kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যা হয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট তামিম

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



যা হয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট তামিম

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে না পারার ব্যর্থতা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের চিরকালীন। যেখানে সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসেবে উচ্চারিত হাবিবুল বাশারের নাম।

টেস্টে তাঁর পঞ্চাশ পেরোনো ইনিংস ২৭টি, এর মধ্যে তিনটিকে মাত্র নিতে পারেন তিন অঙ্ক পর্যন্ত। আর সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ২২৩ বার পঞ্চাশ পার করলেও এর মধ্যে ৪২টিকে রূপান্তর করতে পারেন সেঞ্চুরিতে। অঙ্কের হিসাবে যা ১৯ শতাংশেরও কম।

ব্যর্থতার এই চোরাবালিতে ডুবে যাওয়ার দশা হয়েছিল তামিম ইকবালেরও। ক্যারিয়ারের প্রথম ২০টি পঞ্চাশ পেরোনো ইনিংসের মধ্যে সেঞ্চুরি মোটে চারটি। কিন্তু চট্টগ্রাম টেস্ট শুরুর আগের সর্বশেষ পাঁচটি অমন ইনিংসের মধ্যে তিনবারই করেন শতরান। যার মধ্যে আছে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনায় ডাবল সেঞ্চুরিও। তবু ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সাত সেঞ্চুরির বিপরীতে ১৯ হাফ সেঞ্চুরির পরিসংখ্যান দেখলে দীর্ঘশ্বাস না পড়ে পারে না এই ওপেনার।

কিন্তু কী আশ্চর্য, ওই ১৯তম ফিফটি নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই তামিমের!

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে কাল তাঁর ওই পঞ্চাশ পেরোনো ইনিংস। ২২১ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে ১৭৯ বল খেলে করেন ৭৮ রান। সেঞ্চুরির মাত্র ২২ রান দূরত্বে আউট হওয়ায় খানিকটা দীর্ঘশ্বাস থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু কঠিন উইকেটে কষ্ট করে ইনিংসটি খেলার কারণেই সেঞ্চুরির আগে আউট হয়েও কষ্ট নেই তামিমের, ‘আমি খুব কষ্ট করে রান করেছি। প্রতিটি রান খুব কষ্ট করে করতে হয়েছে। এরপর যদি ভুল করে আউট হতাম, তাহলে কষ্ট লাগত। যেভাবে খেলেছি, আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল। সামনে চেষ্টা করব, এরকম পরিস্থিতি এলে যত বড় রান করা সম্ভব হয়। আজকের ইনিংস বড় হলে অবশ্যই খুশি হতাম। কিন্তু যা হয়েছে, তাতেও আমি সন্তুষ্ট। ’ আর নিজে ভুল শট খেলে আউট না হওয়ায় অন্য রকম তৃপ্তিও রয়েছে তাঁর। দিনশেষের সংবাদ সম্মেলনে সে কথাই বলে যান তামিম, ‘আমি ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করিনি। বেসিকে থাকার চেষ্টা করেছি। চেয়েছি যতটুকু সম্ভব সোজা ব্যাটে খেলতে। আর যে বলে আউট হয়েছি সেটাও কোনো ভুল শট ছিল না। ওই শটেই এক রান কিংবা দুই রান করে রান পেয়েছি। তবে যদি আমি আরেকটু বড় রান করতাম তাহলে দলের জন্য ভালো হতো। ’ উইকেটের কথা আলাদা করে বলেন তিনি, ‘উইকেটে খুব অসম বাউন্স নয়। তবে স্পিন বেশি হচ্ছে। যখন কেউ সেট হয়ে কিছু করতে যায়, তখন খুব ভালো একটা বল হয়ে যায়। এ কারণে বলছি, এই উইকেটে কেউ যদি নিজেকে সেট মনে করেন, তাহলে ভুল হবে। ’

নিজের ইনিংস নিয়ে অতৃপ্তি নেই। দলের অবস্থান নিয়েও তামিমের নেই কোনো হাহাকার। কেবল ওই শেষ বিকেলে মুশফিকুর রহিমের উইকেট হারানোর আক্ষেপ পোড়াচ্ছে এই ওপেনারকে, ‘এখনো আমি মনে করি, ম্যাচে আমরা হয়তো একটু ভালো অবস্থানে আছি। হাতে পাঁচটি উইকেট আছে। যদি কাল ভালো একটি সেশন পার করতে পারি, তাহলে ওদের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাব। দিনটি ভালোই কেটেছে। শুধু মুশফিক আউট না হলে বলতে পারতাম, অনেক ভালো একটি দিন কাটিয়েছি। ’ সবগুলো বিরতির ঠিক আগে আগে উইকেট হারানোর কোনো জুতসই ব্যাখ্যা নেই তাঁর কাছে। এখানেও বরং শেষ সময়ে অধিনায়কের আউটের প্রসঙ্গ টেনে আনেন তামিম, ‘বিরতির আগে উইকেট পড়ার ব্যাখ্যা কিভাবে দেব, বুঝতে পারছি না। এটা যদি হয়ে যায়, তাহলে কিছু করার নেই। তবে যদি না হতো, তাহলে আমরা আরো ভালো অবস্থানে থাকতাম। বিশেষ করে মুশফিক যদি আউট না হতো। ’ ইংল্যান্ডের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা গ্যারেথ ব্যাটিও ওই উইকেটের গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দেন, ‘বাংলাদেশের পর পর দুটি ভালো জুটি হয়। শেষ সময়ে স্টোকসের ওই উইকেট (মুশফিক) আমাদের ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে প্রবলভাবে। আশা করছি, এটি ওদের আরেকটু ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে। ’

হাতে পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ এখন পিছিয়ে ৭২ রানে। ইংল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দেন এই ওপেনার, ‘১০০ রানের লিড হলে বলব ভালো। আমাদের এখনো কয়েকজন ভালো ব্যাটসম্যান আছে। মিরাজ (মেহেদী হাসান) আছে, সাব্বির আছে, সাকিব এখনো আছে। তারা জুটি বেঁধে যদি ভালো করে, এরপর যতটুকু লিড নেওয়া যায় আর কি! ১০০ রানের ফিগার দেওয়া ভুল হবে। যতটুকু পারি, তত ভালো। তবে আগে ওদের রানটা পেরোতে হবে। ’ চট্টগ্রাম টেস্টের ভাগ্য হয়তো লেখা হবে তাতেই।

আর এই উইকেটে সময় যত গড়াবে, ততই হয়তো বোঝা যাবে তামিমের উপলব্ধির কারণ। কেন সেঞ্চুরি মিস করেও তা নিয়ে কোনো হা-হুতাশ নেই তাঁর!


মন্তব্য