kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সানডের দুর্দান্ত গোল

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সানডের দুর্দান্ত গোল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সানডে চিজোবার জোড়া গোলে ‘ফাইনাল’ জিতেছে ঢাকা আবাহনী। রহমতগঞ্জকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম হারের বিস্বাদ উপহার দিয়ে তারা অপরাজিত থেকেই শেষ করেছে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের প্রথম লেগ।

সুবাদে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা আবাহনী দ্বিতীয় স্থানে, ২২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রহমতগঞ্জ। দ্বিতীয় ম্যাচে মামুনুল ইসলামের গোলে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনী উঠে গেছে শীর্ষে। ব্রাদার্স ১১ পয়েন্ট নিয়েই শেষ করেছে প্রথম লেগ।

ঢাকা আবাহনী আর রহমতগঞ্জের ম্যাচটি ছিল ‘ফাইনালের’ মতো। শিরোপার দৌড়ে থাকা দুটি দলই আগে হারেনি, যারা জিতবে তারাই এগিয়ে থাকবে। আবাহনী ‘ব্যালান্সড’ দল হলেও রহমতগঞ্জ ফুটবলের মহাবিস্ফোরণ হয়েছে এবার। শক্তিধরকে তারা থোড়াই তোয়াক্কা করছে। তাই খুব সতর্ক হয়েই নামে আবাহনী। ডিফেন্সে কোনো ফাঁক রাখা যাবে না। ডিফেন্ডার সামাদ-তপু-মামুন-ওয়ালি এবং গোলরক্ষক শহীদুল আলম মিলে গোল না খাওয়ার শপথ রক্ষা করেছেন। আর গোল করার ব্রত ঠিক রেখেছেন সানডে চিজোবা। দু-দুটি দুর্দান্ত গোল করে এই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড আবার প্রমাণ করেছেন তিনি বিগ ম্যাচেরই ফুটবলার। তাঁর জোড়া গোলে আবাহনী পয়েন্ট তালিকায় এখন দ্বিতীয় স্থানে।

২ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ঢাকা আবাহনী ম্যাচ শুরু করে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। কামাল বাবুর রহমতগঞ্জের ভয়কে জয় করে তারা গোল করতে উদ্যত। বিশেষ করে সানডে-লি জুটিই গোলের সন্ধানে নেমেছে। দুই ফরোয়ার্ডের সঙ্গতে সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। ১৯ মিনিটে ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্ড্রু লির ক্রসটি সানডের পায়ে পড়ার আগেই ক্লিয়ার করেন এলিটা বেঞ্জামিন। পরপরই লির আরেকটি থ্রুয়ে গোলমুখ খুলে গেলেও বল জড়িয়ে যায় সানডের পায়ে। ৩২ মিনিটে এই নাইজেরিয়ানের হেড ফিস্ট করেন রহমতগঞ্জ গোলরক্ষক সামিউল ইসলাম। মিনিট ছয়েক বাদে লির ফ্রিকিকে হেমন্ত ভিনসেন্টের বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লিক এই গোলরক্ষকই আবার ত্রাতা। চমৎকার খেলেছেন রহমতগঞ্জের এই গোলরক্ষক। নইলে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমেই পিছিয়ে পড়ে রহমতগঞ্জ। কাউন্টার অ্যাটাকে সানডে বল আয়ত্তে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে শট নেওয়ার মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে আবিশ্বাস্য সেভ করেছেন সামিউল।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে এই গোলরক্ষক আর পারেননি সেই প্রতিরোধ ধরে রাখতে। রহমতগঞ্জের ডিফেন্স লাইন এত ওপরে উঠে গিয়েছিল, কাউন্টার অ্যাটাকে সানডে অনায়াসে অতিক্রম করেন অসাইডের ফাঁদ। জুয়েলের বাড়ানো বল ধরে তিনি ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে সামিউলকে পরাস্ত করে বল পাঠিয়ে দিয়েছেন রহমতগঞ্জের জালে। বিস্ময়কর হলো লিড নেওয়ার পর আবাহনী ভয়ে আক্রমণ বাদ দিয়ে পেছাতে থাকে ডিফেন্সে। গোলের ঠিক পরের মিনিটেই ম্যাচে ফেরার রাস্তা প্রায় তৈরি করে ফেলেছিল রহমতগঞ্জের কঙ্গোর ফরোয়ার্ড সিও জুনাপিও। তাঁর স্কয়ার পাসে নয়ন পা ছোঁয়াতে পারলেই হতো। চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে আবাহনী ডিফেন্সে। ডিফেন্ডারদের পাশাপাশি তৎপর হয়ে ওঠেন গোলরক্ষক শহীদুল আলমও। তাঁদের সতর্ক প্রহরায় কোনো বিপদ হয়নি। তবে কাউন্টার অ্যাটাকে লিড বড় করার সুযোগ সব সময় তাদের আছে। রহমতগঞ্জের এমন অল-আউট অ্যাটাকে বলের নিয়ন্ত্রণ হারালেই উল্টো বিপদ হবেই। ৬১ মিনিটে যেমন সেরকম এক আক্রমণে জুয়েল রানার শট ঠেকিয়েছেন রহমতগঞ্জ গোলরক্ষক। তারপর ইনজুরি টাইমে পুরো রহমতগঞ্জ যখন আবাহনীর গোলমুখী, গোলরক্ষকও ডি-বক্স ছেড়ে অনেকটা বাইরে তখনই অবিশ্বাস্য এক গোল করেছেন সানডে চিজোবা। সামাদ ইউসিফের ক্লিয়ার করা বলটি নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার হাফ-লাইনে ধরে দু-কদম এগিয়ে উড়িয়ে মেরে বল রেখেছেন নিখুঁত নিশানায়! এত দূর থেকে বল পোস্টে রাখা কিন্তু চাট্টিখানি ব্যাপার নয়, গোলরক্ষক পিছিয়ে গিয়েও তার নাগাল পায়নি। অবিশ্বাস্য এই গোলের সুবাদে ১১ ম্যাচে ১০ গোল নিয়ে সানডে এখন লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ইনজুরি টাইমে এই গোলের পর ঢাকা আবাহনীর জয়ে কোনো সংশয় নেই। এর পরও প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে লাল কার্ড দেখেছেন তাদের গোলরক্ষক শহীদুল আর রহমতগঞ্জের শওকত রাসেল।        

দিনের অন্য ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে শুরুতেই সুযোগ নষ্ট করেন ব্রাদার্সের এনকোচা কিংসলে। কিন্তু ২৩ মিনিটে ডানদিক থেকে মামুনুল ইসলামের ফ্রি-কিক অনায়াসে দূরের পোস্ট দিয়ে পৌঁছে যায় ব্রাদার্সের জালে। ইতস্তত করতে করতেই গোলরক্ষক পিয়ারুজ্জামান পিরু গোলটি হজম করেছেন। চট্টগ্রাম আবাহনী এগিয়ে গিয়েও ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রাখতে পারেনি। ব্রাদার্স একচেটিয়া খেলে কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি। এই জয়ে চট্টগ্রাম আবাহনী শীর্ষে থেকেই শেষ করেছে প্রথম লেগ।


মন্তব্য