kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মুখোমুখি প্রতিদিন

বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ ইংলিশদের ভোগাবে

সাড়ে ১৪ মাসের বিরতি শেষে আজ আবার টেস্ট ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। একেই সামনে টেস্টের প্রবল প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, তার ওপর দীর্ঘদিনের অনভ্যাস। দুয়ে মিলে যখন স্বাগতিকদের ভালো করা নিয়ে সংশয়, তখন কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদকে বেশ আশাবাদীই মনে হলো

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ ইংলিশদের ভোগাবে

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ভালো করার কোনো বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা দেখছেন কি?

খালেদ মাসুদ : অবশ্যই দেখছি। আমি আশাবাদীও।

মনে হচ্ছে এই টেস্ট সিরিজটি খুব উপভোগ্য হবে এবং বাংলাদেশের ভালো খেলার সম্ভাবনাও বেশি।

প্রশ্ন : আপনার আশাবাদের ভিত্তি কী?

মাসুদ : যদিও আমাদের ব্যাকগ্রাউন্ড বলে যে আমরা টেস্ট ভালো খেলি না। কিন্তু দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে টানা ছয়টি সিরিজে জেতার বিশ্বাসটা এখানে খুব কাজে লাগবে বলে আমার বিশ্বাস। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটিও আমাদেরই জেতার কথা ছিল। প্রথম ম্যাচটিতে জয়ের এত কাছে গিয়ে না হারলে তো তা-ই হতো। এর সঙ্গে উইকেটের কারণেও দুই দলের পার্থক্য কমে যাবে অনেক।

প্রশ্ন : এর ব্যাখ্যাও শুনতে চাচ্ছি।

মাসুদ : স্পিন ট্র্যাকে খেলব আমরা। যে কারণে ইংল্যান্ড যতটা উঁচুমানের, ততটা ওদের মনে হবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের গ্রাফটাও ঊর্ধ্বমুখী হবে। নিউজিল্যান্ডে খেলতে গিয়ে যেমন যেকোনো বড় দলেরই সমস্যা হয়, তেমনি হোম অ্যাডভান্টেজ আমাদেরও প্লাস পয়েন্ট হবে।

প্রশ্ন : মানে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের ওপর বাংলাদেশের স্পিনারদের চড়ে বসার আগাম ছবি আপনি কল্পনা করে নিচ্ছেন?

মাসুদ : হ্যাঁ, সাকিব অনেক বড় ট্রাম্পকার্ড হবে। ওর সঙ্গে তাইজুল আর মিরাজ (মেহেদী হাসান) মিলে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ ইংলিশদের বেশ ভোগাবে।

প্রশ্ন : কিন্তু সাড়ে ১৪ মাসের বিরতির ধাক্কা সামলে ওঠা কি খুব সহজ?

মাসুদ : মানছি যে এই ধাক্কা সামলে ওঠা কঠিন। কিন্তু ট্রু উইকেটে খেলা হলেই ধাক্কাটা বেশি লাগত। মানে বোঝাতে চাচ্ছি, খেলাটা যদি অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ডে হতো, তাহলে টিম কম্বিনেশনটা এমন দাঁড়াত যে একাদশে আপনার পেসারই নিতে হতো তিন বা চারজন। তাতে দলের ব্যাটিং গভীরতা কমে যেত। এখানে উইকেট স্পিন উপযোগী হওয়ায় ম্যাচটি হবে লো স্কোরিং। এতে করে আমাদের ব্যাটসম্যানদের মাথাপিছু রানও করতে হবে কম। বাইরের বিরুদ্ধ উইকেটে খেলতে গেলে হয়তো ব্যাটসম্যানরা বাড়তি চাপটা সামলাতে পারত না এত দিনের বিরতির পর। অথচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্পিন উপযোগী উইকেটে খেলা বলে ব্যাটিং গভীরতাও দেখুন বাড়ছে। মিরাজ ব্যাটসম্যানও, আবার সাকিব আপনাকে বড় ইনিংস খেলে দিতে সক্ষম। বাংলাদেশের গাণিতিক সম্ভাবনাটা আমি এভাবেই বেশি দেখছি। আবার ইংল্যান্ড হয়তো আমাদের মতো এক গাদা স্পিনার নিয়েও নামবে না। হয়তো একাদশে দুই বা তিনজন পেসারও থাকবে। ওদের মঈন আলীর মতো স্পিনারও আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে ভূরিভূরি আছে। তবে ওদের লেগ স্পিনারকে অবশ্যই দেখেশুনে সাবধানে খেলতে হবে।


মন্তব্য