kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ন্যু ক্যাম্পে গার্দিওলা যখন প্রতিপক্ষ

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ন্যু ক্যাম্পে গার্দিওলা যখন প্রতিপক্ষ

গেল বছরের ৬ মে, অচেনা একটা অনুভূতি নিশ্চিতভাবেই গ্রাস করেছিল পেপ গার্দিওলাকে। ১৩ বছর বয়সে লা মাসিয়াতে পা দিয়ে যে সম্পর্কের শুরু, ৪০ বছর বয়সে গিয়ে সেই সম্পর্কের সুতোটা সরকারিভাবে ছিঁড়ে যাওয়ার পর ওই দিনই তো প্রথম ন্যু ক্যাম্পে পা রাখা! সেটাও প্রতিপক্ষ কোচের ভূমিকায়, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে।

আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে বার্সেলোনার বিপক্ষে যদি হেরেও যায়, তাতেও হয়তো দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠাটা আটকাবে না ম্যানচেস্টার সিটির। ‘গার্দিওলা হটাও’ স্লোগানও উঠবে না ইত্তেহাদে। তবু একটা ব্যাপার কিন্তু আছে। আছে বলেই বার্সেলোনার সঙ্গে ম্যাচটায় গার্দিওলা হয়তো ভুল প্রমাণ করতে চাইবেন তাঁর সম্পর্কে গড়ে ওঠা অনেকগুলো ধারণার একটিকে। বার্সেলোনায় গার্দিওলার সাফল্যের কতটা তাঁর কৌশল আর কতটা খেলোয়াড়দের প্রতিভা, সেই বিতর্ক নয়; কথা উঠতে পারে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রতিপক্ষের মাঠে তাঁর সাফল্যখরা নিয়ে। সব শেষ ১১টা ম্যাচের মাত্র দুটোতে জয়। চেনা মাঠে সেই অপবাদ কি ঘোচাতে পারবেন পেপ?

বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখ যেন রবীন্দ্রনাথের কবিতার সেই তালগাছ! অর্থ, খেলোয়াড়ের মান মিলিয়ে যাকে বলে ‘সব মাথা ছাড়িয়ে’। কিন্তু গার্দিওলার আমলে, গেল মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে বাভারিয়ানরা যখনই প্রতিপক্ষের মাঠে গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফল হয়েছে অপ্রত্যাশিত। ইউক্রেনের ছোট ক্লাব শাখতার দোনেেস্কর সঙ্গে তাদের মাঠে গোলশূন্য ড্র, ম্যানসিটির মাঠে হার, পোর্তোর কাছে ৩-১ গোলের হার এবং বার্সেলোনার মাঠে ৩-০ গোলের হার। এ মৌসুমেও গার্দিওলার দল ম্যানসিটি নিজের মাঠে বরুশিয়াকে ৪-০ গোলে হারালেও সেল্টিকের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে ফিরেছে। এবারের প্রতিপক্ষ যখন বার্সেলোনা, যাদের সম্পর্কে গার্দিওলাই বলছেন, ‘গত ১০-১৫ বছর ধরে তারাই ফুটবল বিশ্ব শাসন করছে’, তাদের সঙ্গে কতটুকুই বা কী করবে ম্যানসিটি? এ মাসের শুরুতে টটেনহামের কাছে ২-০ গোলে হারের আগে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থেকেও কিন্তু গার্দিওলা বলেছিলেন, ‘আমার কাছে যদি জানতে চাওয়া হয় যে আমরা ইউরোপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তৈরি কি না, আমি বলব আমরা তৈরি নই। ’

শুধু ইংল্যান্ডেই নয়, বিশ্বের বুকে সেরা ক্লাব হয়ে ওঠার যে স্বপ্ন নিয়ে সিটি ফুটবল গ্রুপের বিপুল বিনিয়োগ এবং তারই পর্যায়ক্রমে গার্দিওলাকে কোচ করে নিয়ে আসাটা সেই পরিকল্পনারই অংশ। ইউরোপে সেরা হওয়ার মান থেকে কতটা পিছিয়ে ম্যানসিটি, তারই প্রমাণ সেল্টিকের বিপক্ষে ম্যাচটা। তাই অলীক কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না গার্দিওলা, ‘বার্সেলোনা ভালো দল। আক্রমণে অসাধারণ সব ফুটবলার, কাউন্টার অ্যাটক আর বিল্ড আপেও দুর্দান্ত, তারা সত্যিই দারুণ দল। ’ চোট কাটিয়ে লিওনেল মেসি ফিরেই গোল পেয়েছেন, এটা যেমন কাতালান সমর্থকদের জন্য ভালো খবর, তেমনি মেসির জাতীয় দল সতীর্থ ও ম্যানসিটি ফরোয়ার্ড সের্হিয়ো আগুয়েরোর জন্য উদ্বেগের, ‘অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি, মেসিকে আটকানো কঠিন হবে। আশা করি তার একটা খারাপ দিন যাবে আর আমাদের রক্ষণভাগ খুব ভালো করবে। তবু এটা কঠিন হবে, কারণ লিও বিশ্বসেরা। ’ তবে আগুয়েরোর ক্লাব সতীর্থ নলিতো ও কেভিন ডি ব্রুইন আবার বার্সাকে ভয়ডর পাচ্ছেন না!

সমস্যায় আছেন বার্সেলোনা কোচ লুই এনরিকেও, তবে সেটা একেবারেই অন্য রকম। ড্রেসিংরুমের গোপন সব তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে ন্যু ক্যাম্প থেকে। খেলোয়াড়-কোচদের কথাবার্তা এসব গণমাধ্যমে চলে যায়, এনরিকের চোখ কপালে উঠেছে মুন্দো দেপোর্তিভোর পাতায় বরুশিয়া মুনশেনগ্ল্যাডবাখের বিপক্ষে বার্সেলোনার সেটপিস ও প্রতিপক্ষকে নিয়ে কৌশলের সব পরিকল্পনা ছাপা হয়ে যেতে দেখে! ড্রেসিংরুমে চরের খোঁজ করছেন এনরিকে, একবার এ রকম পরিস্থিতিতে তো লুই ফন হাল রীতিমতো নিরাপত্তা সংস্থার লোক ডাকিয়ে আড়িপাতা যন্ত্র আছে কি না সেসব তল্লাশি চালিয়েছিলেন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ড্রেসিংরুমে। পুরনো কোচ গার্দিওলার এমন কোনো চর যে ন্যু ক্যাম্পে নেই, সেই কথা বা হলফ করে বলবে কে?

কাল দলের সবাইকে নিয়ে অনুশীলন সেরেছেন এনরিকে, যদিও গণমাধ্যমের জন্য তা মাত্র ১৫ মিনিটই উন্মুক্ত ছিল। এরপর জেরার্দ পিকেকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যান এনরিকে। সেখানেই এক প্রশ্নে পিকের উত্তর, ‘পেল্লেগ্রিনির ম্যানসিটির চেয়ে এই দল কঠিন হবে কি না? তারা অনেকটা আমাদের মতোই খেলে, ভিন্নভাবে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ দেয়। আমরা খেলাটা যেভাবে বুঝি, পেপ সেভাবেই বোঝে। ’ অর্থাৎ পিকে মেনেই নিয়েছেন, ধার বেড়েছে প্রতিপক্ষের, যেটা মুখে বলে দিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাও, ‘গার্দিওলা যেভাবে চান সেভাবেই খেলে তাঁর দল। অল্প সময়েই ম্যানসিটি তাঁর ধরনটা রপ্ত করেছে, বলের পজেশন ধরে রেখে খেলতে চাচ্ছে। ’  উয়েফা, স্কাই স্পোর্টস, মার্কা


মন্তব্য