kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খেলাতেই মনোযোগ বাংলাদেশের

প্রায় বছরখানেক পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এলেন মুশফিকুর রহিম। টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে। সেখানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের একাদশ, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ—এমন নানা বিষয় নিয়েই কথা বলেন তিনি। এরই নির্বাচিত অংশ—

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



খেলাতেই মনোযোগ বাংলাদেশের

অনেক দিন বিরতির পর আবার টেস্ট খেলার চ্যালেঞ্জ নিয়ে...

মুশফিক : এগুলো নিয়ে চিন্তা করলে আমাদের একটু ব্যাকফুটে রাখবে। কারণ এখন সময় খেলার।

আমরা সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। যদি বলেন যে ১৫ মাস আমরা টেস্ট খেলি না, তাহলে আমাদের দোষও কিন্তু খুব বেশি নয়। এই ফরম্যাটে আমাদের খেলা ছিল না বলে খেলিনি। এখন টেস্ট খেলা অবশ্যই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে গত দেড় বছর আমরা যেভাবে টানা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছি, সেটাও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ আগে আমরা এতটা টানা খেলিনি। সেটা আমরা খুব ভালোভাবে পেরেছি। টেস্টে ভালো করাও তাই অসম্ভব কিছু না।

একাদশ নিয়ে...

মুশফিক : স্কোয়াডে পেসার আছেই তো দুজন। আমরা চেষ্টা করব সেরা সমন্বয় গড়তে। আবহাওয়ার ব্যাপার আছে। শেষ মুহূর্তে আবহাওয়ার কারণে উইকেট বদলে যেতে পারে। এসব আমাদের মাথায় আছে। আমাদের স্কোয়াডে যথেষ্ট স্পিনারও আছে। আমাদের সেরা কম্বিনেশন যেটা হবে, সে অভিষিক্ত ক্রিকেটারই হোক বা অন্য কেউ— সবার ওপর আস্থা আছে। সবাই যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ দল অবশ্যই ভালো করবে।

অনেক দিন পর টেস্ট খেলার প্রভাব প্রসঙ্গে...

মুশফিক : এটা অবশ্যই একটা ব্যাপার হবে। তবে আমরা ভালো খেলতে না পারলে, এটাই একমাত্র কারণ নয়। ইংল্যান্ডের মতো দল যারা অনেক টেস্ট খেলে, ওদের বিপক্ষ মাঠে নামার আগে প্রস্তুতিটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ আগামী পাঁচ দিন আমরা কেমন খেলি। এখানেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। কত দিন খেলিনি, সেসব ভাবছি না। ছেলেরা মাঠে নামতে মুখিয়ে আছে। ওয়ানডেতেও আমরা একসময় ভালো খেলছিলাম না, কিন্তু গত দুই বছরে অনেক ভালো করেছি। আশা করি, আগামীকাল থেকে টেস্টেও ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলার শুরু হবে।

ওয়ানডে সিরিজের বিতর্ক নিয়ে...

মুশফিক : ওয়ানডেতে কিছু সমস্যা হয়েছিল। এরপর আবার সব বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। আশা করি মাঠে দুদল সেটাই বজায় রাখবে। কেউ রূঢ় আচরণ করবে না। ওসবের পুনরাবৃত্তি হবে না।

নিজের কিপিং করা প্রসঙ্গে...

মুশফিক : আমার কিপিং না করার একটাই কারণ ছিল, আঙুলে ব্যথা। সেই ব্যথা নিয়ে ১০-১২ বা ২০-৫০ ওভার কিপিং করা যায়। কিন্তু ৯০-১০০ ওভার করা কঠিন ছিল। এখন আমি পুরোপুরি ফিট। টিম ম্যানেজমেন্ট যদি চায় তাহলে অবশ্যই কিপিং করব। আমি কিপিং করে ২০০ রান করেছি, শূন্য রানও করেছি। এটা আসলে আমার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। টিম ম্যানেজমেন্ট যদি মনে করে কিপিং করে দলকে সাহায্য করতে পারব, তাহলে সেটাই করব। আর যদি মনে করে আমি দলে না থাকলে ভালো করবে, তাহলে তো আরো ভালো। সমস্যা নেই।

কোচ যে বলেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় হবে বোনাস...

মুশফিক : ফলাফল দিনশেষে একটা হবেই। ইংল্যান্ডের সঙ্গে জিতে গেলেই আমরা বিশ্বসেরা টেস্ট দল হয়ে গেলাম, তা না। আমাদের মূল মনোযোগ থাকবে ধারাবাহিক খেলা। গত দুই বছরে আমরা ওয়ানডেতে অনেক ধারাবাহিক ছিলাম। তার মানে এই না যে সব ম্যাচই জিতেছি। কিছু হেরেছিও। তবে গ্রাফটা উন্নতির দিকে ছিল। এটাই চাই যে, টেস্টেও যেন এরকম একটা দল হতে পারি। যেন প্রতিটি টেস্টে আগের চেয়ে ভালো খেলতে পারবে। এভাবে পাঁচ দিনে ভালো অবস্থানে থাকতে পারলে হয়তো জয়ের কাছাকাছিও যেতে পারি। সেদিক থেকে হয়তো কোচ বলেছেন যে, জয়টা বোনাস হবে। আর যদি নাও হয়, অন্তত আমরা যেন পাঁচটা দিন লড়াই করে ভালোভাবে বোঝাতে পারি যে আগের চেয়ে আমরা লড়াই করার মানসিকতা আছে। সেটা প্রমাণ করার জন্যই আমার মনে হয় কোচ এই কথাটি বলেছেন।


মন্তব্য