kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাকিবের কাছেও সবই নতুন

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সাকিবের কাছেও সবই নতুন

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বেশ কিছুদিন বাইরে কোথাও কাটিয়ে ফিরলে নিজের চেনা ঘরও যেমন অচেনা লাগে, তেমনই অবস্থা যেন টেস্ট ক্রিকেট খেলার জন্য কাক প্রতীক্ষায় থাকা সাকিব আল হাসানেরও! আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এক দশক পেছনে ফেলে আসা এই অলরাউন্ডার দেখেছেন তাঁর সময়ে বাংলাদেশকে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বারবারই লম্বা বিরতি নিতে। এমনকি টেস্ট অভিষেকের জন্যও তাঁকে ব্যাকুল হয়ে থাকতে হয়েছে বছরখানেক।

২০০৬-এর আগস্টে তাঁর ওয়ানডে অভিষেক, টেস্টের ভুবনে পা রাখতে রাখতে পরের বছরের মে। চট্টগ্রামে ভারতের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক টেস্টটিও ছিল ১৩ মাসের বিরতির পর বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। এবারের বিরতি অবশ্য আরো বেশি, আগামীকাল থেকে সেই চট্টগ্রামেই শুরু হতে যাওয়া ইংল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ টেস্টে ফিরছে সাড়ে ১৪ মাস পর।

 

এমনিতেই টেস্টে এখনো মাথা তুলে দাঁড়ায়নি বাংলাদেশ, এর ওপর দীর্ঘ বিরতি অভ্যস্ত হয়ে উঠতে থাকা ক্রিকেটারদের সামর্থ্যেও আঁচড় কাটতে চায়! সব কিছু আবার নতুন করে শুরুর চিন্তায় মগ্ন থাকতে হয়। ব্যতিক্রম নন বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি আসরগুলোর নিয়মিত মুখ সাকিব আল হাসানও। মুখে এক চিলতে হাসি ছড়িয়ে বলছিলেন এত দিন পর টেস্ট প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারটি তাঁর কাছে যেমন লাগছে, ‘নতুন নতুন তো লাগেই। ’ তাও আবার সেটি এমন বিরতিতে বারবার থাকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পরও, ‘গত সাত বছরে এ রকম অভিজ্ঞতা হলো তিনবার। এত দিন না খেললে নতুন তো লাগেই। এতে একটা গ্যাপও তৈরি হয়। ’ যেটি তাঁর জন্য কাজ আরো কঠিন করে দেয় বলে তিনি নিজেও মনে করেন, ‘দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ আমি শেষ কবে খেলেছি, তা আমার নিজেরও মনে নেই। ব্যাপারটি আমার জন্য তাই কঠিনই। আগে টেস্ট না থাকলে অন্তত জাতীয় লিগ খেলা হতো। এখন তো তাতেও খেলা হয় না। ’

 

অবশ্য তিনিই শুধু নন, বিরতির পর মানিয়ে নেওয়ার সমস্যায় এই সেদিনও পড়েছে গোটা বাংলাদেশ দলই। সেই উদাহরণ টেনেই আসন্ন চ্যালেঞ্জটির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন টেস্টে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৪৭টি উইকেট নেওয়া এই বাঁহাতি স্পিনার, ‘ওয়ানডেই খেললাম আমরা এক বছর পর। এর সঙ্গে মানিয়ে নিতেও আমাদের প্রথম দুই-তিন ম্যাচ সময় লেগেছে। আর টেস্টের ব্যাপারটি তো একেবারেই অন্য রকম। অনেকক্ষণ ধরে বোলিং ও ব্যাটিং করার চাহিদা। আমার কাছে এটিকে অন্য রকম এক চ্যালেঞ্জই মনে হচ্ছে। ’ টেস্টে লম্বা বিরতি নিয়ে ফেরার সময় দলে তাঁর নিজের ভূমিকাও বদলে গেছে বলে মনে হচ্ছে সাকিবের। গত বছর জুলাই-আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে খেলেছিলেন আরেক পেসার মোহাম্মদ শহীদও। তবে এবার ইনজুরি ও নানা বাস্তবতায় দলে পেসারই মাত্র দুজন। যাঁদের মধ্যে বড়জোর একজনের খেলারই বেশি সম্ভাবনা।

এ অবস্থায় স্পিনারদের ওপর বাড়তি চাপের প্রসঙ্গ তুলতেই সাকিব নিজের বদলে যাওয়া ভূমিকার কথা বলে দিলেন, ‘না, চাপের কী আছে? এখন তো আমি আগের মতো অত বেশি বোলিংও করি না। যখন অনেক বেশি বোলিং করতে হতো, তখন এক রকমের ভূমিকা ছিল। এখন অত বেশি বোলিং করা লাগে না। আবার আমি যে মূল স্পিনার হিসেবে খেলছি, তাও নয়। আগে দল এক স্পিনার নিয়ে খেললে আমি একমাত্র স্পিনার হিসেবে খেলতাম। এখন আসলে ওই ভূমিকাটা নেই। আমার যে দায়িত্বটা আছে, চেষ্টা করছি ওটাই পালন করার। ’ যদিও টেস্টে বোলাররা ইংল্যান্ডের ২০ উইকেট তুলে নেওয়ার সামর্থ্য কতটা রাখেন, তা নিয়ে সন্দেহ আছে খোদ জাতীয় দলের হেড কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের মনেও। সেটি অমূলকও নয়। সাম্প্রতিক সময়ে জিম্বাবুয়ে ছাড়া আর কোনো দলকে দুইবার অল আউট করার স্মৃতি নেই বাংলাদেশের। তবু সাকিবকে আশাবাদী শোনাল। তাঁর সেই আশাবাদের ভিত্তি অনুকূল উইকেট, ‘উইকেটের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। আমরা দেশের মাটিতে খেললে সাধারণত ফ্ল্যাট উইকেট বানানোর চেষ্টা করা হয়। যাতে ব্যাটসম্যানরা রান করে। তবে যদি কখনো স্পিনার কিংবা পেসারদের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে বোলারদের ২০ উইকেট নেওয়ার যোগ্যতা আছে বলেই আমার মনে হয়। এখন যদি ফ্ল্যাট উইকেট বানিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেখানে বোলারদের পক্ষে উইকেট নেওয়া সম্ভব হবে না। ’

তাতে বোধ হয় লম্বা বিরতি নিয়ে বাংলাদেশের টেস্টে ফেরার চ্যালেঞ্জও আরো বেশি অনুভূত হবে!


মন্তব্য