেই আমাকে বাড়ি চলে যেতে হয়েছে। কিন্তু এবার থাকার সৌভাগ্য হয়েছে’—স্বপ্নপূরণের সামনে দাঁড়িয়ে ২২ বছরের তরুণের চাপা উচ্ছ্বাস ঠিকরে বেরোচ্ছে প্রেস কনফারেন্স রুমে। যেদিকে মুখ করে তিনি বসে, সেখান থেকে দৃষ্টি প্রসারিত করলেই বেসিন রিজার্ভের গাঢ় সবুজ উইকেট। টেস্ট অভিষেকের জন্য এর চেয়ে ভালো মঞ্চ আর কি পেতেন তাসকিন আহমেদ?

সফরের শুরু থেকেই টেস্ট ক্যাপের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হয়েছে তাঁকে। টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে সবাই যখন সাদা বলে নেটে, তখন তাসকিনের হাতে ছিল লাল বল। গতি আর বাউন্স তাঁর অস্ত্র, ইদানীং বল সুইং করানোও রপ্ত করছেন তিনি। মাত্রই ১০টা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন, শেষটা আবার সেই ২০১৩ সালে। তাতে দুটো ভয় আছে—কন্ডিশন দেখে লোভাতুর হয়ে অতি আগ্রাসী বোলিংয়ে মত্ত হওয়া এবং পাল্টা আক্রমণে খেই হারিয়ে ফেলা। দুটো ভয় এক উত্তরে উড়িয়ে দিয়েছেন তাসকিন, ‘এ উইকেট দেখে আমাদের সব পেসারই খুশি, সবুজ আর শক্ত। তাতে বলের মুভমেন্ট বেশি থাকবে। তবে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা এমন কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত। তাই নির্দিষ্ট একটা জায়গায় বল করে যেতে হবে। উইকেট দেখে বেশি আগ্রাসী হয়ে এদিক-সেদিক বোলিং করলে কোনো লাভ হবে না। ’

২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অভিষেকের আগে থেকেই আলোচনায় সদ্য কৈশরোত্তীর্ণ তাসকিন। কিন্তু ভবিষ্যতের তারকার শরীরটা যে বড্ড নাজুক, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরুর আগে লাগাতার ইনজুরি সারাতে গিয়ে জানা গেল যথেষ্ট বলশালী নন তিনি। তাই টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে অভিষেক হলেও তাসকিনের টেস্ট ভবিষ্যৎ সংশয়াচ্ছন্ন ছিল দীর্ঘদিন। সে সংশয় তিনি কাটিয়েছেন নিবিড় পরিচর্যায়। এখন দল থেকেও বিপুল উৎসাহ আর অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন তাসকিন। কিন্তু অনুপ্রেরণায় তো ভবিষ্যতের আশ্বাস মেলে না, ওটা আদায় করে নিতে হয়। এবার তাসকিনের কণ্ঠে প্রত্যয়ের আগ্রাসন, ‘আমার ফিটনেসের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো বলেই টেস্ট দলে ডাক পেয়েছি। সুযোগ পেলে এক ম্যাচ খেলেই থেমে যেতে চাই না। নিয়মিত যেন সুযোগ পাই, সে চেষ্টা করব। ’


মন্তব্য