kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রিয়ালের ৫ গোলে রোনালদোর শূন্য

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রিয়ালের ৫ গোলে রোনালদোর শূন্য

পোল্যান্ডের ফুটবল লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লেজিয়া ওয়ারশ, চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদেরকেই ফুটবল শেখাল রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পোলিশ চ্যাম্পিয়নরা রিয়ালের কাছে হেরেছে ৫-১ গোলে।

শুধু মাদ্রিদিস্তাদের আক্ষেপ হতে পারে রোনালদোর গোল না পাওয়াটা। কিছুদিন আগেই মার্কা ও গ্যাজেত্তো দেল্লো স্পোর্তের যৌথ পাঠক জরিপে চ্যাম্পিয়নস লিগের গত মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু লেজিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর প্রাপ্তি যে শুধুই একখানা হলুদ কার্ড!

রিয়ালের বড় জয়ের রাতে রায়াদ মাহরেজের একমাত্র গোলে লিস্টার সিটি হারিয়েছে কোপেনহেগেনকে, লিওঁর মাঠ থেকে ১-০ গোলে জিতে এসেছে জুভেন্টাস, স্পোর্তিং লিসবনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, ক্লাব ব্রুজেকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পোর্তো আর ডায়নামো জাগরেবকে ১-০ গোলে হারিয়েছে সেভিয়া। গোলশূন্য ড্র লেভারকুসেন-টটেনহামের, ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে সিএসকেএ মস্কো-মোনাকোর ম্যাচ।

কখনো কখনো শুধু জয়েই সন্তুষ্ট হয় না সমালোচকরা। লেজিয়ার বিপক্ষে রিয়ালের ৫-১ গোলের জয়ের পরও স্প্যানিশ অনেক কাগজে রীতিমতো সমালোচনা বেরিয়েছে জিদানের কৌশলের! মার্কাতে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিয়ে এক পৃষ্ঠা করে মোট ১৩ পৃষ্ঠাজুড়ে এই ম্যাচ নিয়ে ব্যবচ্ছেদ; যার মূল সুর হচ্ছে অনেক ছাড় দিয়েও জিতে গেছে রিয়াল। লুকাস ভাসকুয়েজ আর আলভারো মোরাতা কেন শুরুর একাদশে নেই—এ নিয়েও ছিল প্রশ্ন। ‘এএস’ অবশ্য প্রশংসা করেছে জিদানের, ভাসকুয়েজ ও মোরাতার সাফল্যের সূত্র ধরে লেখা হয়েছে ‘রিয়ালের একাডেমি যুগ যুগ ধরে চলুক!’ কারণ এই দুজনেই তো রিয়ালের যুব ফুটবল দল থেকে উঠে এসেছেন, আরেক গোলদাতা অ্যাসেনসিওও তো বেড়ে উঠেছেন রিয়ালের তত্ত্বাবধানেই।

যদিও প্রথম গোলটা আসে গ্যারেথ বেলের বাঁ পা থেকে, ম্যাচের ১৬ মিনিটেই। এর মিনিট তিনেক পর মার্সেলোর শট থমাস জডলোউইচের পায়ে লেগে ঢুকে যায় লেজিয়ার জালে। ২২ মিনিটে অবশ্য পেনাল্টি থেকে একটা গোল শোধ করে লেজিয়ার মিরোস্লাভ রাদোভিচ। এরপর দ্রুতই ব্যবধান বাড়িয়ে ফেলে রিয়াল, ৩৭ মিনিটে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন অ্যাসেনসিও, রিয়ালের জার্সিতে এটা তাঁর দ্বিতীয় ও চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম গোল। ৬৩ মিনিটে ফাইল করে হলুদ কার্ড দেখেন রোনালদো, এ সময় হামেস রোদ্রিগেসকে তুলে ভাসকুয়েজ আর বেলকে তুলে মোরাতাকে নামান জিদান। কাজে আসে দুটি পরিবর্তনই! ৬৮ মিনিটে মোরাতার ক্রস থেকে গোল ভাসকুয়েজের আর ৮৪ মিনিটে রোনালদোর অ্যাসিস্টে গোল মোরাতার।

লেজিয়ার সঙ্গে জিতেও ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষস্থানটা পায়নি রিয়াল, কারণ তিন ম্যাচে সমান ৭ পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে ডর্টমুন্ড। এই লেজিয়াকেই ৬-০ গোলে হারিয়েছিল ডর্টমুন্ড। মঙ্গলবার রাতে স্পোর্তিং লিসবনের মাঠ থেকেও তারা জিতে এসেছে ২-১ গোলে। ম্যাচের নবম মিনিটেই পিয়েরে এমেরিক অবেমিয়াংয়ের গোলে এগিয়ে যায় ডর্টমুন্ড, ৪৩ মিনিটে গোল করেন উইগেল। ৬৭ মিনিটে লিসবনের একমাত্র গোল ব্রুনো সিজারের।

প্রিমিয়ার লিগে চেলসির কাছে ৩-০ গোলে নাস্তানাবুদ হওয়ার ধকল কাটিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১-০ গোলে কোপেনহেগেনকে হারিয়েছে লিস্টার সিটি, ম্যাচের ৪০তম মিনিটে একমাত্র গোলটি রায়াদ মাহরেজের।

অলিম্পিক লিওঁর মাঠে খেলতে গিয়ে জিতে ফিরেছে জুভেন্টাস। বলা ভালো, সুপারম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তাদের জিতিয়েছেন জিয়ানলুইগি বুফন। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে বোনুচ্চি বক্সের ভেতর দিয়াখাবাইকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। লাকাজাতের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন বুফন। ডানে ঝাঁপানোর ইঙ্গিত দিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে গোল বাঁচান এই ইতালিয়ান গোলরক্ষক। ২০০৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে লুই ফিগোর পেনাল্টি ঠেকানোর পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগে পেনাল্টি বাঁচালেন বুফোন। তিনিই ঠেকিয়ে রাখেন গোলমুখ, এই সুযোগে দুরূহ কোণ থেকে করা হুয়ান কার্দাদোর দারুণ গোল জিতিয়ে দেয় জুভেন্টাসকে। উয়েফা, স্কাই স্পোর্টস


মন্তব্য