kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শেষ লেগ জমবে সেরা পাঁচের লড়াইয়ে

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



শেষ লেগ জমবে সেরা পাঁচের লড়াইয়ে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কী অদ্ভুত ব্যাপার। জাতীয় ফুটবল দল এমন অধঃপতিত যে নিচে নামার আর জায়গা নেই।

আর এই সময়েই কিনা প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের ধুন্ধুমার লড়াই। জেবি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের প্রথম লেগ শেষ হওয়ার পরও কোনো একটি কিংবা দুটি দলকে ফেভারিট বলার জো নেই। বলতে হলে অন্তত পাঁচ দলের কথা একসঙ্গে বলতে হবে, চট্টগ্রাম আবাহনী, ঢাকা আবাহনী, রহমতগঞ্জ, শেখ জামাল ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র। এদের মধ্যেই কোনো এক দল চ্যাম্পিয়ন হবে, এভাবে বলাটাই নিরাপদ।

প্রিমিয়ার লিগের আগের সাত আসরে কখনো এরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। তাই ১১ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু এগিয়ে থেকেও স্বস্তিতে নেই, ‘১ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা কচুপাতার পানির মতো। পারফরম্যান্স একটু এদিক-ওদিক হলেই পিছিয়ে পড়তে হবে। এমন একটা লিগ হচ্ছে, কে কখন কার কাছে পয়েন্ট হারাবে বলা মুশকিল। যেকোনো সময় ছোট দলগুলোর কাছে পয়েন্ট হারাতে পারে বড় দলগুলো। ’ আগের দুই ছোট দল রহমতগঞ্জ ও মুক্তিযোদ্ধা এবার জায়ান্টের মতো খেলে ঢুকে গেছে সেরা পাঁচে। লেগের শেষ ম্যাচে ঢাকা আবাহনীর সঙ্গে জিতলে রহমতগঞ্জ সবাইকে ছাড়িয়ে শীর্ষেই থাকত। ওই প্রথম হারের বিস্বাদে ২২ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে ঢাকা আবাহনীর (২৩) পেছনে তৃতীয় স্থানে। রহমতগঞ্জের এই বিস্ফোরক পারফরম্যান্সের নেপথ্য কারিগর কোচ কামাল বাবুর ভীষণ আস্থা তাঁর খেলোয়াড়দের ওপর, ‘আমাদের দলে কোনো অদল-বদল হবে না। যারা আছে তারাই থাকবে, মধ্যবর্তী দলবদলে নতুন কাউকে নেওয়া হবে না। আমার বিশ্বাস, এদেরকে দিয়েই আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে পারব। তবে শেষে কী অপেক্ষা করছে আমি জানি না। ’ খেলোয়াড়দের ওপর কোচের কী অগাধ বিশ্বাস! কঙ্গোর স্ট্রাইকার সিও জুনাপিওর পাঁচ গোল আর দেশি মেহবুব হাসান নয়ন করেছেন চার গোল। কিন্তু দল পুরোপুরি এঁদের ওপর নির্ভরশীল নয়। দুটি করে গোল করেছেন স্থানীয় দিদার ও আলাউদ্দিন এবং দাউদা সিসে। অর্থাৎ রহমতগঞ্জের এই কৃতিত্ব পুরোপুরি দলীয়। ঢাকা আবাহনীর কাছে হারার আগ পর্যন্ত তাদের আত্মবিশ্বাস এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল, যেকোনো দলকেই তারা হারাতে পারে!

তবে তাদের কোচ কামাল বাবু এই পাঁচ দলের মধ্যে ঢাকা আবাহনীকেই একটু এগিয়ে রাখছেন, ‘আমার চোখে ঢাকা আবাহনীকেই ব্যালান্সড মনে হয়। তারা ভালো খেলছে, তবে শেষ ২০ মিনিটে তারা দাঁড়িয়ে যায়। তবে দ্বিতীয় লেগ শুরু হবে দুই আবাহনীর ম্যাচ দিয়ে। ওই ম্যাচের ওপর শিরোপার লড়াই নির্ভর করছে অনেকখানি। এক দল পিছিয়ে পড়লে আমাদের জন্য সুযোগ তৈরি হবে। ’ আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু দ্বিতীয় ও শেষে লেগের চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে মধ্যবর্তী দলবদলে নতুন ফুটবলার নিয়ে দুর্বলতা সারানোর সুযোগ আছে দলগুলোর। ঢাকা আবাহনী ইতিমধ্যে থাই লিগ খেলা ওয়েলসের একজন স্ট্রাইকার নিয়ে এসেছে। দলের সঙ্গে তিনি প্র্যাকটিস করছেন, তবে তাঁকে রাখতে গেলে কামারা সারাকে ছাড়তে হবে। তাদের এ পর্যন্ত নিয়ে আসার কারিগর সানডে চিজোবা ও অ্যান্ড্রু লি। ১০ গোল করে নাইজেরিয়ান সানডে এখন এগিয়ে, পাঁচ গোল লির। এর পরও নতুন স্ট্রাইকার খুঁজছেন, ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু মনে করছেন, ‘দেশিরা ভালো খেলছে তবে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা দরকার। যেসব ম্যাচ আমরা ড্র করেছি, তার মধ্যে বেশির ভাগই এগিয়ে থেকে গোল খেয়েছি। এক গোল করার পর আরো গোল করে প্রতিপক্ষের ম্যাচে ফেরার সুযোগ না দেওয়ার কাজটা করতে পারছি না। ’

তাদের মতো চট্টগ্রাম আবাহনীও নিয়ে এসেছে ভুটানি স্ট্রাইকার চ্যানচো ও এক স্লোভাক অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। আগের আছে হাইতিয়ান লিওনেল প্রেক্স, মরক্কোর তারিক আল জানাবি ও ডিফেন্ডার এলিসন। সূক্ষ্ম ব্যাপার-স্যাপার বিচার করেই নাকি পাঁচজনের মধ্যে চার বিদেশিকে রাখবে তারা। গতবারের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের আসলে নতুন কয়েকজন দেশি খেলোয়াড় যোগ হবে। কারণ ফরোয়ার্ড লাইনে বিদেশি ত্রয়ী ল্যান্ডিং-এমেকা-ওয়েডসনের কোনো বিকল্প নেই। দলে সে রকম কিছু না থাকার পরও এই ত্রয়ীতেই তারা ১৯ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। চমকে দিচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চমে থাকা আব্দুল কাইয়ুম সেন্টুর এই দল শেষ লেগে আরো চম উপহার দেবে।

ছোট দলের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে বড় দলের শক্তির লড়াইয়ে শেষমেশ কার গলায় উঠবে লিগ শিরোপার মালা, কে জানে।


মন্তব্য