kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মুখোমুখি প্রতিদিন

কোরিয়ার বিপক্ষে জেতা উচিত ছিল

বিশ্বকাপ কাবাডির আগের দুই আসরে তৃতীয় হলেও এবার সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। তিন জয় ও দুই হারে শেষ হয়েছে অভিযান। কাবাডি দলের এই পারফরম্যান্স নিয়ে কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে কথা বলেছেন জাতীয় দলের অন্যতম সফল কোচ আব্দুল জলিল

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কোরিয়ার বিপক্ষে জেতা উচিত ছিল

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : কাবাডি বিশ্বকাপে এবার সেমিফাইনালেও উঠতে পারেনি বাংলাদেশ, আপনি কতটা হতাশ?

আব্দুল জলিল : সেই অর্থে আমি হতাশ নই। কারণ জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে ওঠানামা যায়।

সব সময় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পাওয়া যায় না। ২০০৪ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর এ পর্যন্ত হওয়া দুটি আসরেই আমরা ব্রোঞ্জ জিতেছিলাম, সর্বশেষটি ২০০৭ সালে। সেই সময়ের দল তো আর এখন নেই।

প্রশ্ন : এই দলের পারফরম্যান্স কেমন মনে হয়েছে?

জলিল : ওরা যাওয়ার আগেই বলেছিলাম আমাদের মূল লড়াইটা হবে কোরিয়ার বিপক্ষে। ওদের হারাতে পারলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত। ভারতকে নিয়ে ভাবিনি, এই আসরে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটাতে আমরা আমাদের অবস্থানটা বুঝতে পেরেছি। ভারত অনেক বড় ব্যবধানে আমাদের হারিয়েছে। কোরিয়া আবার ভারতকেও হারিয়েছে। ওরা কাবাডিতে উঠে আসছে। তবে ওদের বিপক্ষে আমাদের সুবিধাটা ছিল যে ওরা আমাদের খেলাটা সেভাবে জানে না। প্রো-কাবাডিতে খেলে ওরা যতটা ভারতকে চিনেছে ততটা আমাদের বুঝতে পারেনি। সেই সুবিধা নিয়ে আমরা এগিয়েও গিয়েছিলাম। কিন্তু ম্যাচে ওরা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। যেখানে আমরা মনের জোরটা ধরে রাখতে পারিনি।

প্রশ্ন : কোরিয়ার বিপক্ষে এমন দারুণভাবে এগিয়ে গিয়েও পিছিয়ে পড়ার কারণটা আসলে কী?

জলিল : এটা নিয়েই এখন আসলে আলোচনাটা হতে পারে। তবে আমার মনে হয়েছে, যে খেলাটা ওরা খেলছিল সেটা শুধু ধরে রাখার ব্যাপারই ছিল ওদের। আরেকটু মনঃসংযোগ ধরে রেখে আরেকটু ভালো খেলতে পারলেই ম্যাচটা আমরা জিততে পারতাম।

প্রশ্ন : সব মিলিয়ে এবারের আসরটা কেমন হচ্ছে বলে মনে হয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা?

জলিল : এই আসরে কেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দলগুলো আসলে বিশ্বকাপের মতো আসরে খেলার উপযুক্ত না। বিশ্বকাপে তো খেলে বাছাই করা সেরা দলগুলো। সেই হিসাবে আসরের ১২টি দলের মধ্যে ৬টি দলের বিশ্বকাপের মানে ধরা যায়। বাকি দলগুলো এসেছে আয়োজক ভারতের ইচ্ছায়। তারা হয়তো মনে করেছে ওই দলগুলো অংশ নিলে কাবাডির জৌলুস আরো বাড়বে, তবে তাতে আসরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে বাড়েনি, এটা পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায়।

প্রশ্ন : এখান থেকে বাংলাদেশের কিভাবে এগোনো উচিত?

জলিল : কাবাডিতে আগের অনেক সাফল্যই আমরা আর ধরে রাখতে পারিনি। তার কারণ কোরিয়ার মতো দলগুলো এগিয়ে আসছে, যেখানে আমরা উন্নতির ধারাটা ধরে রাখতে পারছি না। সবাই মিলেই জাতীয় দল নিয়ে তাই একটা পরিকল্পনা সাজানো উচিত।

 


মন্তব্য