kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিশ্চিত হয়েই রিভিউ নিয়েছেন মঈন

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নিশ্চিত হয়েই রিভিউ নিয়েছেন মঈন

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : কথা বলেন তিনি মেপে মেপে। আস্তে আস্তে।

কিন্তু যখন তাঁর ব্যাটিংয়ের সাফল্যের রহস্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, মঈন আলীর উত্তরে হেসে ওঠে পুরো সংবাদ সম্মেলন কক্ষ—‘রিভিউ’!

ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের অমনটা বলার কারণ স্পষ্ট। এক দিনে ৬৮ রানের এক ইনিংসে পাঁচ-পাঁচটি রিভিউতে যে রক্ষা পায় তাঁর ‘জীবন’। আম্পায়ার আউট ঘোষণা করার পর তিনবার রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান মঈন। আর আম্পায়ার আউটের আঙুল তোলেননি, অমন দুইবার আবার বাংলাদেশ নেয় রিভিউ। তাতেও যথারীতি নটআউট! তবে এটিকে ঠিক ভাগ্য বলে মেনে নিতে নারাজ মঈন। রিভিউয়ের সুবিধাটা কেবল নেওয়ার কথাই দিনশেষের সংবাদ সম্মেলনে বলে যান তিনি, ‘রুট দুইবারই আমাকে বলেছিল যে, আউট হইনি। আর ওই সুইপের সময় তো বুঝেছি যে, বল ব্যাটে লেগেছে। তা ছাড়া রিভিউ আছে নেওয়ার জন্যই, এটিকে তাই আমি ভাগ্য বলব না। আমি মিডল স্টাম্প, অফ স্টাম্পে দাঁড়িয়ে ব্যাটিং করার চেষ্টা করেছি। যে কারণে এলবিডাব্লিউ হওয়ার আশঙ্কা কম ছিল। তবে এই রিভিউগুলো বেশ মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। ’ ৩০ টেস্ট খেলে তিনটি টেস্ট সেঞ্চুরিও রয়েছে তাঁর। কিন্তু চট্টগ্রামের টার্নিং উইকেটের ইনিংসটিকে সবচেয়ে কঠিন হিসেবে রায় দিয়ে দেন মঈন, ‘আজকের এই ৬০ রান আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন। ’

ইংল্যান্ডের কাজ কঠিন হয়ে যায় বাংলাদেশের স্পিনারদের কারণে। পাশাপাশি অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ফিল্ড প্লেসিংয়ের কৃতিত্বও দেন তিনি, ‘ওরা খুব ভালো বোলিং করেছে। ঠিক জায়গায় নিখুঁত বোলিং করেছে। আর আমি তো কেবল টিকে থাকতে চাইনি, রানও করতে চেয়েছি। কিন্তু কাজটি ছিল খুব কঠিন। কেননা বাংলাদেশের ফিল্ড প্লেসিংও ছিল খুব ভালো। ’ বল যে টেস্টের প্রথম দিন থেকেই এতটা ঘুরবে, তা তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত, ‘ধারণা করছিলাম যে, ওরা হয়তো স্পিনার দিয়ে বোলিং শুরু করতে পারে। কিন্তু উইকেটে যেমন টার্ন করেছে, এতটা আমি আশা করিনি। নতুন বল থেকেই বল ঘোরা শুরু করে। যার বিপক্ষে খেলা কখনোই সহজ না। বিশেষত নতুন বলের বিপরীতে খেলা বেশি কঠিন, কেননা তখন তো আবার সবগুলো বল ঘোরে না। পরবর্তীতে টার্নে ধারাবাহিকতা ছিল বলে খেলাটা খানিক সহজ হয়েছে। ’

প্রথম দিন শেষে ইংল্যান্ডের রান ৭ উইকেটে ২৫৮। ২১ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার বিবেচনায় যে তা মন্দ না, সেটি মনে করিয়ে দেন মঈন, ‘আমরা এখন ভালো অবস্থানেই আছি। একসময় তো ভেবেছি ২৫০ রানই বেশ ভালো স্কোর হবে। এরপর আমার ও জনির (বেয়ারস্টো) মধ্যে ভালো জুটি হয়ে গেল। কাল আশা করি, স্কোরকে ৩০০-র কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারব। ’ ব্যাটসম্যানদের সেই দায়িত্বের পর বাকিটা নিজ দলের স্পিনারদের ওপর ছাড়ছেন তিনি, ‘ওদের স্পিনাররা ভালো বোলিং করেছে। আমাদের জন্য এটি হবে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ব্যাটি আছে, আমি আছি, রুট আছে। আমাদের স্পিনারদের ওপর চাপ থাকবে এমন উইকেটে পারফর্ম করার। ’ আদিল রশিদের নাম উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন মঈন। কে জানে, বাংলাদেশের জন্য ওই লেগ স্পিনারকে সামলানোর চ্যালেঞ্জটাই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বেশি!


মন্তব্য